ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজারে আগুন, বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 98

গত দুই-তিন সপ্তাহে মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম চড়া। সবচেয়ে বেশি উত্তাপ কাঁচা মরিচের দামে। এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে ডিম, পেঁয়াজ ও মুরগির দামও। নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।

রাজধানী ঢাকার খুচরা বাজারে ময়দা, ডাল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আদা, ডিম, মুরগি, গরু-খাসির মাংস এবং ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে চাপ বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের ওপর।

রাজধানীর খুচরা বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না, ফলে দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির। বিশেষ করে দাম বাড়তি কাঁচা মরিচের। কেজিপ্রতি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম বেড়েছে। এসব বাজারে বেগুন প্রকারভেদে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে ঝিঙা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা ও পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে লেবুর হালি ১০ থেকে ২০ টাকা, ধনেপাতা ৪০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, কাঁকরোল ৮০ টাকা, মুলা ৬০ ও মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে লাল শাক আঁটিতে ১০ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহ ছুটির দিনে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসেছেন আপনি সরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, মোটামুটি গত একমাস ধরে সবজির দাম খুব বেশি যাচ্ছে। আজকের বাজারে মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি দাম। বেশিরভাগ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে যদি সবজি এক কেজি করে কিনতাম এখন আধা কেজি কিনতে হচ্ছে। কি কারণে দাম বেড়েছে যে সে বিষয় নিয়ে কখনো দেখিনা বাজার মনিটরিং হতে। সেই সুযোগে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে সবজি বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম আদায় করছে।

সবজির দাম বিষয় রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা চাঁদ‌ মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে মাল কিনতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ সবজির সরবরাহ অনেক কম। মূলত কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে ঢাকার পাইকারি বাজারে তুলনামূলক কম সবজি আসছে। সে কারণে একটু দাম বেশি। এছাড়া কিছু কিছু সবজির মৌসুম শেষ হয়েছে, নতুন করে সেসব সবজি বাজারে উঠার আগ পর্যন্ত এগুলোর দাম বাড়তি থাকবে। আমরা পাইকারি বাজার থেকে যখন যে দামে কিনতে পারি, খুচরা বাজারে তেমন দামে বিক্রি হয়। যখন কম দামে কেনা পড়বে, তখন আমরাও খুচরা বাজারে কম দামেই বিক্রি করতে পারবো।

এসব বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহ ব্যবধানে ইলিশের দাম কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে। বাজারগুলোতে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২১০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৬০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ১৩০০ টাকা, ৩০০ গ্রামের ইলিশ ৯০০ টাকা, ১৫০ থেকে ২০০ গ্রামের ইলিশ ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক কেজি শিং চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, দেশি শিং ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, প্রতিকেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি প্রতিকেজি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, বোয়াল প্রতিকেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মসলা ও তেলের বাজারে। সয়াবিন তেল (লুজ) বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৭২ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬২ টাকা। পাম অয়েল ও সুপার পাম অয়েলের দামও বেড়েছে যথাক্রমে ১০ ও ১১ টাকা করে। খোলা ময়দার দাম বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০-৫৫ টাকা।

ডালের বাজারেও রয়েছে দামের উর্ধ্বগতি। মাঝারি মানের মশুর ডাল এখন ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, ছোট দানার ডাল ১৫৫ টাকা। আর বড় দানার ডাল কিছুটা সস্তায় ৯৫-১১০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব ডালের দাম ছিল তুলনামূলক কম।

মসলার বাজারেও লাগাম নেই। দেশি পেঁয়াজ এখন ৮৫ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৬৫ টাকায়। দেশি রসুন ১৬০ টাকা কেজি, আমদানি করা রসুন ২২০ টাকায়। আদা (আমদানি) বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। এলাচ কেজিপ্রতি ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে সব পণ্যের দাম যে বেড়েছে তা নয়। আলুর দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৩৫ টাকা।

অন্যদিকে, সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ময়দা (খোলা), সয়াবিন তেল (লুজ), পাম অয়েল লুজ, সুপার পাম অয়েল লুজ, মসুর ডাল (মাঝারী, ছোট), মুরগী ব্রয়লার পেঁয়াজ (দেশি), রশুন (আম), আদা (আম), এলাচ এবং ডিমের দাম বেড়েছে। আর আলু, রসুন (দেশি), এম এস রডের (৬০, ৪০ গ্রেড) দাম কিছুটা কমেছে।

বাজারে সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৩৭০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২২০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাজারে আগুন, বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

আপডেট সময় : ০১:০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

গত দুই-তিন সপ্তাহে মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম চড়া। সবচেয়ে বেশি উত্তাপ কাঁচা মরিচের দামে। এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে ডিম, পেঁয়াজ ও মুরগির দামও। নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।

রাজধানী ঢাকার খুচরা বাজারে ময়দা, ডাল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আদা, ডিম, মুরগি, গরু-খাসির মাংস এবং ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে চাপ বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের ওপর।

রাজধানীর খুচরা বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না, ফলে দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির। বিশেষ করে দাম বাড়তি কাঁচা মরিচের। কেজিপ্রতি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম বেড়েছে। এসব বাজারে বেগুন প্রকারভেদে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে ঝিঙা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা ও পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে লেবুর হালি ১০ থেকে ২০ টাকা, ধনেপাতা ৪০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, কাঁকরোল ৮০ টাকা, মুলা ৬০ ও মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে লাল শাক আঁটিতে ১০ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহ ছুটির দিনে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসেছেন আপনি সরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, মোটামুটি গত একমাস ধরে সবজির দাম খুব বেশি যাচ্ছে। আজকের বাজারে মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি দাম। বেশিরভাগ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে যদি সবজি এক কেজি করে কিনতাম এখন আধা কেজি কিনতে হচ্ছে। কি কারণে দাম বেড়েছে যে সে বিষয় নিয়ে কখনো দেখিনা বাজার মনিটরিং হতে। সেই সুযোগে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে সবজি বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম আদায় করছে।

সবজির দাম বিষয় রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা চাঁদ‌ মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে মাল কিনতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ সবজির সরবরাহ অনেক কম। মূলত কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে ঢাকার পাইকারি বাজারে তুলনামূলক কম সবজি আসছে। সে কারণে একটু দাম বেশি। এছাড়া কিছু কিছু সবজির মৌসুম শেষ হয়েছে, নতুন করে সেসব সবজি বাজারে উঠার আগ পর্যন্ত এগুলোর দাম বাড়তি থাকবে। আমরা পাইকারি বাজার থেকে যখন যে দামে কিনতে পারি, খুচরা বাজারে তেমন দামে বিক্রি হয়। যখন কম দামে কেনা পড়বে, তখন আমরাও খুচরা বাজারে কম দামেই বিক্রি করতে পারবো।

এসব বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহ ব্যবধানে ইলিশের দাম কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে। বাজারগুলোতে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২১০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৬০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ১৩০০ টাকা, ৩০০ গ্রামের ইলিশ ৯০০ টাকা, ১৫০ থেকে ২০০ গ্রামের ইলিশ ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক কেজি শিং চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, দেশি শিং ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, প্রতিকেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি প্রতিকেজি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, বোয়াল প্রতিকেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মসলা ও তেলের বাজারে। সয়াবিন তেল (লুজ) বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৭২ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬২ টাকা। পাম অয়েল ও সুপার পাম অয়েলের দামও বেড়েছে যথাক্রমে ১০ ও ১১ টাকা করে। খোলা ময়দার দাম বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০-৫৫ টাকা।

ডালের বাজারেও রয়েছে দামের উর্ধ্বগতি। মাঝারি মানের মশুর ডাল এখন ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, ছোট দানার ডাল ১৫৫ টাকা। আর বড় দানার ডাল কিছুটা সস্তায় ৯৫-১১০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব ডালের দাম ছিল তুলনামূলক কম।

মসলার বাজারেও লাগাম নেই। দেশি পেঁয়াজ এখন ৮৫ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৬৫ টাকায়। দেশি রসুন ১৬০ টাকা কেজি, আমদানি করা রসুন ২২০ টাকায়। আদা (আমদানি) বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। এলাচ কেজিপ্রতি ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে সব পণ্যের দাম যে বেড়েছে তা নয়। আলুর দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৩৫ টাকা।

অন্যদিকে, সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ময়দা (খোলা), সয়াবিন তেল (লুজ), পাম অয়েল লুজ, সুপার পাম অয়েল লুজ, মসুর ডাল (মাঝারী, ছোট), মুরগী ব্রয়লার পেঁয়াজ (দেশি), রশুন (আম), আদা (আম), এলাচ এবং ডিমের দাম বেড়েছে। আর আলু, রসুন (দেশি), এম এস রডের (৬০, ৪০ গ্রেড) দাম কিছুটা কমেছে।

বাজারে সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৩৭০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২২০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।