ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলকে গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা বিচারক পেলেন শান্তিতে নোবেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভেনথাম নাভি পিলাই এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের হয়ে দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ইসরায়েলকে গণহত্যাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করেন।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টার পর নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নোবেল কমিটি শান্তির পদকের জন্য নাভি পিলাইয়ের নাম ঘোষণা করে।

নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের শুরু হয়। পরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।

৮৫ বছর বয়সী পিল্লাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সাবেক বিচারক। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য পিল্লেকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম মনোনীত হয়েছিল। তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের প্রসার এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরব ও ধারাবাহিক অবদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার ছিলেন। এ সময়টায় তিনি প্রায়ই ইসরায়েলের সমালোচনা করতেন।

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একশরও বেশি সদস্য পিলাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে তারা দাবি করেন, তার অধীনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

এরপর ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করেন তিনি। যেটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলের নিপীড়নের তদন্ত করে।

ওই স্বাধীন কমিটি পরবর্তীতে তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ‘ফিলিস্তিনিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য’ গাজায় দখলদার ইসরায়েল স্পষ্টভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে।

পিলাই ওই সময় এই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বলেন, “গাজার ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে বা পরিকল্পনা করে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। যার সঙ্গে গণহত্যা কনভেনশনের সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে।”

এদিকে এই বিচারের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেনি নোবেল কমিটি। শান্তিতে নোবেলকে নোবেলের সব পুরস্কারের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলকে গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা বিচারক পেলেন শান্তিতে নোবেল

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভেনথাম নাভি পিলাই এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের হয়ে দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ইসরায়েলকে গণহত্যাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করেন।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টার পর নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নোবেল কমিটি শান্তির পদকের জন্য নাভি পিলাইয়ের নাম ঘোষণা করে।

নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের শুরু হয়। পরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।

৮৫ বছর বয়সী পিল্লাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সাবেক বিচারক। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য পিল্লেকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম মনোনীত হয়েছিল। তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের প্রসার এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরব ও ধারাবাহিক অবদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার ছিলেন। এ সময়টায় তিনি প্রায়ই ইসরায়েলের সমালোচনা করতেন।

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একশরও বেশি সদস্য পিলাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে তারা দাবি করেন, তার অধীনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

এরপর ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করেন তিনি। যেটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলের নিপীড়নের তদন্ত করে।

ওই স্বাধীন কমিটি পরবর্তীতে তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ‘ফিলিস্তিনিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য’ গাজায় দখলদার ইসরায়েল স্পষ্টভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে।

পিলাই ওই সময় এই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বলেন, “গাজার ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে বা পরিকল্পনা করে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। যার সঙ্গে গণহত্যা কনভেনশনের সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে।”

এদিকে এই বিচারের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেনি নোবেল কমিটি। শান্তিতে নোবেলকে নোবেলের সব পুরস্কারের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল