ইরানে ১ হাজার ৩৩২ বেসামরিক নাগরিক নিহত

- আপডেট সময় : ০১:২২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
- / 67
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। বিপরীতে ইরান কোনো বেসামরিক নাগরিক নয়, বরং কেবল সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।
অন্যদিকে, বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার যেসব অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরাভানি। তিনি বলেন, তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাধা বা হস্তক্ষেপের কারণে কিছু হামলা তাদের মূল সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে সরে গিয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থে আঘাত হানার কোনো লক্ষ্য ইরানের নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ,যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান
চলমান এ যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অবশ্যই তাদের কাছে “গ্রহণযোগ্য” হতে হবে এবং এ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তার মতামত থাকতে হবে।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যেকে ইরাভানি জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই কেবল ইরানি জনগণের ইচ্ছায় এবং দেশের সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই ইরানের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।
এদিকে, ট্রাম্পের এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংঘাত অবসানের কূটনৈতিক তৎপরতার প্রথম ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন যে, সংঘাত নিরসনে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ শুরু করেছে। অন্যদিকে, শনিবার ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে বেশ কয়েকজন শিশু নিহত হয়। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন এই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
























