ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ১৬৮ স্কুলছাত্রীকে যেভাবে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / 81

ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব জেলায় একটি গার্লস স্কুলে হামলায় ১৬৮ স্কুলছাত্রী ও ১৪ জন শিক্ষক হন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির এই নৃশংস হামলা বিশ্ব বিবেকে নাড়া দিয়েছে। শুরুতে হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে পরে মার্কিন তদন্ত দলের অনুসন্ধান ও ভিডিও ফুটেজে প্রমাণ হয়, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই রক্তে ভাসে সেই গার্লস স্কুল।

ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে সেই মার্কিন হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। নিকটবর্তী একটি নির্মাণস্থল থেকে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র সেই স্কুলে আঘাত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ক্যামেরা ডানদিকে ঘোরানোর সময় শাজরেহ তাইয়িবা স্কুলের দিক থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে পুতিনের অভিনন্দন

তবে আল জাজিরা ও সিএনএনের অনুসন্ধান, বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ভূমিকা থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজ-এর গবেষণা সহযোগী স্যাম লেয়ার সিএনএন-কে বলেন, ভিডিওতে দেখা অস্ত্রটি মার্কিন টমাহকের সঙ্গে মিল রয়েছে। তার ভাষায়, ‘ভিডিওতে যা দেখা গেছে তা টিএলএএমের সঙ্গে মিলে যায়। মাঝখানে ডানা ও পেছনে টেইলকিটসহ ক্রুশাকার গঠন রয়েছে।’

সিএনএন-এর সঙ্গে কথা বলা অন্যান্য অস্ত্র বিশেষজ্ঞরাও এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তারা বলেন, সাধারণত আকাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে হামলার প্রাথমিক ধাপে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

কোনও নির্দিষ্ট ভবনে আঘাত করা হয়েছিল তা সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়নি। তবে সিএনএন-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি সম্ভবত আইআরজিসি পরিচালিত একটি মেডিক্যাল ক্লিনিকের ভেতরে বা তার ঠিক পাশের কোনো ভবনে আঘাত করেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ইসরায়েল এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে না। এগুলো সাধারণত যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়।

এর আগে স্যাটেলাইট চিত্র ভৌগোলিকভাবে শনাক্ত করা ভিডিও, মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে সিএনএন শুক্রবার এক বিশ্লেষণে জানায়, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সম্ভবত দায়ী। সূত্র: সিএনএন

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের ১৬৮ স্কুলছাত্রীকে যেভাবে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব জেলায় একটি গার্লস স্কুলে হামলায় ১৬৮ স্কুলছাত্রী ও ১৪ জন শিক্ষক হন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির এই নৃশংস হামলা বিশ্ব বিবেকে নাড়া দিয়েছে। শুরুতে হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে পরে মার্কিন তদন্ত দলের অনুসন্ধান ও ভিডিও ফুটেজে প্রমাণ হয়, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই রক্তে ভাসে সেই গার্লস স্কুল।

ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে সেই মার্কিন হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। নিকটবর্তী একটি নির্মাণস্থল থেকে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র সেই স্কুলে আঘাত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ক্যামেরা ডানদিকে ঘোরানোর সময় শাজরেহ তাইয়িবা স্কুলের দিক থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে পুতিনের অভিনন্দন

তবে আল জাজিরা ও সিএনএনের অনুসন্ধান, বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ভূমিকা থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজ-এর গবেষণা সহযোগী স্যাম লেয়ার সিএনএন-কে বলেন, ভিডিওতে দেখা অস্ত্রটি মার্কিন টমাহকের সঙ্গে মিল রয়েছে। তার ভাষায়, ‘ভিডিওতে যা দেখা গেছে তা টিএলএএমের সঙ্গে মিলে যায়। মাঝখানে ডানা ও পেছনে টেইলকিটসহ ক্রুশাকার গঠন রয়েছে।’

সিএনএন-এর সঙ্গে কথা বলা অন্যান্য অস্ত্র বিশেষজ্ঞরাও এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তারা বলেন, সাধারণত আকাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে হামলার প্রাথমিক ধাপে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

কোনও নির্দিষ্ট ভবনে আঘাত করা হয়েছিল তা সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়নি। তবে সিএনএন-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি সম্ভবত আইআরজিসি পরিচালিত একটি মেডিক্যাল ক্লিনিকের ভেতরে বা তার ঠিক পাশের কোনো ভবনে আঘাত করেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ইসরায়েল এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে না। এগুলো সাধারণত যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়।

এর আগে স্যাটেলাইট চিত্র ভৌগোলিকভাবে শনাক্ত করা ভিডিও, মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে সিএনএন শুক্রবার এক বিশ্লেষণে জানায়, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সম্ভবত দায়ী। সূত্র: সিএনএন