ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির কারণে বাজারে অস্থিরতা!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 66

বাজারে একমাত্র কাঁচা পেঁপে ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ৮০ টাকার ঘরে আটকে আছে। বেশ কিছুদিন ধরে সবজির এই ঊর্ধ্বগতিতে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। তবে করলা, বেগুন ও টমেটোর মতো সবজিগুলোর দাম আরও বেশি। সপ্তাহ ব্যবধানে ইলিশ মাছ ও মুরগি আগেই দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচ কেজিতে ১০০ টাকা কমে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং শীতকালীন সবজি শিম কেজিতে ৬০ টাকা কমে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের মুখে অসন্তোষের স্পষ্ট সুর থাকলেও বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, ব্যবসায়ীরা কৌশলে ছুটির দিনে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো পড়ছে চরম বিপাকে। বিক্রেতারা সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মৌসুম শেষ হওয়া, সরবরাহ কম এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির অভিযোগ জানিয়ে আসছেন।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বেগুন প্রকারভেদে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকায়, পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুর মুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে ঝিঙের কেজি ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা। টমেটোর কেজি ১৮০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা। লেবুর হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, ধনে পাতার কেজি ৪০০ টাকা।

কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া প্রতিটি ৬০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৪০০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, মুলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কলমি শাক ১৫ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আদার দাম চড়া দেখা গেছে। দেশি আদার কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, চায়না আদা ২৬০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা। দেশি মসুর ডালের কেজি ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৩০ টাকা।

বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা কেজি এবং নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা এবং ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা দরে।

রাজধানীর রামপুরা বাজারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আজ প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে সবজির অতিরিক্ত দাম চলছে। মাছ-মাংসের পাশাপাশি এখন মনে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা সবজিও খেতে পারবে না।

কী কারণে সবজির দাম এত বেশি— জানতে চাইলে বিক্রেতারা বারবার শুধু বলেন, বেশিরভাগ সবজিরই এখন মৌসুম শেষ, তাই সরবরাহ কম। কিন্তু দুই মাস ধরেও কী একই রকম অবস্থা চলতে পারে? সবজির মৌসুম তো দুই মাস আগেই শেষ হয়েছে। এখনো কী নতুন সবজি ওঠেনি? এত বেশি দাম হলে তো সাধারণ ক্রেতারা সবজিও কিনতে পারবে না।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, সবজির দাম বাড়ার পর থেকে আমাদের মতো সাধারণ বিক্রেতাদের সবজি বিক্রি অনেক কমে গেছে। দাম বাড়ার কারণে মানুষ এখন কম পরিমাণে সবজি কিনছে। এ কারণে আগে এক ধরনের সবজি যেখানে ১৫-২০ কেজি করে আনতাম, এখন তা আনি মাত্র পাঁচ কেজি করে। অর্থাৎ, মানুষ আগে এক কেজি সবজি কিনলে এখন আধা কেজি কিনছে। সবমিলিয়ে সবজির দাম বাড়ার কারণে আমাদের ব্যবসাও কমে গেছে।

তিনি বলেন, বাজারের সব ধরনের সবজি সরবরাহ অনেক কম। বেশিরভাগ সবজির মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে মূলত বাজারে সরবরাহ কম হচ্ছে। এর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে, এতে করে সবজি নষ্টও হচ্ছে। নতুনভাবে সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলে সবজির দাম কমে আসবে।

সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৩৩০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগির কেজি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৬০ থেকে ৬৮০ টাকা।

শুধু মুরগিই নয়, ডিমের বাজারেও আগুন লেগেছে। গত এক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল ১৪৫–১৫০ টাকা। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩৫–১৪০ টাকা। হাঁসের ডিমের দাম আরও বেশি, প্রতি ডজন ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারে এখনও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়, ৫০০–৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ টাকা, ৭০০–৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

চাষের শিং মাছের (আকারভেদে) কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, দেশি শিং ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা, রুই (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। প্রতি কেজি মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা এক হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি ২২০ টাকা।

অন্যদিকে, গরু ও খাসির মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০–৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাছের বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

বনশ্রী বাজারে পরিবারের জন্য সপ্তাহের বাজার করতে আসা গৃহিণী নাহিদা আক্তার বলেন, শাকসবজি, ডাল, মাছ, মাংস—সব কিছুর দামই একসঙ্গে বাড়ছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার কিনেছি ১৬৫ টাকায়, আজ দিতে হলো ১৮২ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে মাসের শেষে টান পড়বেই।

বাজার করতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, মাসখানেক আগেও ব্রয়লার ১৫০ টাকায় কিনেছি, আজ ১৮৫ টাকা চাইছে। গরু-খাসির মাংস তো অনেক আগেই হাতের বাইরে চলে গেছে, এখন মুরগিও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আপনি মাছের বাজারে গিয়েও শান্তি পাবেন না, মাছের দাম আকাশছোঁয়া। এভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকলে তো চলতেই পারব না।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির কারণে বাজারে অস্থিরতা!

আপডেট সময় : ০২:১২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

বাজারে একমাত্র কাঁচা পেঁপে ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ৮০ টাকার ঘরে আটকে আছে। বেশ কিছুদিন ধরে সবজির এই ঊর্ধ্বগতিতে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। তবে করলা, বেগুন ও টমেটোর মতো সবজিগুলোর দাম আরও বেশি। সপ্তাহ ব্যবধানে ইলিশ মাছ ও মুরগি আগেই দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচ কেজিতে ১০০ টাকা কমে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং শীতকালীন সবজি শিম কেজিতে ৬০ টাকা কমে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের মুখে অসন্তোষের স্পষ্ট সুর থাকলেও বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, ব্যবসায়ীরা কৌশলে ছুটির দিনে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো পড়ছে চরম বিপাকে। বিক্রেতারা সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মৌসুম শেষ হওয়া, সরবরাহ কম এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির অভিযোগ জানিয়ে আসছেন।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বেগুন প্রকারভেদে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকায়, পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুর মুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে ঝিঙের কেজি ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা। টমেটোর কেজি ১৮০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা। লেবুর হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, ধনে পাতার কেজি ৪০০ টাকা।

কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া প্রতিটি ৬০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৪০০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, মুলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কলমি শাক ১৫ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আদার দাম চড়া দেখা গেছে। দেশি আদার কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, চায়না আদা ২৬০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা। দেশি মসুর ডালের কেজি ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৩০ টাকা।

বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা কেজি এবং নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা এবং ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা দরে।

রাজধানীর রামপুরা বাজারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আজ প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে সবজির অতিরিক্ত দাম চলছে। মাছ-মাংসের পাশাপাশি এখন মনে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা সবজিও খেতে পারবে না।

কী কারণে সবজির দাম এত বেশি— জানতে চাইলে বিক্রেতারা বারবার শুধু বলেন, বেশিরভাগ সবজিরই এখন মৌসুম শেষ, তাই সরবরাহ কম। কিন্তু দুই মাস ধরেও কী একই রকম অবস্থা চলতে পারে? সবজির মৌসুম তো দুই মাস আগেই শেষ হয়েছে। এখনো কী নতুন সবজি ওঠেনি? এত বেশি দাম হলে তো সাধারণ ক্রেতারা সবজিও কিনতে পারবে না।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, সবজির দাম বাড়ার পর থেকে আমাদের মতো সাধারণ বিক্রেতাদের সবজি বিক্রি অনেক কমে গেছে। দাম বাড়ার কারণে মানুষ এখন কম পরিমাণে সবজি কিনছে। এ কারণে আগে এক ধরনের সবজি যেখানে ১৫-২০ কেজি করে আনতাম, এখন তা আনি মাত্র পাঁচ কেজি করে। অর্থাৎ, মানুষ আগে এক কেজি সবজি কিনলে এখন আধা কেজি কিনছে। সবমিলিয়ে সবজির দাম বাড়ার কারণে আমাদের ব্যবসাও কমে গেছে।

তিনি বলেন, বাজারের সব ধরনের সবজি সরবরাহ অনেক কম। বেশিরভাগ সবজির মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে মূলত বাজারে সরবরাহ কম হচ্ছে। এর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে, এতে করে সবজি নষ্টও হচ্ছে। নতুনভাবে সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলে সবজির দাম কমে আসবে।

সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৩৩০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগির কেজি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৬০ থেকে ৬৮০ টাকা।

শুধু মুরগিই নয়, ডিমের বাজারেও আগুন লেগেছে। গত এক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল ১৪৫–১৫০ টাকা। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩৫–১৪০ টাকা। হাঁসের ডিমের দাম আরও বেশি, প্রতি ডজন ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারে এখনও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়, ৫০০–৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ টাকা, ৭০০–৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

চাষের শিং মাছের (আকারভেদে) কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, দেশি শিং ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা, রুই (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। প্রতি কেজি মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা এক হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি ২২০ টাকা।

অন্যদিকে, গরু ও খাসির মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০–৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাছের বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

বনশ্রী বাজারে পরিবারের জন্য সপ্তাহের বাজার করতে আসা গৃহিণী নাহিদা আক্তার বলেন, শাকসবজি, ডাল, মাছ, মাংস—সব কিছুর দামই একসঙ্গে বাড়ছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার কিনেছি ১৬৫ টাকায়, আজ দিতে হলো ১৮২ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে মাসের শেষে টান পড়বেই।

বাজার করতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, মাসখানেক আগেও ব্রয়লার ১৫০ টাকায় কিনেছি, আজ ১৮৫ টাকা চাইছে। গরু-খাসির মাংস তো অনেক আগেই হাতের বাইরে চলে গেছে, এখন মুরগিও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আপনি মাছের বাজারে গিয়েও শান্তি পাবেন না, মাছের দাম আকাশছোঁয়া। এভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকলে তো চলতেই পারব না।