ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নাক গলানোর দরকার নেই, ইউরোপকে বললেন ট্রাম্প

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 101
117

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউরোপীয় নেতাদের গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নিয়ে নাক গলানোর দরকার নেই। বরং তাদের ইউক্রেন সংঘাতের দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ফোনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিম ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করেন, কারণ তারা ডেনমার্কের ওই ভূখণ্ডটি অধিগ্রহণের তার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছেন। ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।

“ইউরোপের উচিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের দিকে মনোযোগ দেওয়া, কারণ সত্যি বলতে গেলে, আপনি দেখতেই পাচ্ছেন এতে তারা কী পেয়েছে,” ট্রাম্প বলেন। “ইউরোপের এ বিষয়েই মনোযোগ দেওয়া উচিত—গ্রিনল্যান্ড নয়।”

পলিটিকো সোমবার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের জন্য ইউক্রেন নিয়ে প্রস্তুত করা বক্তব্য থেকে সরে আসছে ইইউ ও ন্যাটো প্রতিনিধিদলগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন “গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবই আলোচনার শীর্ষে থাকবে।”

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করা এবং আর্কটিক দ্বীপটিতে সামরিক মহড়ায় সেনা পাঠানোর কারণে আটটি ইউরোপীয় ন্যাটো দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগে আমন্ত্রণ পেলেন পুতিন

গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি ট্রাম্প। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনবিসিকে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য নেই।” এর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে দ্বীপটি তিনি “সহজ পথে” অথবা “কঠিন পথে” নেবেন।

সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড ইস্যু পশ্চিম ইউরোপীয় নেতাদের প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে, ইউক্রেন সংঘাতকে ছাপিয়ে। ইউরোপীয় নেতারা দাবি করেন, রাশিয়া একটি সামরিক হুমকি—তবে মস্কো এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, কিয়েভকে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহ তাদের সংঘাতের সরাসরি পক্ষ বানিয়েছে। মস্কোর মতে, এটি ইউক্রেনীয় জনশক্তি ব্যবহার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চালানো একটি প্রক্সি যুদ্ধ।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ রোববার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেও ইউরোপীয় দেশগুলোর কিয়েভকে অব্যাহত সামরিক সহায়তা দেওয়া তাদের “শান্তির প্রধান বাধা” করে তুলেছে। শীর্ষ এই কূটনীতিকের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রকাশ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: আরটি

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নাক গলানোর দরকার নেই, ইউরোপকে বললেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০২:২৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
117

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউরোপীয় নেতাদের গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নিয়ে নাক গলানোর দরকার নেই। বরং তাদের ইউক্রেন সংঘাতের দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ফোনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিম ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করেন, কারণ তারা ডেনমার্কের ওই ভূখণ্ডটি অধিগ্রহণের তার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছেন। ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।

“ইউরোপের উচিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের দিকে মনোযোগ দেওয়া, কারণ সত্যি বলতে গেলে, আপনি দেখতেই পাচ্ছেন এতে তারা কী পেয়েছে,” ট্রাম্প বলেন। “ইউরোপের এ বিষয়েই মনোযোগ দেওয়া উচিত—গ্রিনল্যান্ড নয়।”

পলিটিকো সোমবার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের জন্য ইউক্রেন নিয়ে প্রস্তুত করা বক্তব্য থেকে সরে আসছে ইইউ ও ন্যাটো প্রতিনিধিদলগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন “গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবই আলোচনার শীর্ষে থাকবে।”

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করা এবং আর্কটিক দ্বীপটিতে সামরিক মহড়ায় সেনা পাঠানোর কারণে আটটি ইউরোপীয় ন্যাটো দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগে আমন্ত্রণ পেলেন পুতিন

গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি ট্রাম্প। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনবিসিকে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য নেই।” এর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে দ্বীপটি তিনি “সহজ পথে” অথবা “কঠিন পথে” নেবেন।

সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড ইস্যু পশ্চিম ইউরোপীয় নেতাদের প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে, ইউক্রেন সংঘাতকে ছাপিয়ে। ইউরোপীয় নেতারা দাবি করেন, রাশিয়া একটি সামরিক হুমকি—তবে মস্কো এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, কিয়েভকে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহ তাদের সংঘাতের সরাসরি পক্ষ বানিয়েছে। মস্কোর মতে, এটি ইউক্রেনীয় জনশক্তি ব্যবহার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চালানো একটি প্রক্সি যুদ্ধ।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ রোববার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেও ইউরোপীয় দেশগুলোর কিয়েভকে অব্যাহত সামরিক সহায়তা দেওয়া তাদের “শান্তির প্রধান বাধা” করে তুলেছে। শীর্ষ এই কূটনীতিকের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রকাশ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: আরটি