’বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নেপথ্যে ছিলেন শেখ মামুন’

- আপডেট সময় : ১০:৪৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / 62
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ এই আদেশ দেন। এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক বলেন, শেখ মামুন খালেদ এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব ছিলেন। সে সময় ডিজিএফআইয়ে কর্মরত থাকাকালীন তিনি রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
পিপি আরও অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে যারা সহযোগিতা করেছিলেন, মামুন খালেদ তাদের একজন। পুরস্কারস্বরূপ তাকে ডিজিএফআই প্রধান করা হয়। তার আমলেই আয়নাঘর তৈরি করে অমানুষিক নির্যাতন ও গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার নেপথ্যেও তার ভূমিকা ছিল।
ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ আটক
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই কফিল উদ্দিন আবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা শেখ মামুনের নির্দেশেই নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দেলোয়ার হোসেন মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
আদালতের অনুমতি নিয়ে শেখ মামুন খালেদ দাবি করেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন এবং ঘটনার সময় তিনি ডিওএইচএসের বাইরে যাননি। তিনি বলেন, “আমি এক-এগারোর সময় কুমিল্লায় ছিলাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনে আমি সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।”
আয়নাঘর প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার সময়কালে এমন কোনো অভিযোগ ছিল না। এছাড়া জলসিঁড়ি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি কেবল টাকা উদ্ধারের দায়িত্বে ছিলেন। তার আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, এজাহারে তার নাম নেই এবং ঘটনার সময় তিনি অবসরে থাকায় কাউকে নির্দেশ দেওয়ার অবস্থানে ছিলেন না।
শেখ মামুন খালেদ ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিইউপির উপাচার্য এবং এনডিসির কমান্ড্যান্ট ছিলেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক এবং গত বছর মে মাসে তার ও তার স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।




















