ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লারিজানি হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নিতে ইসরায়েলে ক্লাস্টার বোমা হামলা ইরানের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • / 71

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিকে হত্যার চরম প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের তেল আবিবে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ বা গুচ্ছ বোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এই হামলার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, চলমান এই সংঘাতে ইরান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বারবার এই ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে। এসব অস্ত্র মাঝআকাশে খণ্ডিত হয়ে অসংখ্য ছোট ছোট বিস্ফোরকে পরিণত হয় এবং বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেও এগুলো পুরোপুরি প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার রাতে জনবহুল তেল আবিব শহরে চালানো এই হামলায় অন্তত দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর ফলে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৪ জনে।

আফগানিস্তানকে এখনই ছাড়বে না পাকিন্তান!

যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের অভ্যন্তরেও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি একটি এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, এই আঘাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই ঘটনার পরপরই আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রসি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যেকোনো ধরনের ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়াতে তিনি চলমান সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের জোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বুধবার ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান থেকে ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিম তীরের হেবরনের আকাশেও দৃশ্যমান হয়। ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখা। উল্লেখ্য, চলমান এই ভয়াবহ যুদ্ধে ইতিমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

লারিজানি হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নিতে ইসরায়েলে ক্লাস্টার বোমা হামলা ইরানের

আপডেট সময় : ০২:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিকে হত্যার চরম প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের তেল আবিবে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ বা গুচ্ছ বোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এই হামলার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, চলমান এই সংঘাতে ইরান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বারবার এই ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে। এসব অস্ত্র মাঝআকাশে খণ্ডিত হয়ে অসংখ্য ছোট ছোট বিস্ফোরকে পরিণত হয় এবং বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেও এগুলো পুরোপুরি প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার রাতে জনবহুল তেল আবিব শহরে চালানো এই হামলায় অন্তত দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর ফলে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৪ জনে।

আফগানিস্তানকে এখনই ছাড়বে না পাকিন্তান!

যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের অভ্যন্তরেও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি একটি এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, এই আঘাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই ঘটনার পরপরই আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রসি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যেকোনো ধরনের ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়াতে তিনি চলমান সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের জোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বুধবার ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান থেকে ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিম তীরের হেবরনের আকাশেও দৃশ্যমান হয়। ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখা। উল্লেখ্য, চলমান এই ভয়াবহ যুদ্ধে ইতিমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।