নিত্যপণ্যে ক্রেতার হাঁসফাঁস

- আপডেট সময় : ০২:২৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫
- / 112
বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠেছে। গত এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজ, ডাল, আটা, মুরগির ডিম, সোনালি মুরগি, মাছ ও বেশ কিছু সবজির দাম সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। আয়ের সঙ্গে সংগতি না থাকায় খাদ্যপণ্যের চড়া দামে দিশাহারা সাধারণ ক্রেতা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্রিয়তা ধারাবাহিক নয়।
ভোক্তারা এতে পণ্যের বাজারে প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছে না। তারা বলছে, বাজারে তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি করছেন। এখনই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে অস্থিরতা আরো বাড়বে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭.৫৬ শতাংশ, জুন মাসে যা ছিল ৭.৩৯ শতাংশ।
কয়েক দিন ধরে সব ধরনের সবজির দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে, যার প্রভাব আজও বাজারে দেখা গেছে। একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে মৌসুমের শেষ— এই দুই কারণের সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবজির চাহিদা আরও বেড়ে যাওয়ায় দাম চড়ছে বলে উল্লেখ করছেন বিক্রেতারা। এতে করে সবজি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের চিত্র নিম্ন তুলে ধরা হলো।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রীষ্মকালীন সবজির বাজার চড়া। সব ধরনের সবজি কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। এসব বাজারে বেগুন প্রকারভেদে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, বরবটি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে ঝিঙা ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা ও পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলা দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে লেবুর হালি ১০ থেকে ২০ টাকা, ধনেপাতা ৪০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, কাঁকরোল ১০০ টাকা, মুলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে লাল শাক ২৫ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে আদার দাম চড়া দেখা গেছে। দেশি আদা ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, চায়না আদা ২৬০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা, ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৪০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাজারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী খুরশিদ আলম। তিনি বলেন, আজকে বাজারে দেখছি সব ধরনের সবজির অতিরিক্ত দাম। বিগত কিছুদিন যাবত সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে, অথচ কী কারণে বাড়তি যাচ্ছে বা বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। যদি সবজির এত দাম হয়, তাহলে সাধারণ ক্রেতা খাবে কী?
এসব বাজারে সোনালি কক মুরগি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৩৪০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩১০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৬০ থেকে ৬৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা, হাঁসের ডিম ২৪০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মধ্যবাড্ডা কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা ফারজানা আক্তার বলেন, দুই সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার ১৬০ টাকায় কিনেছি, গত সপ্তাহে আবার ১৭০ টাকা এবং আজ ১৮৫ টাকা চাইছে। গরু-খাসির মাংস তো অনেক আগেই হাতের বাইরে চলে গেছে, এখন মুরগিও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
রামপুরা বাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী নাসির উদ্দিন বলেন, মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া, তাই মুরগির দিকে ঝুঁকেছিলাম। কিন্তু এই দাম চলতে থাকলে আর মুরগিও কিনতে পারব না।
তিনি বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম সর্বোচ্চ ১৩০/১৪০ টাকা হলেই যথেষ্ট। কিন্তু এই বাজরে সবসময় বড় একটা সিন্ডিকেট বিদ্যমান, যে কারণে বারবার দাম কমেও আবার বেড়ে যায়। শুক্রবার হলে যেহেতু বাজারে ত্রেতা বাড়ে, বিক্রেতারা জোট করে সেদিন দামও বাড়িয়ে দেয়।
এসব বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে সরবরাহ বাড়লেও গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বাজারগুলোতে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২১০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৬০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ১৩০০ টাকা, ৩০০ গ্রামের ইলিশ ৯০০ টাকা ও ১৫০ থেকে ২০০ গ্রামের ইলিশ ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক কেজি শিং চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, দেশি শিং ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকায় ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রোটিনের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকলে তাদের খাদ্যতালিকা থেকে মাছ-মাংস দ্রুতই বাদ পড়ে যাবে। তারা সরকারের কাছে বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন।
মাংস বিক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, সকাল থেকে মাংস ঝুলিয়ে রেখেছি, বিক্রি খুব একটা নেই। সাধারণত মানুষের আম-রোজগার কমে গেছে, যেকারণে গরুর মাংসের ক্রেতাও কমে গেছে। অধিকাংশ মানুষ মাছ-মুরগিতেই চলে গেছে।
বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় চলতি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়াতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে এবার পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। শুধু ভারত থেকে নয়, ব্যবসায়ীরা যেখান থেকে আমদানি করতে চাইবেন, সেখান থেকেই অনুমতি দেওয়া হবে।
আমাদের মূল উদ্দেশ্য পেঁয়াজের দাম কমানো ও সরবরাহ বাড়ানো। এ জন্য যেখানে দাম কম পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। দাম কমাতে আমাদের যতটুকু আমদানি করা দরকার, ততটুকুই আমদানি করা হবে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দেশ নেই।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন করে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আয় বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষ সংসার চালাতে খুব হিমশিম খায়। কয়েক অর্থবছর ধরে চলা এই উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবনে।
রাজধানীর রামপুরা কাঁচাবাজারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কথা হয়। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় আয় তেমন বাড়েনি। এতে বাসা ভাড়া দিতে ও খাদ্যপণ্য কিনতে খুব কষ্ট হচ্ছে। পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় এখন পরিবার নিয়ে চলা দায়। ব্যয় কাটছাঁট করেও সামলাতে পারছি না। প্রতি মাসে ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে।’
ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভলান্টারি কনজিউমারস ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটির (ভোক্তা) নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে প্রায় প্রত্যেকটি পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস-ডিম কোনো কিছুর দামই স্থিতিশীল নেই। শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণিও আজ নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় হিমশিম খাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা, ডলারসংকট, সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত এবং অদক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণ সব মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুদদারির কারণে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।’
খলিলুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে জীবনযাপন করছি, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গত বছরের জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে। এ সময় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেকের জন্য আরো জটিল হয়ে উঠেছে। গত এক বছরে বহু মানুষের আয় কমেছে, অনেকে চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে, আবার কারো আয় স্থির থাকলেও খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এতে দৈনন্দিন খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য অসহনীয় চাপ তৈরি করেছে।’
ভোক্তার নির্বাহী পরিচালক বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে হলে বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। প্রথমত, বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে; প্রশাসনিক পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি, নিয়মিত মনিটরিং এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, অসাধু মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; শাস্তির ভয় কার্যকর না হলে কৃত্রিম সংকট ও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা রোধ করা যাবে না। তৃতীয়ত, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে আমদানিনির্ভরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমে। বিশেষ করে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ও সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। চতুর্থত, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরো বিস্তৃত করতে হবে, যাতে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচির আওতায় পর্যাপ্ত সহায়তা পায়। এসব পদক্ষেপ একসঙ্গে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দ্রব্যমূল্যের চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
রাজধানীর খুচরা বাজার এবং সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির ১৪ আগস্ট ও ১৪ জুলাইয়ের বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে এক মাসের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে ১৫০ টাকায় উঠেছে।
দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে মসুর ডালের দামও। দেশি মসুর ডালের দাম কেজিতে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়ে এখন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। খোলা আটার দাম কেজিতে ১২ শতাংশ বেড়ে ৪৫ টাকা। সোনালি মুরগির দাম এমনিতেই বাড়তি ছিল, নতুন করে ৭ থেকে ১০ শতাংশ বেড়ে এখন ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে সব ধরনের মাছ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের রুই মাছের দাম এক মাসের ব্যবধানে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়ে প্রতিকেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা হয়েছে। সরবরাহসংকটে বাজারে এখন আলু ও পেঁপে ছাড়া সব ধরনের সবজি বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ বেড়ে মানভেদে (লম্বা ও গোল বেগুন) ১০০ থেকে ১৪০ টাকা হয়েছে। রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে গোল বেগুন ১৮০ টাকা কেজি।
উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সবজির হাট মহাস্থান ঘুরে জানা গেছে, পাইকারিতে গতকাল বেগুন বিক্রি হয়েছে ২৬০০-২৮০০ টাকা মণ দরে। অথচ দুই মাস আগে এই বেগুন ছিল ১০০০-১১০০ টাকা। করলা ছিল ১২০০-১৪০০ টাকা মণ, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০০-৩২০০ টাকা; বরবটি ছিল ৩২ টাকা কেজি, এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে; শসা আগে ছিল ৫০০-৬০০ টাকা মণ, এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০০-১৮০০ টাকা দরে।
মহাস্থান হাটের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, টানা অতি বৃষ্টির কারণে একদিকে কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে কৃষক ঠিকমতো সবজি আবাদ করতে পারেনি। এ জন্য সবজির বাজার চড়া।
























