ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঁধের ৩৬ স্থানে ভাঙন, এবারও বন্যায় বিরাট ক্ষতি ফেনীর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০০:২৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / 71

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতচিহ্ন এখনো শুকায়নি, তার আগেই ফের ভয়াবহ দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফেনীর জনপদ। মুহুরি, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মোট ৩৬টি স্থানে নতুন করে ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে কয়েকটি উপজেলার শতাধিক গ্রামে পানি ঢুকে আবারও লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।

গত ৮ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। নদীর বাঁধে এই ব্যাপক ভাঙনের তথ্য গতকাল শনিবার (১২ জুলাই) নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

বাঁধ ভাঙনের তথ্য প্রকাশে চারদিন সময় নেওয়ায় এবং আগের বছরের মতো আবারও একই স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বানভাসি মানুষ। তারা অভিযোগ করছেন, গেল বছরের ভয়াবহ বন্যার পর প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে যেসব বাঁধ মেরামত করা হয়েছিল, সেগুলো এবারও এক বছরের মধ্যে ভেঙে পড়েছে। দুর্বল নির্মাণ ও নজরদারির অভাবই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম ও ফুলগাজীতে পানি ঢোকার পর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে ছাগলনাইয়া, সদর ও দাগনভূঞায়। প্লাবিত হয় অন্তত ১১২টি গ্রাম। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষ। অনেকেই এখনো ঘরে ফিরতে পারেননি।

জেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বন্যায়: মৎস্য খাতে ক্ষতি: প্রায় ৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, কৃষিতে ক্ষতি: ৫ হাজার ৫৬৪.৬১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট, প্রাণিসম্পদে ক্ষতি: প্রায় ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

ফুলগাজীর খামারি মো. হারুন বলেন, গতবছরও সব হারিয়েছি, এবারও মাছের ঘের ও মুরগির খামার ভেসে গেছে। প্রতিবছরই বাঁধ ভাঙে, আর আশ্বাস শুনি।

ছাগলনাইয়ার ফরিদা সুলতানা জানান, ঘরের সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। সঠিক পূর্বাভাস না থাকায় অনেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

পরশুরামের মাসুম বলেন, বাঁধ ভাঙনের চারদিনেও পাউবো’র কাউকে দেখা যায়নি। এবার টেকসই বাঁধের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলব।

ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, প্রথমে শুধু এলাকা ধরে তথ্য পেয়েছিলাম, পরে সরেজমিনে গিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৬টি ভাঙনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পানি নেমে গেলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাড়ে ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে।

এর আগে গেল বছরের জুলাই-আগস্টে ফেনীতে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল, যাতে প্রাণ হারান ২৯ জন এবং ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় শত কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, বছরের পর বছর একই জায়গায় বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার মানুষ একই দুর্ভোগে পড়ছেন। স্থানীয়দের দাবি—বরাদ্দ নয়, এবার চাই টেকসই বাঁধ ও প্রকৃত জবাবদিহি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাঁধের ৩৬ স্থানে ভাঙন, এবারও বন্যায় বিরাট ক্ষতি ফেনীর

আপডেট সময় : ০২:০০:২৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ জুলাই ২০২৫

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতচিহ্ন এখনো শুকায়নি, তার আগেই ফের ভয়াবহ দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফেনীর জনপদ। মুহুরি, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মোট ৩৬টি স্থানে নতুন করে ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে কয়েকটি উপজেলার শতাধিক গ্রামে পানি ঢুকে আবারও লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।

গত ৮ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। নদীর বাঁধে এই ব্যাপক ভাঙনের তথ্য গতকাল শনিবার (১২ জুলাই) নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

বাঁধ ভাঙনের তথ্য প্রকাশে চারদিন সময় নেওয়ায় এবং আগের বছরের মতো আবারও একই স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বানভাসি মানুষ। তারা অভিযোগ করছেন, গেল বছরের ভয়াবহ বন্যার পর প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে যেসব বাঁধ মেরামত করা হয়েছিল, সেগুলো এবারও এক বছরের মধ্যে ভেঙে পড়েছে। দুর্বল নির্মাণ ও নজরদারির অভাবই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম ও ফুলগাজীতে পানি ঢোকার পর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে ছাগলনাইয়া, সদর ও দাগনভূঞায়। প্লাবিত হয় অন্তত ১১২টি গ্রাম। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষ। অনেকেই এখনো ঘরে ফিরতে পারেননি।

জেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বন্যায়: মৎস্য খাতে ক্ষতি: প্রায় ৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, কৃষিতে ক্ষতি: ৫ হাজার ৫৬৪.৬১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট, প্রাণিসম্পদে ক্ষতি: প্রায় ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

ফুলগাজীর খামারি মো. হারুন বলেন, গতবছরও সব হারিয়েছি, এবারও মাছের ঘের ও মুরগির খামার ভেসে গেছে। প্রতিবছরই বাঁধ ভাঙে, আর আশ্বাস শুনি।

ছাগলনাইয়ার ফরিদা সুলতানা জানান, ঘরের সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। সঠিক পূর্বাভাস না থাকায় অনেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

পরশুরামের মাসুম বলেন, বাঁধ ভাঙনের চারদিনেও পাউবো’র কাউকে দেখা যায়নি। এবার টেকসই বাঁধের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলব।

ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, প্রথমে শুধু এলাকা ধরে তথ্য পেয়েছিলাম, পরে সরেজমিনে গিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৬টি ভাঙনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পানি নেমে গেলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাড়ে ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে।

এর আগে গেল বছরের জুলাই-আগস্টে ফেনীতে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল, যাতে প্রাণ হারান ২৯ জন এবং ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় শত কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, বছরের পর বছর একই জায়গায় বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার মানুষ একই দুর্ভোগে পড়ছেন। স্থানীয়দের দাবি—বরাদ্দ নয়, এবার চাই টেকসই বাঁধ ও প্রকৃত জবাবদিহি।