কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ভিড়

- আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৬ অপরাহ্ন, রোববার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 258
মৌসুম শুরু হতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটছে পঞ্চগড় জেলার সীমান্ত শহর তেঁতুলিয়ায়। সেখানে শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে ভিড় করছেন তারা।
হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এখানকার আবহাওয়া ঠাণ্ডা। শীতকালের ৪ মাস জুড়েই এখানকার তাপমাত্রা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। ফলে শীত সাধারণ পর্যটকের কাছে হয়ে পড়ে উপভোগের বিষয়। ফলে মৌসুম শুরু হতেই দলবেঁধে আগমন ঘটছে পর্যটকদের।
জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে দেখা মিলছে না কাঞ্চনজঙ্ঘার। দিনেরাতে তাকে ঘিরে ধরে রেখেছে মেঘমালা। একটি মেঘ সরে গেলে আরেকটি মেঘ এসে সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও সমতলের চা বাগান, রূপপুরের কাজে অ্যান্ড কাজীর আনন্দ ধারা, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, সীমান্ত নদী, মহানন্দার নীল নুড়ি, পাথর উত্তোলনের দৃশ্য, নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ভারতীয় সার্চ লাইটের তির্যক আলোক রশ্নি, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো ও তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নারসহ নানা দর্শনীয় স্থান দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকরা।
পাবনায় ট্রাক চাপায় স্কুল শিক্ষার্থীসহ নিহত ৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা সুমন রাব্বি নওশাদ জানান, আগেও তেঁতুলিয়ায় এসেছিলাম। তখন এই তেঁতুলিয়া ছিল অবহেলিত। তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এবার এসে দেখি একেবারে অন্যরকম রূপ। রাতে তেঁতুল তলায় বর্ণিল আলো জ্বললে মনে হয় না এটি সেই পুরনো গাছ। যেন নতুন এক সৃষ্টি। খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। মনে হয় সারারাত এখানে বসে সৌন্দর্য উপভোগ করি। তবে এবার তেঁতুলিয়ার মূল আকর্ষণ কাঞ্চনজঙ্ঘা নজরে আসেনি। বন্ধুবান্ধব নিয়ে ভোররাত থেকে তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলায় হাজির হলেও মেঘের কারণে ঢেকে ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, স্বাধীনতার তীর্থ ভূমি তেঁতুলিয়া ডাক বাংলোর অবয়ব প্রজন্মের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক তেঁতুল গাছটি এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্মৃতি বহন করে। দিনে মানুষ গাছের ছায়ায় বসে, আর রাতে আলোকসজ্জার কারণে উপভোগ করে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। আমরা গাছটির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করেছি। পর্যটকরা এতে আনন্দ পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, তেঁতুলিয়ার পর্যটনকে নতুন রূপ দিতে শুধু তেঁতুল গাছ নয়, পাশাপাশি আরও নানা প্রকল্প নেয়া হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার ও মহানন্দা পার্ক ঢেলে সাজাচ্ছি। মহানন্দা নদীর ধারে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। শিশুদের জন্য নির্মিত হচ্ছে আলাদা পার্ক। আমরা চাই, তেঁতুলিয়া পর্যটকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গন্তব্য হয়ে উঠুক।























