যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের পরমাণু আলোচনা শুরু করবে ইরান

- আপডেট সময় : ০১:৩৩:১২ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ জুলাই ২০২৫
- / 77
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা পেলে তার দেশ পুনরায় পরমাণু আলোচনা শুরু করতে রাজি হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানভিত্তিক বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে বলেছেন, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য সবসময়ই প্রস্তুত আছে এবং ভবিষ্যতেও প্রস্তুত থাকবে, তবে ‘এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, আলোচনা পুনরায় শুরু হলে এই প্রবণতা যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে না।
ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের ১২ দিনের বোমাবর্ষণ এবং ২২ জুন মার্কিন হামলার কথা উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা যদি ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চায় তাহলে প্রথমত, দৃঢ় নিশ্চয়তা থাকতে হবে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হবে না। ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানে পৌঁছানো আরও কঠিন ও জটিল করে তুলেছে।
হামলার পর ইরান জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে, যার ফলে পরিদর্শকরা পদত্যাগ করেন।
আরাগচি বলেন, ইরানের আইন অনুযায়ী দেশটি ইরানের স্বার্থের ভিত্তিতে ‘কেস বাই কেস’ সহযোগিতার জন্য সংস্থাটির অনুরোধে সাড়া দেবে। তিনি আরও বলেন, এজেন্সির যেকোনো পরিদর্শন ইরানের ‘নিরাপত্তার’ উদ্বেগের পাশাপাশি পরিদর্শকদের নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে করা উচিত। তিনি বলেন, ‘তেজস্ক্রিয় উপাদানের বিস্তার এবং যুদ্ধ থেকে অবশিষ্ট গোলাবারুদের বিস্ফোরণের ঝুঁকি মারাত্মক।
তিনি ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এটা হতে পারে না।
ইসরায়েলের দাবি, তেহরান পরমাণু অস্ত্রের নাগালের মধ্যে ছিল বলেই তারা এ হামলা চালিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা মূল্যায়ন করেছিল যে ইরান সর্বশেষ ২০০৩ সালে একটি সংগঠিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়েছিল, যদিও তেহরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল – অস্ত্র-গ্রেড স্তরের ৯০ শতাংশ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত, প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মার্কিন বিমান হামলায় তার দেশের পরমাণু স্থাপনাগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শনের জন্য সেখানে যেতে পারেনি।























