ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়ন ও বিনিয়োগই চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 163
185

বিএনপি সরকারের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্ব পাবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি। তবে সেখানে প্রতিবেশী ও পরাশক্তিদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক হবে নতুন সরকারের? বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে নতুনদের। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনীতিতে সমতা ফেরাতে হবে।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে নজর ছিলো বিশ্বের বহু দেশের। এ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেকটাই। ভারত-পাকিস্তান-চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বরাবরই দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচন পরবর্তী নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান সাফ জানান, দেশের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রীসভা। এ অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়েছে ভারত-পাকিস্তান-চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে।এরই মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে আসছে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, ভূটানের প্রধানমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা।

শপথ অনুষ্ঠানে ভারত-পাকিস্তানের প্রতিনিধির উপস্থিতিকে আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষিতে এটিকে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা হিসেবে দেখছে দুই দেশ।

মিয়ানমারের ওপর আরও কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে ইকুয়েল সভরেনটি রক্ষা করে, স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো কাজ করা উচিত হবে না।’

পররাষ্ট্র বিশ্লেষক সাবাব এনাম বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলভিত্তিক চিন্তা করলে হবে না। অঞ্চলের বাহিরে চিন্তা করতে হবে। টেকনোলজি নিয়ে আসতে হবে ডিপ্লোম্যাসিতে। চেঞ্জ, ট্রানজিশনের জন্য যা প্রয়োজন তা নিয়ে আসতে হবে। আমাদের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট আসলে কোন কোন দেশ সার্ভ করে সেদিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত সফিউল্লাহ বলছেন, বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিতে কাজ করতে চাইলে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে আগামীর পররাষ্ট্রনীতিতে। শুধু অঞ্চলভিত্তিক নয় দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কূটনীতিতে সমতা ফেরাতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যে সরকার বাংলাদেশে আসছে, সে সরকার যে পদক্ষেপ নিবে সেটিই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। এখানে ক্ল্যাশ হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-পাকিস্তান কিংবা মার্কিন-চীন সম্পর্কের প্রভাব যেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব না ফেলে এমন নীতিকেই বেছে নিতে হবে আসছে সরকারকে। সেক্ষেত্রে আগামীতে ভারসাম্যর বজায় রেখে পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করতে হবে।

পররাষ্ট্র বিশ্লেষক সাবাব এনাম বলেন, জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করলে পাকিস্তান এবং ভারতের সঙ্গে আমাদের ম্যাক্সিমাম বেনিফেট কোন কোন জায়গাতে হতে পারে এবং আমাদের কনসার্নগুলো সেগুলো রেসিপক্যালভাবে এ দেশগুলো অনুভব করে কি না; তার ওপর নির্ভর করে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির গতি প্রকৃতি ঠিক করা উচিত।

বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই হবে নির্বাচিত সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। বিদেশি বিনিয়োগ টানতে দেশের সুনাম পুনরুদ্ধার করার এর বিকল্প নেই বলেও মত বিশ্লেষকদের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়ন ও বিনিয়োগই চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
185

বিএনপি সরকারের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্ব পাবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি। তবে সেখানে প্রতিবেশী ও পরাশক্তিদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক হবে নতুন সরকারের? বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে নতুনদের। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনীতিতে সমতা ফেরাতে হবে।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে নজর ছিলো বিশ্বের বহু দেশের। এ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেকটাই। ভারত-পাকিস্তান-চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বরাবরই দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচন পরবর্তী নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান সাফ জানান, দেশের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রীসভা। এ অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়েছে ভারত-পাকিস্তান-চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে।এরই মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে আসছে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, ভূটানের প্রধানমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা।

শপথ অনুষ্ঠানে ভারত-পাকিস্তানের প্রতিনিধির উপস্থিতিকে আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষিতে এটিকে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা হিসেবে দেখছে দুই দেশ।

মিয়ানমারের ওপর আরও কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে ইকুয়েল সভরেনটি রক্ষা করে, স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো কাজ করা উচিত হবে না।’

পররাষ্ট্র বিশ্লেষক সাবাব এনাম বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলভিত্তিক চিন্তা করলে হবে না। অঞ্চলের বাহিরে চিন্তা করতে হবে। টেকনোলজি নিয়ে আসতে হবে ডিপ্লোম্যাসিতে। চেঞ্জ, ট্রানজিশনের জন্য যা প্রয়োজন তা নিয়ে আসতে হবে। আমাদের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট আসলে কোন কোন দেশ সার্ভ করে সেদিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত সফিউল্লাহ বলছেন, বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিতে কাজ করতে চাইলে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে আগামীর পররাষ্ট্রনীতিতে। শুধু অঞ্চলভিত্তিক নয় দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কূটনীতিতে সমতা ফেরাতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যে সরকার বাংলাদেশে আসছে, সে সরকার যে পদক্ষেপ নিবে সেটিই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। এখানে ক্ল্যাশ হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-পাকিস্তান কিংবা মার্কিন-চীন সম্পর্কের প্রভাব যেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব না ফেলে এমন নীতিকেই বেছে নিতে হবে আসছে সরকারকে। সেক্ষেত্রে আগামীতে ভারসাম্যর বজায় রেখে পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করতে হবে।

পররাষ্ট্র বিশ্লেষক সাবাব এনাম বলেন, জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করলে পাকিস্তান এবং ভারতের সঙ্গে আমাদের ম্যাক্সিমাম বেনিফেট কোন কোন জায়গাতে হতে পারে এবং আমাদের কনসার্নগুলো সেগুলো রেসিপক্যালভাবে এ দেশগুলো অনুভব করে কি না; তার ওপর নির্ভর করে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির গতি প্রকৃতি ঠিক করা উচিত।

বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই হবে নির্বাচিত সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। বিদেশি বিনিয়োগ টানতে দেশের সুনাম পুনরুদ্ধার করার এর বিকল্প নেই বলেও মত বিশ্লেষকদের।