ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশেষ সতর্কীকরণ নোটিশ ::
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ জন্য ০১৩১৮২৩৪৯৬২, ০১৩১৮২৩৪৯৬৩, ০১৩২১১৩৯৫৪২ ও ০১৭০৯৬৫৪৭৯১ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ffwcbwdb@gmail.com এবং ffwc05@yahoo.com ই-মেইলেও তথ্য পাওয়া যাবে।

টাকার লোভে মানুষের মাংস খাইয়েছেন মহেশ ভাট!

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:১৬ অপরাহ্ন, রোববার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 48

বরাবরই ঠোঁটকাটা এবং স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত বলিউডের পরিচালক মহেশ ভাট। নিজের জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে কখনও দ্বিধা করেননি তিনি। তবে সম্প্রতি তাঁর এক স্বীকারোক্তি শুনে হতবাক অনেকেই। মেয়ে পূজা ভাটের পডকাস্টে মহেশ জানান, এক তান্ত্রিকের পরামর্শে একদা তিনি এক বিনিয়োগকারীকে মানুষের মাংস খাইয়েছিলেন।

মহেশ জানান, তখন তাঁর বয়স ২০-র কোঠায়। তিনি এবং তাঁর বন্ধু অরুণ দেশাই কেরিয়ারে সাফল্যের জন্য লড়ছেন। অরুণই তাঁকে বিহারের গয়ায় এক সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তার আগে বারাণসীতে অরুণ তাঁকে নিজের গুরুর সঙ্গে দেখা করতে বলেন।

মহেশের কথায়, “গুরুজির সঙ্গে দেখা করার জন্য বহু গরিব মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। গুরুজি বলতে এক তরুণ তান্ত্রিক, হাতে রামের বোতল নিয়ে নাচছিলেন তিনি।” পরিচালক জানান, ওই তান্ত্রিক বুঝতে পারেন যে ভট্ট আসলে অবিশ্বাসী। তাই পরের দিন তাঁদের আবার আসতে বলেন।

বিয়ের বছর ঘুরতেই নতুন অধ্যায় শুরু করলেন সোনাক্ষী-জাহির

স্মৃতিচারণ করে পরিচালক বলেন, “তিনি (তান্ত্রিক) একটি পুরিয়া বার করে বলেন, এটি মানুষের মাংস, যা শ্মশান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটা নিয়ে তোমার সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীকে খাওয়াও, দেখবে সে টাকা দেবে’।” ভট্টের মনে হয়েছিল, তিনি যেন টাকার রাজ্যের চাবিকাঠি হাতে পেয়ে গিয়েছেন।

এরপর দুই বন্ধু গয়ায় পৌঁছন। মহেশ বলেন, “গিয়ে দেখি শহরের উপকণ্ঠে এক জমিদার, মশারি টাঙিয়ে বসে রয়েছেন, পাশে বন্দুকধারী নিরাপত্তারক্ষী।” তাঁর থেকেই টাকা চাওয়ার ছক কষেছিলেন মহেশ। কিন্তু কীভাবে তাঁকে ওই মাংস খাওয়ানো যায় ভেবে পাচ্ছিলেন না তিনি। তখনই তাঁদের মাথায় আসে, পানের মধ্যে মাংস ভরে জমিদারকে খাওয়ানো যেতে পারে।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। কিন্তু তারপর যা হল তা বলতে গিয়ে শিউরে উঠেছেন পরিচালক। তাঁর কথায়, “ধীরে ধীরে তিনি পানটি মুখের কাছে আনলেন এবং চিবোতে শুরু করলেন। আমাদের মনে হল, আমরা লক্ষ্যভেদ করে ফেলেছি।” ভট্ট ভেবেছিলেন, তাঁর সমস্ত আর্থিক সঙ্কট এবং কেরিয়ারের দুর্দশা কেটে যাবে। কিন্তু মাসখানেক পর অরুণের থেকে জানতে পারেন, ওই বিনিয়োগকারী তাঁদের কোনও টাকাই দেননি।

মহেশের এই স্মৃতিচারণ রেডিটের মতো সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলেছে। এক জন লিখেছেন, “শ্মশানে শব আনার পর দেহ পাহারা দিয়ে রাখতে হয়, নয়তো এই ধরনের কাজের জন্যই মরদেহ ব্যবহৃত হয়। আমি অবাক হচ্ছি যে উনি এটা প্রকাশ্যে বলছেন।” আর এক জনের মন্তব্য, “মানুষ কীভাবে এত নীচে নামতে পারে! অবিশ্বাস্য!”

অন্য এক জন প্রশ্ন তুলেছেন, “এই ধরনের কাজের পরেও ওঁকে সামাজিক জীবনে রাখা হচ্ছে কেন?” আর এক জনের প্রশ্ন, “তান্ত্রিক মাংস পেলেন কোথা থেকে?” অনেকেই আবার মহেশের কন্যা আলিয়া ভাটের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। এক জনের কথায়, “আলিয়া যে ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে, বাবা হয়ে উনি সবটা নষ্ট করে দিচ্ছেন।” আর এক জনের মন্তব্য, “উনি আলিয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন।”

“কিছু গোপন কথা কবরে সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভাল,” মন্তব্য আর এক নেটাগরিকের। সমালোচকদের একাংশের মতে অবশ্য এটি পাবলিসিটি স্টান্ট ছাড়া কিছুই নয়, উনি আসলে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ। বলাই বাহুল্য, মহেশের এই স্বীকারোক্তি সমাজমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টাকার লোভে মানুষের মাংস খাইয়েছেন মহেশ ভাট!

আপডেট সময় : ০৩:৫২:১৬ অপরাহ্ন, রোববার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

বরাবরই ঠোঁটকাটা এবং স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত বলিউডের পরিচালক মহেশ ভাট। নিজের জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে কখনও দ্বিধা করেননি তিনি। তবে সম্প্রতি তাঁর এক স্বীকারোক্তি শুনে হতবাক অনেকেই। মেয়ে পূজা ভাটের পডকাস্টে মহেশ জানান, এক তান্ত্রিকের পরামর্শে একদা তিনি এক বিনিয়োগকারীকে মানুষের মাংস খাইয়েছিলেন।

মহেশ জানান, তখন তাঁর বয়স ২০-র কোঠায়। তিনি এবং তাঁর বন্ধু অরুণ দেশাই কেরিয়ারে সাফল্যের জন্য লড়ছেন। অরুণই তাঁকে বিহারের গয়ায় এক সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তার আগে বারাণসীতে অরুণ তাঁকে নিজের গুরুর সঙ্গে দেখা করতে বলেন।

মহেশের কথায়, “গুরুজির সঙ্গে দেখা করার জন্য বহু গরিব মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। গুরুজি বলতে এক তরুণ তান্ত্রিক, হাতে রামের বোতল নিয়ে নাচছিলেন তিনি।” পরিচালক জানান, ওই তান্ত্রিক বুঝতে পারেন যে ভট্ট আসলে অবিশ্বাসী। তাই পরের দিন তাঁদের আবার আসতে বলেন।

বিয়ের বছর ঘুরতেই নতুন অধ্যায় শুরু করলেন সোনাক্ষী-জাহির

স্মৃতিচারণ করে পরিচালক বলেন, “তিনি (তান্ত্রিক) একটি পুরিয়া বার করে বলেন, এটি মানুষের মাংস, যা শ্মশান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটা নিয়ে তোমার সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীকে খাওয়াও, দেখবে সে টাকা দেবে’।” ভট্টের মনে হয়েছিল, তিনি যেন টাকার রাজ্যের চাবিকাঠি হাতে পেয়ে গিয়েছেন।

এরপর দুই বন্ধু গয়ায় পৌঁছন। মহেশ বলেন, “গিয়ে দেখি শহরের উপকণ্ঠে এক জমিদার, মশারি টাঙিয়ে বসে রয়েছেন, পাশে বন্দুকধারী নিরাপত্তারক্ষী।” তাঁর থেকেই টাকা চাওয়ার ছক কষেছিলেন মহেশ। কিন্তু কীভাবে তাঁকে ওই মাংস খাওয়ানো যায় ভেবে পাচ্ছিলেন না তিনি। তখনই তাঁদের মাথায় আসে, পানের মধ্যে মাংস ভরে জমিদারকে খাওয়ানো যেতে পারে।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। কিন্তু তারপর যা হল তা বলতে গিয়ে শিউরে উঠেছেন পরিচালক। তাঁর কথায়, “ধীরে ধীরে তিনি পানটি মুখের কাছে আনলেন এবং চিবোতে শুরু করলেন। আমাদের মনে হল, আমরা লক্ষ্যভেদ করে ফেলেছি।” ভট্ট ভেবেছিলেন, তাঁর সমস্ত আর্থিক সঙ্কট এবং কেরিয়ারের দুর্দশা কেটে যাবে। কিন্তু মাসখানেক পর অরুণের থেকে জানতে পারেন, ওই বিনিয়োগকারী তাঁদের কোনও টাকাই দেননি।

মহেশের এই স্মৃতিচারণ রেডিটের মতো সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলেছে। এক জন লিখেছেন, “শ্মশানে শব আনার পর দেহ পাহারা দিয়ে রাখতে হয়, নয়তো এই ধরনের কাজের জন্যই মরদেহ ব্যবহৃত হয়। আমি অবাক হচ্ছি যে উনি এটা প্রকাশ্যে বলছেন।” আর এক জনের মন্তব্য, “মানুষ কীভাবে এত নীচে নামতে পারে! অবিশ্বাস্য!”

অন্য এক জন প্রশ্ন তুলেছেন, “এই ধরনের কাজের পরেও ওঁকে সামাজিক জীবনে রাখা হচ্ছে কেন?” আর এক জনের প্রশ্ন, “তান্ত্রিক মাংস পেলেন কোথা থেকে?” অনেকেই আবার মহেশের কন্যা আলিয়া ভাটের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। এক জনের কথায়, “আলিয়া যে ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে, বাবা হয়ে উনি সবটা নষ্ট করে দিচ্ছেন।” আর এক জনের মন্তব্য, “উনি আলিয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন।”

“কিছু গোপন কথা কবরে সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভাল,” মন্তব্য আর এক নেটাগরিকের। সমালোচকদের একাংশের মতে অবশ্য এটি পাবলিসিটি স্টান্ট ছাড়া কিছুই নয়, উনি আসলে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ। বলাই বাহুল্য, মহেশের এই স্বীকারোক্তি সমাজমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।