‘খাজার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে’, বললেন স্মিথ
- আপডেট সময় : ১২:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 59
সিডনি টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তরের পুরো পর্বটাই হলো অবসরের ঘোষণা দেওয়া উসমান খাজাকে নিয়ে। ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার অ্যাশেজের শেষ টেস্ট খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলার আগে পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত অজি দলের প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার তাঁর সঙ্গে হওয়া বর্ণবাদী আচারণ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন। তাঁর করা গুরুতর অভিযোগ নিয়েই এখন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে যত আলোচনা।
খাজার বহু অভিযোগের মধ্যে একটি ছিল তাকে প্রায়ই দলের বাইরে রাখা। খাজা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারে ৮ বার দল থেকে বাদ পড়েছেন। চলতি অ্যাশেজ সিরিজেও একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে বাঁহাতি ব্যাটারকে। পার্থ টেস্টের আগে গলফ খেলতে গিয়ে চোট পান খাজা। এরপর সাবেক অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারের সমালোচনা হজম করতে হয় তাকে। এ নিয়েও প্রতিবাদ করেন খাজা। তাঁর মতে, অন্য কোনো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারকে এমন আচারণের মুখোমুখি হতে হতো না।
অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্মিথকে এ ব্যাপারে পাশে পাচ্ছেন খাজা। খাজার সমালোচনা অত্যন্ত কঠিন হলেও, সতীর্থের অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি স্মিথ, ‘আমি উসমান খাজার মনে প্রবেশ করতে চাই না। যে বিষয়গুলো বলা হয়েছে, যেমন ম্যাচের আগের দিন গলফ খেলায় তিনি চোট পেয়েছেন—সেটা অন্যায় হয়েছে। আমি মনে করি, তিনি ১৫ বছর ধরেই এটি করেছেন এবং একটি দারুণ ক্যারিয়ার গড়েছেন।
ক্যারিয়ারে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করতে হয়েছে ৮৭ টেস্ট খেলা খাজাকে। এই সংস্করণে ৬ হাজারের বেশি রান করা খাজা আসা যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন অস্ট্রেলিয়া দলে। আর এ কারণেই নাকি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে ‘ঘৃণা’ করেন খাজা। ২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে খাজার বাদ পড়ার ঘটনা মনে করিয়ে এমনটাই বলেন স্মিথ।
এছাড়া ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজেও বাদ পড়েন খাজা। মূলত দক্ষিণ এশিয়া তখন তাঁর স্পিনারদের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই নাকি বাদ পড়েন। অবশ্য খাজার জন্য সেটা শাপেবর হয়ে যায়। স্পিনারদের মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ নেওয়া খাজা এরপর এতটাই দারুণ খেলেন যে সাবকন্টিনেন্টে পাঁচটির বেশি টেস্ট খেলা কোনো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড়ে রানের মালিক বনে যান।
২০১৭ সালের সেই ঘটনা নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘সে এটার (বাদ পড়া) জন্য আমাদের ঘৃণা করে। কিন্তু সে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে খেলার কৌশল বা উপায় বের করার সুযোগও পেয়েছে। যদি খাজারা ধারাবাহিকভাবে খেলতে থাকতেন, তাহলে কি সে নিজে থেকেই এই নতুন কৌশলগুলো আবিষ্কার করতে পারতেন কি না আমি নিশ্চিত নই।’
জল্পনা-কল্পনার ইতি ঘটিয়ে অবসরের ঘোষণা খাজার
অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক খাজার প্রশংসা করতেও কার্পণ্য করেননি। প্রায় ২০ বছর আগে, প্রথমবার খাজাকে খেলতে দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তখন থেকেই নাকি আন্দাজ করেছিলেন যে বাঁ-হাতি এই ব্যাটার ক্রিকেটে কী অর্জন করতে পারেন, ‘সে একটি অসাধারণ ক্যারিয়ার গড়েছে। আমরা জানতাম, সে ছোটবেলাতেই অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। আমি মনে করি, নিউ সাউথ ওয়েলসের অনুর্ধ্ব-১৭ বনাম অনুর্ধ্ব-১৯ ম্যাচে তার সঙ্গে খেলেছি এবং তাকে ব্যাট করতে দেখেছি। যেভাবে সে বল খেলত, আমি ভাবতাম, এই খেলোয়াড় লেন্থ ধরার ক্ষেত্রে যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে দ্রুত। দীর্ঘ সময় ধরে তার উন্নতি সত্যিই অসাধারণ।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ক্রিকেটার খাজা বলেছিলেন তাঁর সঙ্গে দলের অন্য খেলোয়াড়দের থেকে আলাদা আচরণ করা হয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি স্মিথ।
আগামীকাল অ্যাশেজের শেষ টেস্ট। ১৬ সেঞ্চুরি, ৬ হাজারের বেশি রান ও ৪৩.৩৯ গড়ে ব্যাট করা খাজারও শেষ। মাঠের লড়াইয়ের সঙ্গে বাইরের জগতেও লড়ে যাওয়া খাজা বিদায়ের মঞ্চ রাঙিয়ে যাবেন, এমনটাই তো চাওয়া নিখাদ কোনো ক্রিকেটপ্রেমীর।



























পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, গেজেট চলতি মাসেই