ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জনগণের রায়কে জামায়াত সবসময় ভয় পায়, সেজন্য তারা পিআর চায়’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 44

জনগণের রায়কে জামায়াত সবসময় ভয় পায়, সেজন্য তারা পিআর পদ্ধতি চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আজ (সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। এছাড়াও দুই বা তিন রাজনৈতিক দল মিলে একটি নির্বাচন পদ্ধতি জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন হাফিজ উদ্দিন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। যারা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। সবসময় জনগণের বিপক্ষে থাকে তাদের অবস্থান। আজকে তারা বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চায়। তারা তুলে এনেছে পিআরের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।’

ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৪ অক্টোবর

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর কিছু কিছু লোক মনে করে- আমাদের জনগণ ভোট দিতে জানে না, তারা অশিক্ষিত। সুতরাং ভোটের সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। তারা পিআর বলে একটা ব্যবস্থায় যেতে চায়। আমাদের আশেপাশে কোথাও পিআর নাই। নেপালে ছিল, সেখানে দুই বছরে প্রায় ১০টি সরকার এসেছে আর গিয়েছে। অবশেষে তাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী কয়েকজনকে পুড়িয়ে মেরেছে। বোঝা যায় এটি একটি দুর্বল সরকার, সেটি ছিল নেপালে। পাশের দেশ ভারত, যাদের বুদ্ধিতে এসব কথাবার্তা বলে সেখানে কিন্তু পিআর নাই। সেখানে বাংলাদেশের মতোই নির্বাচন হয়।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটা জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ জানে না পিআর কী। এ ধরনের একটি ব্যবস্থা যদি বাংলাদেশের ওপর চালিয়ে দেয়া হয় এটি অন্যায় করা হবে। জনগণের রায়কে সবসময় জামায়াতে ইসলামী ভয় পায় এজন্য প্রতিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনোদিন ১৭টির বেশি আসন পায়নি।’

প্রধান উপদেষ্টার সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘ড. ইউনুসকে অনেকে কুমন্ত্রণা দিয়েছিল ১০ বছর সরকারে থাকার জন্য। তিনিও ভেবেছিলেন এভাবে যদি এসিতে থাকা যায়, এভাবে যদি আত্মীয় স্বজনকে মন্ত্রী বানানো যায়, মন্দ কী! তবে ১৩ মাস পর তিনিও নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করেছন।’

এসময় জাতিসংঘের সম্মেলনে ১০৪ জন প্রতিনিধি নিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘১০ মিনিটের একটা অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের জন্য ১০৪ জনকে জাতিসংঘে নিয়ে যাওয়া জনগণের অর্থের অপচয়।’

এনসিপির সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘তাদের আওয়ামী লীগের রোগে পেয়েছে। গণঅভ্যুত্থান তাদের নেতৃত্বে হয়েছে দাবি করলেও ডাকসু নির্বাচনে তারা ১০০ ভোটও পায়নি।’

এসময় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারী ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি নষ্ট করে, দেশের মানুষ মারার পরও কোনো অপরাধ বোধ নেই।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘জনগণের রায়কে জামায়াত সবসময় ভয় পায়, সেজন্য তারা পিআর চায়’

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জনগণের রায়কে জামায়াত সবসময় ভয় পায়, সেজন্য তারা পিআর পদ্ধতি চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আজ (সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। এছাড়াও দুই বা তিন রাজনৈতিক দল মিলে একটি নির্বাচন পদ্ধতি জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন হাফিজ উদ্দিন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। যারা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। সবসময় জনগণের বিপক্ষে থাকে তাদের অবস্থান। আজকে তারা বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চায়। তারা তুলে এনেছে পিআরের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।’

ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৪ অক্টোবর

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর কিছু কিছু লোক মনে করে- আমাদের জনগণ ভোট দিতে জানে না, তারা অশিক্ষিত। সুতরাং ভোটের সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। তারা পিআর বলে একটা ব্যবস্থায় যেতে চায়। আমাদের আশেপাশে কোথাও পিআর নাই। নেপালে ছিল, সেখানে দুই বছরে প্রায় ১০টি সরকার এসেছে আর গিয়েছে। অবশেষে তাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী কয়েকজনকে পুড়িয়ে মেরেছে। বোঝা যায় এটি একটি দুর্বল সরকার, সেটি ছিল নেপালে। পাশের দেশ ভারত, যাদের বুদ্ধিতে এসব কথাবার্তা বলে সেখানে কিন্তু পিআর নাই। সেখানে বাংলাদেশের মতোই নির্বাচন হয়।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটা জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ জানে না পিআর কী। এ ধরনের একটি ব্যবস্থা যদি বাংলাদেশের ওপর চালিয়ে দেয়া হয় এটি অন্যায় করা হবে। জনগণের রায়কে সবসময় জামায়াতে ইসলামী ভয় পায় এজন্য প্রতিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনোদিন ১৭টির বেশি আসন পায়নি।’

প্রধান উপদেষ্টার সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘ড. ইউনুসকে অনেকে কুমন্ত্রণা দিয়েছিল ১০ বছর সরকারে থাকার জন্য। তিনিও ভেবেছিলেন এভাবে যদি এসিতে থাকা যায়, এভাবে যদি আত্মীয় স্বজনকে মন্ত্রী বানানো যায়, মন্দ কী! তবে ১৩ মাস পর তিনিও নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করেছন।’

এসময় জাতিসংঘের সম্মেলনে ১০৪ জন প্রতিনিধি নিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘১০ মিনিটের একটা অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের জন্য ১০৪ জনকে জাতিসংঘে নিয়ে যাওয়া জনগণের অর্থের অপচয়।’

এনসিপির সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘তাদের আওয়ামী লীগের রোগে পেয়েছে। গণঅভ্যুত্থান তাদের নেতৃত্বে হয়েছে দাবি করলেও ডাকসু নির্বাচনে তারা ১০০ ভোটও পায়নি।’

এসময় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারী ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি নষ্ট করে, দেশের মানুষ মারার পরও কোনো অপরাধ বোধ নেই।’