ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় এনজিওর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 82

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গতকাল শুক্রবার গাজায় সাহায্য সরবরাহকারী মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, গুতেরেস ‘এই পদক্ষেপটি প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো জীবনরক্ষাকারী মানবিক কাজের জন্য অপরিহার্য এবং এই স্থগিতাদেশটি যুদ্ধবিরতির সময়ে অর্জিত ভঙ্গুর অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকট আরও বাড়াবে।

মেক্সিকোতে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে হতাহত ১৪

সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের তালিকা ভাগাভাগি করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বৃহস্পতিবার ৩৭টি বিদেশী মানবিক সংস্থাকে গাজা উপত্যকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইল।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ), যার ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ১ হাজার ২শ’ কর্মী রয়েছে। এদের অধিকাংশই গাজায় অবস্থান করছে।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা এনজিওগুলোকে ১ মার্চের মধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিছু এনজিও বলেছে, এই শর্তাবলী আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

ইসরাইল বলেছে, নতুন এই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার অভিযোগে অভিযুক্ত সংস্থাগুলোকে তাদের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা।

গত বৃহস্পতিবার, ১৮টি ইসরাইল-ভিত্তিক বামপন্থী এনজিও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘নতুন নিবন্ধন কাঠামো স্বাধীন এবং নিরপেক্ষতার মূল মানবিক নীতি লঙ্ঘন করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর হামাসের আক্রমণের জবাবে ইসরাইল কর্তৃক পরিচালিত এক মারাত্মক যুদ্ধের পর গত অক্টোবর মাস থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

গাজার কর্তৃপক্ষ নভেম্বরে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন যুদ্ধের কারণে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজার ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ আল-শাওয়া বলেছেন, গাজার ২০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় এনজিওর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গতকাল শুক্রবার গাজায় সাহায্য সরবরাহকারী মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, গুতেরেস ‘এই পদক্ষেপটি প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো জীবনরক্ষাকারী মানবিক কাজের জন্য অপরিহার্য এবং এই স্থগিতাদেশটি যুদ্ধবিরতির সময়ে অর্জিত ভঙ্গুর অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকট আরও বাড়াবে।

মেক্সিকোতে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে হতাহত ১৪

সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের তালিকা ভাগাভাগি করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বৃহস্পতিবার ৩৭টি বিদেশী মানবিক সংস্থাকে গাজা উপত্যকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইল।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ), যার ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ১ হাজার ২শ’ কর্মী রয়েছে। এদের অধিকাংশই গাজায় অবস্থান করছে।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা এনজিওগুলোকে ১ মার্চের মধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিছু এনজিও বলেছে, এই শর্তাবলী আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

ইসরাইল বলেছে, নতুন এই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার অভিযোগে অভিযুক্ত সংস্থাগুলোকে তাদের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা।

গত বৃহস্পতিবার, ১৮টি ইসরাইল-ভিত্তিক বামপন্থী এনজিও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘নতুন নিবন্ধন কাঠামো স্বাধীন এবং নিরপেক্ষতার মূল মানবিক নীতি লঙ্ঘন করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর হামাসের আক্রমণের জবাবে ইসরাইল কর্তৃক পরিচালিত এক মারাত্মক যুদ্ধের পর গত অক্টোবর মাস থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

গাজার কর্তৃপক্ষ নভেম্বরে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন যুদ্ধের কারণে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজার ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ আল-শাওয়া বলেছেন, গাজার ২০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে।