ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই সরকার ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে: আসিফ নজরুল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 56

ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার— এমন মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সরকারের সাফল্য নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু আপনাদের কি কিছু জিনিস কখনো চোখে পড়েনি? এ সরকার এসে ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলতে পারছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। এটা আমাদের কোনো অর্জন না?’

তিনি বলেন, ‘জনভোগান্তি কমাতে সরকার এ পর্যন্ত বিশ হাজার হয়রানিমূলক মামলা নিষ্পত্তি করেছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই আইন, বিচার ও শাসন ব্যবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গেল ষোলো মাসে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং এর স্বীকার হয়েছি আমি।’

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

তিনি বলেন, আমরা একটা গুম কমিশন করেছি। এটা অসাধারণভাবে কাজ করেছে। এই কমিশনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা একটা হিউম্যান রাইটস কমিশন ল করেছি। আমি আপনাদের প্রত্যয়ের সঙ্গে বলি, দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো হিউম্যান রাইটস আইনের চেয়ে আমাদের আইনটা বেটার হয়েছে। আমরা এই আইন অনুযায়ী অচিরেই হিউম্যান রাইটস কমিশনে নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। এটা কি কোনো সংস্কার না? আমাদের এই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ম্যানেজমেন্ট একটা বিশাল ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সেরা মানবাধিকার আইন বাংলাদেশের বলেও জানান আসিফ নজরুল।

এসময় সবাইকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কিছু কাজের বিবরণ দিয়ে শ্রোতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন উত্থাপন করে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের যে রিজার্ভ বেড়েছে, আমাদের যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আছে, আমাদের যে ব্যাংকিং খাতে ভগ্নপ্রায়, বিধ্বস্ত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং আস্থা ফিরে এসেছে এগুলি কোনো সাফল্য না? আমাদের যে ২০ হাজারেরও বেশি হয়রানিমূলক মামলা, যেখানে প্রায় ৫ লাখ আসামি ছিল বিরোধীদলের, ভিন্নমতের। সেই মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এগুলো কি কোনো সাফল্য না?

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতারা, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। মব সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

এই সরকার ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে: আসিফ নজরুল

আপডেট সময় : ০৩:৪২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার— এমন মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সরকারের সাফল্য নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু আপনাদের কি কিছু জিনিস কখনো চোখে পড়েনি? এ সরকার এসে ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলতে পারছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। এটা আমাদের কোনো অর্জন না?’

তিনি বলেন, ‘জনভোগান্তি কমাতে সরকার এ পর্যন্ত বিশ হাজার হয়রানিমূলক মামলা নিষ্পত্তি করেছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই আইন, বিচার ও শাসন ব্যবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গেল ষোলো মাসে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং এর স্বীকার হয়েছি আমি।’

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

তিনি বলেন, আমরা একটা গুম কমিশন করেছি। এটা অসাধারণভাবে কাজ করেছে। এই কমিশনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা একটা হিউম্যান রাইটস কমিশন ল করেছি। আমি আপনাদের প্রত্যয়ের সঙ্গে বলি, দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো হিউম্যান রাইটস আইনের চেয়ে আমাদের আইনটা বেটার হয়েছে। আমরা এই আইন অনুযায়ী অচিরেই হিউম্যান রাইটস কমিশনে নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। এটা কি কোনো সংস্কার না? আমাদের এই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ম্যানেজমেন্ট একটা বিশাল ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সেরা মানবাধিকার আইন বাংলাদেশের বলেও জানান আসিফ নজরুল।

এসময় সবাইকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কিছু কাজের বিবরণ দিয়ে শ্রোতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন উত্থাপন করে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের যে রিজার্ভ বেড়েছে, আমাদের যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আছে, আমাদের যে ব্যাংকিং খাতে ভগ্নপ্রায়, বিধ্বস্ত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং আস্থা ফিরে এসেছে এগুলি কোনো সাফল্য না? আমাদের যে ২০ হাজারেরও বেশি হয়রানিমূলক মামলা, যেখানে প্রায় ৫ লাখ আসামি ছিল বিরোধীদলের, ভিন্নমতের। সেই মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এগুলো কি কোনো সাফল্য না?

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতারা, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। মব সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।