ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌচাকে হাসপাতালের পার্কিংয়ে থাকা গাড়ি থেকে ২ মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 63

রাজধানী ঢাকার মৌচাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতলের পার্কিংয়ে থাকা এক প্রাইভেট কারের ভেতর থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর দেড়টার পর মরদেহ দুটি উদ্ধার করে রমনা থানা-পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম। তিনি বলেন, আমরা মালিকের খোঁজ পেয়েছি। তিনি রোববার (১০ আগস্ট) ভোরের দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আত্মীয়কে দেখতে আসেন ওই গাড়িতে করে। পরে তিনি একা চলে গেলেও গাড়ির চালক এবং তার সঙ্গী ওই গাড়িতে এসে অবস্থান করছিলেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্র জানা গেছে, ভোরে সাদা রঙয়ের ওই প্রাইভেটকারটি পার্কিংয়ে প্রবেশ করে। এরপর থেকে পার্কিংয়েই ছিল। আজ বেলা পৌনে ১২টার দিকে মেডিকেল কলেজের প্রধান নিরাপত্তারক্ষী পার্কিংয়ে চেক করার জন্য আসলে বিষয়টি তার নজরে আসে। এই সাদা গাড়িতেই ছিল দুজনের মরদেহ।

বিষয়টি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্যকিছু জানতে চাইলে ডিসি মাসুদ আরও বলেন, সিআইডিসহ অন্য এক্সপার্টরা আসছেন। তারা তদন্ত করবেন। এছাড়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ চলছে। গাড়ির মালিকও আসছেন। সব ধরনের তদন্ত শেষে বিষয়টি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্যকিছু সে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় গাড়িটি হাসপাতালের পার্কিংয়ে প্রবেশ করে। গেটে কর্তব্যরত নিরপত্তা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে বলা হয়, গাড়িতে রোগী আছে। তবে দুদিনেও গাড়ি বের না হওয়ায় হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা আজ গাড়িটির সামনে আসলে ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। এরপর খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, নিহতদের একজনের নাম জাকির। তিনি হচ্ছেন প্রাইভেটকারটির ড্রাইভার। জাকির ড্রাইভারের সিটে মৃত অবস্থায় ছিল।‌ আর পাশে মিজান নামে আরেকজন মৃত অবস্থায় ছিল। ‌মিজান জাকিরের পরিচিত এবং তাদের বাসা একই এলাকায়। তারা এখানে একজন রোগীকে নিতে এসেছিল। ‌গতকাল ভোরের দিকে তারা এখানে আসে।

দুজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে রমনার ডিসি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু ধারণা করছি। তবে, এক্সপার্ট অপিনিয়ন ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। ‌প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা খুবই কম বলে মনে হচ্ছে। তারপরও আমরা এটাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করে যাচ্ছি। এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় এবং গাড়ির মালিকের পরিচয় সব বিষয় ইতোমধ্যে আমাদের হাতে চলে এসেছে। সবকিছু তদন্ত এবং বিশ্লেষণ করে দেখছি।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে নিহতদের স্বজন ভর্তি আছেন। বেজমেন্টে সাফোকেশন থাকে, প্রচণ্ড গরম। গরমের কারণে মরদেহ পচে গেছে। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে থানায় খবর আসে। গাড়িটি গতকাল রোববার ভোরে সাড়ে ৫টার দিকে সেখানে পৌঁছে। গাড়িটির মডেল টয়োটা ফিল্ডার এক্স। মালিক জোবায়ের আহমেদ সৌরভ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মৌচাকে হাসপাতালের পার্কিংয়ে থাকা গাড়ি থেকে ২ মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানী ঢাকার মৌচাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতলের পার্কিংয়ে থাকা এক প্রাইভেট কারের ভেতর থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর দেড়টার পর মরদেহ দুটি উদ্ধার করে রমনা থানা-পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম। তিনি বলেন, আমরা মালিকের খোঁজ পেয়েছি। তিনি রোববার (১০ আগস্ট) ভোরের দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আত্মীয়কে দেখতে আসেন ওই গাড়িতে করে। পরে তিনি একা চলে গেলেও গাড়ির চালক এবং তার সঙ্গী ওই গাড়িতে এসে অবস্থান করছিলেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্র জানা গেছে, ভোরে সাদা রঙয়ের ওই প্রাইভেটকারটি পার্কিংয়ে প্রবেশ করে। এরপর থেকে পার্কিংয়েই ছিল। আজ বেলা পৌনে ১২টার দিকে মেডিকেল কলেজের প্রধান নিরাপত্তারক্ষী পার্কিংয়ে চেক করার জন্য আসলে বিষয়টি তার নজরে আসে। এই সাদা গাড়িতেই ছিল দুজনের মরদেহ।

বিষয়টি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্যকিছু জানতে চাইলে ডিসি মাসুদ আরও বলেন, সিআইডিসহ অন্য এক্সপার্টরা আসছেন। তারা তদন্ত করবেন। এছাড়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ চলছে। গাড়ির মালিকও আসছেন। সব ধরনের তদন্ত শেষে বিষয়টি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্যকিছু সে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় গাড়িটি হাসপাতালের পার্কিংয়ে প্রবেশ করে। গেটে কর্তব্যরত নিরপত্তা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে বলা হয়, গাড়িতে রোগী আছে। তবে দুদিনেও গাড়ি বের না হওয়ায় হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা আজ গাড়িটির সামনে আসলে ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। এরপর খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, নিহতদের একজনের নাম জাকির। তিনি হচ্ছেন প্রাইভেটকারটির ড্রাইভার। জাকির ড্রাইভারের সিটে মৃত অবস্থায় ছিল।‌ আর পাশে মিজান নামে আরেকজন মৃত অবস্থায় ছিল। ‌মিজান জাকিরের পরিচিত এবং তাদের বাসা একই এলাকায়। তারা এখানে একজন রোগীকে নিতে এসেছিল। ‌গতকাল ভোরের দিকে তারা এখানে আসে।

দুজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে রমনার ডিসি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু ধারণা করছি। তবে, এক্সপার্ট অপিনিয়ন ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। ‌প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা খুবই কম বলে মনে হচ্ছে। তারপরও আমরা এটাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করে যাচ্ছি। এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় এবং গাড়ির মালিকের পরিচয় সব বিষয় ইতোমধ্যে আমাদের হাতে চলে এসেছে। সবকিছু তদন্ত এবং বিশ্লেষণ করে দেখছি।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে নিহতদের স্বজন ভর্তি আছেন। বেজমেন্টে সাফোকেশন থাকে, প্রচণ্ড গরম। গরমের কারণে মরদেহ পচে গেছে। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে থানায় খবর আসে। গাড়িটি গতকাল রোববার ভোরে সাড়ে ৫টার দিকে সেখানে পৌঁছে। গাড়িটির মডেল টয়োটা ফিল্ডার এক্স। মালিক জোবায়ের আহমেদ সৌরভ।