আজ থেকে শুরু টানা ৭ দিনের ঈদের ছুটি
- আপডেট সময় : ০২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
- / 59
আজ থেকে শুরু হয়েছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতরের সপ্তাহব্যাপী ছুটি। লাখ লাখ মানুষ ইতোমধ্যেই রাজধানীসহ প্রধান শহরগুলো ছেড়ে নিজেদের বাড়িতে পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবটি উদযাপন করতে রওনা হয়েছেন।
ঈদের জন্য বাড়ি ফেরা মানুষদের যাতে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করেছে। সেই হিসেবে গতকাল (সোমবার) ছিল ঈদের আগে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য শেষ কর্মদিবস।
চলতি বছরের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২১ মার্চ ঈদের দিন সাধারণ ছুটি। এছাড়া ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ২২ ও ২৩ মার্চ—ঈদের আগে ও পরে দুই দিন করে মোট চার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত ছিল। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ঈদের ছুটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।
তবে নির্ধারিত ছুটি শুরুর আগে মাঝখানে ১৮ মার্চ অফিস খোলা থাকায় ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ওই দিনও ছুটি দেওয়ার দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৮ মার্চ ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্বাহী আদেশে ওই দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
চীনের সাথে সম্পর্ক হাইজ্যাক হয়েছিল: জামায়াত আমির
এর ফলে ১৮ মার্চের নির্বাহী আদেশে ছুটিসহ সরকারি চাকরিজীবীরা ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন।
ঘোষিত ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা সেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।
এছাড়া বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও যানবাহনও জরুরি সেবার আওতায় স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ অথবা ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে তা আরো বেড়ে জনস্রোতে পরিণত হয়েছে। সকালে যাদের যাত্রার শিডিউল ছিলো তাদের অনেকেই রাতে এসে অপেক্ষায় ছিলেন। এতে সবগুলো প্লাটফর্মে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে স্টেশন ছাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হয়নি। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় এবং সব কার্যক্রম সুশৃঙ্খল থাকায় স্টেশনে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও উৎফুল্লভাব লক্ষ্য করা গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা ব্যাগ নিয়ে টার্মিনালে জড়ো হতে শুরু করেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমে বাড়তে থাকে।
গাবতলী টার্মিনালে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। কল্যাণপুরের বাস কাউন্টারগুলোতেও ঘরমুখো মানুষের দেখা গেছে। অনেক যাত্রী আগে থেকে টিকিট সংগ্রহ করলেও আজ তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট পাওয়ার আশায় কাউন্টারে ভিড় করছেন। সরকারি ছুটির সঙ্গে ব্যক্তিগত ছুটি যোগ করে অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছাড়ছেন। সকালে নির্দিষ্ট সময়ের বাস ছাড়লেও রাতের বাস দেরিতে আসায় অনেককে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বলে জানায় বাস কাউন্টারের কর্মচারীরা। সেই সঙ্গে যাত্রীদের বড় অভিযোগ—সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায় করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। রাজধানীর যানজট এড়াতে অনেকেই আগেভাগে ঘাটে এসে উপস্থিত হয়েছেন। কেউ লঞ্চের টিকিট সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চে ওঠার অপেক্ষায় ঘাট এলাকায় অবস্থান করছেন।
ঘাটের প্রবেশপথ এবং লঞ্চে ওঠার আগে যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামাল তল্লাশি করতে দেখা যায় কোস্ট গার্ড সদস্যদের। সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নৌ-পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুরসহ স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা নির্দিষ্ট লঞ্চে করে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। আর বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা আগেভাগেই এসে টিকিট নিশ্চিত করছেন।























মাশহাদে চিরশায়িত খামেনি, জনসমুদ্রে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান