ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান বা ভারতপন্থী রাজনীতি এদেশে আর চলবে না: নাহিদ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / 91

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একসময় একটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানপন্থীদের পুনর্বাসন করেছিল। আজ আবার গণঅভ্যুত্থানের পর মুজিববাদীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—বাংলাদেশে মুজিববাদী ও চাঁদাবাজদের কোনো রাজনীতি চলবে না। আমরা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। পাকিস্তানপন্থী বা ভারতপন্থী রাজনীতি এদেশে আর চলতে দেওয়া হবে না।

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এনসিপি বরগুনায় আয়োজন করে ‘জুলাই পদযাত্রা’। বরগুনা টাউন হল থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত আয়োজিত এই পদযাত্রায় পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণহত্যার বিচার ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য আমরা সংস্কারের কথা বলছি। সংস্কার ছাড়া সত্যিকার অর্থে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। আমরা চাই, উচ্চকক্ষ, দুদক এবং নির্বাচন কমিশন হোক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার চলবে না, কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমরা বলেছিলাম, যে সিস্টেম চাঁদাবাজ-মাফিয়াদের টিকিয়ে রাখে, তার পতন চাই। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, একটি রাজনৈতিক দল সেই দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমকে রক্ষা করছে, চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।

বরগুনার আলোচিত সোহাগ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে বরগুনার ছেলে সোহাগকে পাথর মেরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বরগুনাবাসী কি এমন সিস্টেম দেখতে চায়? আপনার সন্তানকে ঢাকায় হত্যা করা হয়েছে—আপনারা তার প্রতিবাদ করুন। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে—সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা এবং চাঁদাবাজদের মদদদানকারী একটি দলের রাজনৈতিক প্রশ্রয়।

তিনি বলেন, আমরা মৎস্যজীবী, কৃষক, শ্রমিকদের সন্তান। আজ আমরা এসেছি সেই তরুণ প্রজন্ম হিসেবে, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। আমরা সেই শক্তি, যারা শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল।

বিগত ১৬ বছরের শাসন নিয়ে তিনি বলেন, এই সময়ে দেশে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার রাজত্ব করেছে—যারা গুম, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, মাফিয়াতন্ত্রসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। সেই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতেই দেশের তরুণরা রাজপথে নেমেছে। বরগুনার ১০ জন শহীদ হয়েছেন, তারা আমাদের জাতীয় বীর। আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

বরগুনার পরিবেশ ও জীবনযাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, বরগুনাবাসী জলবায়ু সংকট, লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির সমস্যায় ভুগছে। অথচ সরকার এসব সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন চাই, বরগুনার নদী, সমুদ্র ও উপকূল রক্ষা হোক। মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বরগুনা টাউন হল থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রাটি প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, সারজিস ইসলাম, ডা. তাসনীম জারা সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পথেঘাটে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেন, অনেকেই সরাসরি পদযাত্রায় অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তান বা ভারতপন্থী রাজনীতি এদেশে আর চলবে না: নাহিদ

আপডেট সময় : ১১:৪০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একসময় একটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানপন্থীদের পুনর্বাসন করেছিল। আজ আবার গণঅভ্যুত্থানের পর মুজিববাদীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—বাংলাদেশে মুজিববাদী ও চাঁদাবাজদের কোনো রাজনীতি চলবে না। আমরা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। পাকিস্তানপন্থী বা ভারতপন্থী রাজনীতি এদেশে আর চলতে দেওয়া হবে না।

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এনসিপি বরগুনায় আয়োজন করে ‘জুলাই পদযাত্রা’। বরগুনা টাউন হল থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত আয়োজিত এই পদযাত্রায় পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণহত্যার বিচার ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য আমরা সংস্কারের কথা বলছি। সংস্কার ছাড়া সত্যিকার অর্থে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। আমরা চাই, উচ্চকক্ষ, দুদক এবং নির্বাচন কমিশন হোক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার চলবে না, কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমরা বলেছিলাম, যে সিস্টেম চাঁদাবাজ-মাফিয়াদের টিকিয়ে রাখে, তার পতন চাই। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, একটি রাজনৈতিক দল সেই দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমকে রক্ষা করছে, চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।

বরগুনার আলোচিত সোহাগ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে বরগুনার ছেলে সোহাগকে পাথর মেরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বরগুনাবাসী কি এমন সিস্টেম দেখতে চায়? আপনার সন্তানকে ঢাকায় হত্যা করা হয়েছে—আপনারা তার প্রতিবাদ করুন। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে—সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা এবং চাঁদাবাজদের মদদদানকারী একটি দলের রাজনৈতিক প্রশ্রয়।

তিনি বলেন, আমরা মৎস্যজীবী, কৃষক, শ্রমিকদের সন্তান। আজ আমরা এসেছি সেই তরুণ প্রজন্ম হিসেবে, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। আমরা সেই শক্তি, যারা শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল।

বিগত ১৬ বছরের শাসন নিয়ে তিনি বলেন, এই সময়ে দেশে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার রাজত্ব করেছে—যারা গুম, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, মাফিয়াতন্ত্রসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। সেই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতেই দেশের তরুণরা রাজপথে নেমেছে। বরগুনার ১০ জন শহীদ হয়েছেন, তারা আমাদের জাতীয় বীর। আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

বরগুনার পরিবেশ ও জীবনযাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, বরগুনাবাসী জলবায়ু সংকট, লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির সমস্যায় ভুগছে। অথচ সরকার এসব সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন চাই, বরগুনার নদী, সমুদ্র ও উপকূল রক্ষা হোক। মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বরগুনা টাউন হল থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রাটি প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, সারজিস ইসলাম, ডা. তাসনীম জারা সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পথেঘাটে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেন, অনেকেই সরাসরি পদযাত্রায় অংশ নেন।