ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোস্তাফিজের জাদুতে রংপুরের ‘ব্যাক টু ব্যাক’ জয়

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 166
186

শেষ ওভারে প্রয়োজন ১০ রান। ব্যাটিংয়ে ঝড়ো ফিফটি করা মোহাম্মদ মিঠুন ও আগের ওভারে চার-ছক্কা মারা সাব্বির রহমান। তাতে মোস্তাফিজুর রহমানের থোড়াই কেয়ার! কাটার মাস্টারের শেষ ওভারে কোন বাউন্ডারিই মারতে পারল না ঢাকা ক্যাপিটালসের দুই ব্যাটার। দারুণ জয় পেল রংপুর রাইডার্স।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকাকে ৫ রানে হারায় রংপুর। আগে ব্যাট করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফিফটিতে ১৫৫ রানের পুঁজি পায় রংপুর। পরে মোস্তাফিজের জাদুতে ঢাকাকে ১৫০ রানে থামিয়ে দেয় নুরুল হাসান সোহানের দল।

চার ম্যাচে রংপুরের এটি তৃতীয় জয়। নেট রান রেটে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে তারা। সমান ম্যাচে ঢাকার এটি তৃতীয় পরাজয়। টেবিলে ছয় দলের মধ্যে পাঁচ নম্বরে তারা।

রান তাড়ায় ঢাকাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৩ রান করে ফেলে তারা। সপ্তম ওভারে গুরবাজকে আউট করেন কাইল মায়ার্স। ২২ বলে ৩১ রান করে ফেরেন আফগান তারকা।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস

গুরবাজের বিদায়ের পর আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৮ বলে তিনি করেন ২০ রান। এরপর দায়িত্ব নেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। সাইফ হাসানের সঙ্গে তিনি গড়েন ৫৩ রানের জুটি।

এই জুটিতে অগ্রণী ভূমিকা মিঠুনের। মাত্র ২৭ বলে তিনি করেন ৪১ রান। অন্য দিকে সাইফের অবদান ২০ বলে মাত্র ১২ রান। সব মিলিয়ে ১৫ রান করতে ২৪ বল খেলে আউট হন সাইফ। তখন জয়ের জন্য ২৯ বলে ৪৫ রান প্রয়োজন ছিল ঢাকার।

চমৎকার ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩২ বলে বিপিএল ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি পূরণ করেন। মিঠুন। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে একদমই সমর্থন পাননি। ১০ বলে ১১ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন শামীম হোসেন।

শেষ দুই ওভারে বাকি থাকে ২৩ রান। ১৯তম ওভারে ১৩ রান নিলেও শেষ ওভারে মোস্তাফিজের সামনে কিছুই করতে পারেননি মিঠুন ও সাব্বির। চমৎকার জয়ে মাঠ ছাড়ে রংপুর।

ডেথে দুই ওভারে মাত্র ৬ রানসহ সব মিলিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন মোস্তাফিজ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি রংপুরের। তৃতীয় ওভারে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন কাইল মায়ার্স। পরে পাওয়ার প্লে শেষ ওভারে লাগে জোড়া ধাক্কা। জিয়াউর রহমানের পরপর দুই বলে আউট হন লিটন কুমার দাস ও তাওহিদ হৃদয়।

পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে মাত্র ৩৪ করতে পারে রংপুর। সেখান থেকে স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউটের ৯ ওভার পর্যন্ত স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৪১ রান।

এরপর দাভিদ মালানকে নিয়ে মাহমুদউল্লাহর পাল্টা আক্রমণের শুরু। পরের ৩২ বলে ৬৩ রান করে ফেলে রংপুর। ১৫তম ওভারে পূর্ণ হয় দলের একশ রান। ইমাদ ওয়াসিমের বলে ছক্কা মেরে পরের বলেই আউট হয়ে যান ৩৩ বলে ৩৩ রান করা মালান।

কিছুক্ষণ পর ৪০ বলে বিপিএলে নিজের ১৫তম ও সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি করেন মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চাশ করেই অবশ্য আউট হয়ে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার। ৭ চারে তার ব্যাট থেকে আসে ৪১ বলে ৫১ রান।

শেষ দিকে তাণ্ডব চালান খুশদিল শাহ। ৪ চার ও ২ ছক্কায় তার ২১ বলে ৩৮ রানের সৌজন্যে দেড়শ পার করে রংপুর।

ঢাকার পক্ষে ২টি উইকেট নেন জিয়াউর রহমান শরিফি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৫৫/৫ (মায়ার্স ১১, লিটন ৬, মালান ৩৩, হৃদয়, ০, মাহমুদউল্লাহ ৫১, খুশদিল ৩৮*, সোহান ৭*; ইমাদ ৪-০-২০-১, তাসকিন ৪-০-৩৫-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-২৯-১, জিয়াউর ৪-০-৩৫-২, নাসির ৩-০-১৫-০, সাইফ ১-০-১৪-০)

ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৫০/৪ (গুরবাজ ৩১, মামুন ২০, সাইফ ১৫, মিঠুন ৫৬*, শামীম ১১, সাব্বির ১২*; মায়ার্স ২-০-৭-১, আলিস ৪-০-৩৮-১, আকিফ ৪-০-৩৪-০, রকিবুল ৩-০-২৬-০, মোস্তাফিজ ৪-০-২৩-১, খুশদিল ৩-০-১৯-১)

ফল: রংপুর রাইডার্স ৫ রানে জয়ী

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মোস্তাফিজের জাদুতে রংপুরের ‘ব্যাক টু ব্যাক’ জয়

আপডেট সময় : ১০:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
186

শেষ ওভারে প্রয়োজন ১০ রান। ব্যাটিংয়ে ঝড়ো ফিফটি করা মোহাম্মদ মিঠুন ও আগের ওভারে চার-ছক্কা মারা সাব্বির রহমান। তাতে মোস্তাফিজুর রহমানের থোড়াই কেয়ার! কাটার মাস্টারের শেষ ওভারে কোন বাউন্ডারিই মারতে পারল না ঢাকা ক্যাপিটালসের দুই ব্যাটার। দারুণ জয় পেল রংপুর রাইডার্স।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকাকে ৫ রানে হারায় রংপুর। আগে ব্যাট করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফিফটিতে ১৫৫ রানের পুঁজি পায় রংপুর। পরে মোস্তাফিজের জাদুতে ঢাকাকে ১৫০ রানে থামিয়ে দেয় নুরুল হাসান সোহানের দল।

চার ম্যাচে রংপুরের এটি তৃতীয় জয়। নেট রান রেটে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে তারা। সমান ম্যাচে ঢাকার এটি তৃতীয় পরাজয়। টেবিলে ছয় দলের মধ্যে পাঁচ নম্বরে তারা।

রান তাড়ায় ঢাকাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৩ রান করে ফেলে তারা। সপ্তম ওভারে গুরবাজকে আউট করেন কাইল মায়ার্স। ২২ বলে ৩১ রান করে ফেরেন আফগান তারকা।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস

গুরবাজের বিদায়ের পর আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৮ বলে তিনি করেন ২০ রান। এরপর দায়িত্ব নেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। সাইফ হাসানের সঙ্গে তিনি গড়েন ৫৩ রানের জুটি।

এই জুটিতে অগ্রণী ভূমিকা মিঠুনের। মাত্র ২৭ বলে তিনি করেন ৪১ রান। অন্য দিকে সাইফের অবদান ২০ বলে মাত্র ১২ রান। সব মিলিয়ে ১৫ রান করতে ২৪ বল খেলে আউট হন সাইফ। তখন জয়ের জন্য ২৯ বলে ৪৫ রান প্রয়োজন ছিল ঢাকার।

চমৎকার ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩২ বলে বিপিএল ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি পূরণ করেন। মিঠুন। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে একদমই সমর্থন পাননি। ১০ বলে ১১ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন শামীম হোসেন।

শেষ দুই ওভারে বাকি থাকে ২৩ রান। ১৯তম ওভারে ১৩ রান নিলেও শেষ ওভারে মোস্তাফিজের সামনে কিছুই করতে পারেননি মিঠুন ও সাব্বির। চমৎকার জয়ে মাঠ ছাড়ে রংপুর।

ডেথে দুই ওভারে মাত্র ৬ রানসহ সব মিলিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন মোস্তাফিজ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি রংপুরের। তৃতীয় ওভারে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন কাইল মায়ার্স। পরে পাওয়ার প্লে শেষ ওভারে লাগে জোড়া ধাক্কা। জিয়াউর রহমানের পরপর দুই বলে আউট হন লিটন কুমার দাস ও তাওহিদ হৃদয়।

পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে মাত্র ৩৪ করতে পারে রংপুর। সেখান থেকে স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউটের ৯ ওভার পর্যন্ত স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৪১ রান।

এরপর দাভিদ মালানকে নিয়ে মাহমুদউল্লাহর পাল্টা আক্রমণের শুরু। পরের ৩২ বলে ৬৩ রান করে ফেলে রংপুর। ১৫তম ওভারে পূর্ণ হয় দলের একশ রান। ইমাদ ওয়াসিমের বলে ছক্কা মেরে পরের বলেই আউট হয়ে যান ৩৩ বলে ৩৩ রান করা মালান।

কিছুক্ষণ পর ৪০ বলে বিপিএলে নিজের ১৫তম ও সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি করেন মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চাশ করেই অবশ্য আউট হয়ে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার। ৭ চারে তার ব্যাট থেকে আসে ৪১ বলে ৫১ রান।

শেষ দিকে তাণ্ডব চালান খুশদিল শাহ। ৪ চার ও ২ ছক্কায় তার ২১ বলে ৩৮ রানের সৌজন্যে দেড়শ পার করে রংপুর।

ঢাকার পক্ষে ২টি উইকেট নেন জিয়াউর রহমান শরিফি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৫৫/৫ (মায়ার্স ১১, লিটন ৬, মালান ৩৩, হৃদয়, ০, মাহমুদউল্লাহ ৫১, খুশদিল ৩৮*, সোহান ৭*; ইমাদ ৪-০-২০-১, তাসকিন ৪-০-৩৫-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-২৯-১, জিয়াউর ৪-০-৩৫-২, নাসির ৩-০-১৫-০, সাইফ ১-০-১৪-০)

ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৫০/৪ (গুরবাজ ৩১, মামুন ২০, সাইফ ১৫, মিঠুন ৫৬*, শামীম ১১, সাব্বির ১২*; মায়ার্স ২-০-৭-১, আলিস ৪-০-৩৮-১, আকিফ ৪-০-৩৪-০, রকিবুল ৩-০-২৬-০, মোস্তাফিজ ৪-০-২৩-১, খুশদিল ৩-০-১৯-১)

ফল: রংপুর রাইডার্স ৫ রানে জয়ী