ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালদ্বীপকে ৪০ কোটি ডলারের সহায়তা দিচ্ছে ভারত

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০২৪
  • / 121

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা মালদ্বীপের মুইজ্জু সরকারকে ৪০ কোটি ডলারের সহযোগিতা দিচ্ছে মোদির ভারত। মোহাম্মদ মুইজ্জুর ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে সোমবার কারেন্সি সোয়াপ বিষয়ক একটি চুক্তি সই হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্যা প্রিন্ট বলছে, এর আওতায় মালদ্বীপকে অর্থনৈতিক সহায়তার অংশ হিসেবে ৪০ কোটি ডলার ও ৩ হাজার কোটি রুপি দেবে ভারত।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সাথে বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা সব সময়ই মালদ্বীপের মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ বছর স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ট্রেজারি বিলে মালদ্বীপকে ১০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে। আজ মালদ্বীপের জন্য কারেন্সি সোয়াপের আওতায় ৪০ কোটি ডলার ও ৩ হাজার কোটি রুপি সহায়তার চুক্তি হয়েছে।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু চীনের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। তিনি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের উদ্বেগ বেড়েছিল। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও বৃদ্ধি পেয়েছে মালদ্বীপের। এর মধ্যেই ভারত–মালদ্বীপ সম্পর্কে ইউটার্ন দেখা গেল।

গত সেপ্টেম্বরে মালদ্বীপে ব্যাপক তারল্য সংকট দেখা দেয়। রেটিং এজেন্সি মোডি জানায়, দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে এসেছে ৪৩ কোটি ৭ লাখ ডলারে। এই অর্থে দ্বীপ রাষ্ট্রটি শুধু দেড় মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে।

গত রোববার ভারত সফরে আসেন মুইজ্জু। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘ভারত মালদ্বীপের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্য অনেক দেশের সঙ্গে মালদ্বীপের যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু আমাদের কোনো কাজে যাতে ভারতের নিরাপত্তার ক্ষতি না হয়, আমরা সে দিকটিও বরাবর মাথায় রেখে চলি।’

ক্ষমতায় আসার পরেই ভারতের সেনাবাহিনীকে মালদ্বীপ থেকে সরে যেতে বলেছিলেন মুইজ্জু। তাঁর কথা অনুযায়ী ভারতকে সেনা সরিয়েও নিতে হয় দ্বীপরাষ্ট্র থেকে। সে প্রসঙ্গে মুইজ্জু বলেন, ‘ভারত এবং মালদ্বীপ একে অপরের চাহিদা এবং অগ্রাধিকারগুলোর বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে চলে। এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। মালদ্বীপের মানুষ আমাকে যা করতে বলেছিলেন, আমি তাই করেছি।’

মালদ্বীপ থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কোনও প্রভাব ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে পড়েনি বলেও দাবি করেছেন মুইজ্জু।

বর্তমানে অর্থনৈতিক সঙ্কটের দিকে এগোচ্ছে মালদ্বীপ। মুইজ্জু ক্ষমতায় আসার পরেও পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেননি। তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন মালদ্বীপে ভারত-বিরোধী প্রচারের মাধ্যমেই। এরপর মোদির লাক্ষাদ্বীপ সফরের সময়ে তাঁর সরকারের তিন মন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। যার ফলে ভারতে মালদ্বীপ সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

মালদ্বীপে প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ঘুরতে যান। দেশটির অর্থনীতির অন্যতম ভিত পর্যটন। কিন্তু ভারত থেকে বয়কটের ডাক ওঠায় মালদ্বীপ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। পরে সে দেশের মন্ত্রীরা ক্ষমা চান। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ক্ষমতায় আসার পরেই চীন সফরে গিয়েছিলেন মুইজ্জু। কিন্তু ভারতে আসেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মালদ্বীপকে ৪০ কোটি ডলারের সহায়তা দিচ্ছে ভারত

আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০২৪

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা মালদ্বীপের মুইজ্জু সরকারকে ৪০ কোটি ডলারের সহযোগিতা দিচ্ছে মোদির ভারত। মোহাম্মদ মুইজ্জুর ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে সোমবার কারেন্সি সোয়াপ বিষয়ক একটি চুক্তি সই হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্যা প্রিন্ট বলছে, এর আওতায় মালদ্বীপকে অর্থনৈতিক সহায়তার অংশ হিসেবে ৪০ কোটি ডলার ও ৩ হাজার কোটি রুপি দেবে ভারত।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সাথে বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা সব সময়ই মালদ্বীপের মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ বছর স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ট্রেজারি বিলে মালদ্বীপকে ১০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে। আজ মালদ্বীপের জন্য কারেন্সি সোয়াপের আওতায় ৪০ কোটি ডলার ও ৩ হাজার কোটি রুপি সহায়তার চুক্তি হয়েছে।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু চীনের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। তিনি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের উদ্বেগ বেড়েছিল। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও বৃদ্ধি পেয়েছে মালদ্বীপের। এর মধ্যেই ভারত–মালদ্বীপ সম্পর্কে ইউটার্ন দেখা গেল।

গত সেপ্টেম্বরে মালদ্বীপে ব্যাপক তারল্য সংকট দেখা দেয়। রেটিং এজেন্সি মোডি জানায়, দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে এসেছে ৪৩ কোটি ৭ লাখ ডলারে। এই অর্থে দ্বীপ রাষ্ট্রটি শুধু দেড় মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে।

গত রোববার ভারত সফরে আসেন মুইজ্জু। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘ভারত মালদ্বীপের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্য অনেক দেশের সঙ্গে মালদ্বীপের যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু আমাদের কোনো কাজে যাতে ভারতের নিরাপত্তার ক্ষতি না হয়, আমরা সে দিকটিও বরাবর মাথায় রেখে চলি।’

ক্ষমতায় আসার পরেই ভারতের সেনাবাহিনীকে মালদ্বীপ থেকে সরে যেতে বলেছিলেন মুইজ্জু। তাঁর কথা অনুযায়ী ভারতকে সেনা সরিয়েও নিতে হয় দ্বীপরাষ্ট্র থেকে। সে প্রসঙ্গে মুইজ্জু বলেন, ‘ভারত এবং মালদ্বীপ একে অপরের চাহিদা এবং অগ্রাধিকারগুলোর বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে চলে। এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। মালদ্বীপের মানুষ আমাকে যা করতে বলেছিলেন, আমি তাই করেছি।’

মালদ্বীপ থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কোনও প্রভাব ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে পড়েনি বলেও দাবি করেছেন মুইজ্জু।

বর্তমানে অর্থনৈতিক সঙ্কটের দিকে এগোচ্ছে মালদ্বীপ। মুইজ্জু ক্ষমতায় আসার পরেও পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেননি। তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন মালদ্বীপে ভারত-বিরোধী প্রচারের মাধ্যমেই। এরপর মোদির লাক্ষাদ্বীপ সফরের সময়ে তাঁর সরকারের তিন মন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। যার ফলে ভারতে মালদ্বীপ সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

মালদ্বীপে প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ঘুরতে যান। দেশটির অর্থনীতির অন্যতম ভিত পর্যটন। কিন্তু ভারত থেকে বয়কটের ডাক ওঠায় মালদ্বীপ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। পরে সে দেশের মন্ত্রীরা ক্ষমা চান। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ক্ষমতায় আসার পরেই চীন সফরে গিয়েছিলেন মুইজ্জু। কিন্তু ভারতে আসেননি।