ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ফাত্তাহ–২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অসম্ভব: রিপোর্ট

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / 57

ইরানের তৈরি ‘ফাত্তাহ–২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমান বিশ্বের বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রায় অপ্রতিরোধ্য—এমন দাবি উঠে এসেছে সামরিক বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়েবসাইট মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ‘ফাত্তাহ–২’ একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (এইচজিভি), যা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচারিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলগুলো অত্যন্ত উচ্চ গতিতে চলার পাশাপাশি দিক ও উচ্চতা পরিবর্তন করে কৌশলগতভাবে চলাচল করতে সক্ষম। চরম গতিবেগ এবং জটিল কৌশলগত ম্যানুভারের কারণে এগুলোকে বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব।

ইসরায়েলি সূত্র থেকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১ মার্চের পর থেকে অন্তত তিনটি সফল ‘ফাত্তাহ–২’ হামলা উচ্চমূল্যের ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

এতে আরও বলা হয়, পুরোনো ধরনের ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগেই চাপে ছিল। একই সঙ্গে তাদের হাতে থাকা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাও সীমিত।

প্রতিবেদনে ইসরায়েলের শীর্ষ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্স ডিফেন্স সিস্টেমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ভ বাসেস্কির ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। তিনি বলেন, ‘হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন যুগের সূচনা করেছে। বর্তমানে সব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই লক্ষ্যবস্তুর চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়ে সেটিকে প্রতিহত করার নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কিন্তু মাখ ১০ গতিতে চলা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হলে মাখ ৩০ গতির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দরকার, যা বায়ুমণ্ডলে ঘর্ষণের কারণে কার্যত অসম্ভব।’

তিনি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ‘জোন ডিফেন্স’ মডেলের প্রস্তাব দেন, যেখানে নির্দিষ্ট এলাকায় একাধিক ইন্টারসেপ্টর মোতায়েন করে হুমকি কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করা হবে।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল এখনো এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। এমনকি পর্যাপ্ত অর্থায়ন পেলেও এটি বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে এবং ব্যয় হতে পারে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার।

সবশেষে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ‘ফাত্তাহ–২’ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে।’ সূত্র: প্রেস টিভি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ফাত্তাহ–২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অসম্ভব: রিপোর্ট

আপডেট সময় : ১০:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের তৈরি ‘ফাত্তাহ–২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমান বিশ্বের বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রায় অপ্রতিরোধ্য—এমন দাবি উঠে এসেছে সামরিক বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়েবসাইট মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ‘ফাত্তাহ–২’ একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (এইচজিভি), যা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচারিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলগুলো অত্যন্ত উচ্চ গতিতে চলার পাশাপাশি দিক ও উচ্চতা পরিবর্তন করে কৌশলগতভাবে চলাচল করতে সক্ষম। চরম গতিবেগ এবং জটিল কৌশলগত ম্যানুভারের কারণে এগুলোকে বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব।

ইসরায়েলি সূত্র থেকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১ মার্চের পর থেকে অন্তত তিনটি সফল ‘ফাত্তাহ–২’ হামলা উচ্চমূল্যের ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

এতে আরও বলা হয়, পুরোনো ধরনের ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগেই চাপে ছিল। একই সঙ্গে তাদের হাতে থাকা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাও সীমিত।

প্রতিবেদনে ইসরায়েলের শীর্ষ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্স ডিফেন্স সিস্টেমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ভ বাসেস্কির ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। তিনি বলেন, ‘হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন যুগের সূচনা করেছে। বর্তমানে সব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই লক্ষ্যবস্তুর চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়ে সেটিকে প্রতিহত করার নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কিন্তু মাখ ১০ গতিতে চলা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হলে মাখ ৩০ গতির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দরকার, যা বায়ুমণ্ডলে ঘর্ষণের কারণে কার্যত অসম্ভব।’

তিনি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ‘জোন ডিফেন্স’ মডেলের প্রস্তাব দেন, যেখানে নির্দিষ্ট এলাকায় একাধিক ইন্টারসেপ্টর মোতায়েন করে হুমকি কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করা হবে।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল এখনো এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। এমনকি পর্যাপ্ত অর্থায়ন পেলেও এটি বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে এবং ব্যয় হতে পারে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার।

সবশেষে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ‘ফাত্তাহ–২’ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে।’ সূত্র: প্রেস টিভি