ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজ উদ্যোগে কুড়িগ্রামে সেতু বানালেন কুলি!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 94
107

২৫ বছরের জমানো সঞ্চয়, শখের পুরোনো মোটরসাইকেল ও একটি খাসি বিক্রি করে কুড়িগ্রামের উলিপুরে বুড়ি তিস্তা নদীর ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন আব্দুল করিম নামের এক কুলি। তাঁর এই মহতী উদ্যোগে স্থানীয়দের দীর্ঘ দুই যুগের চরম দুর্ভোগের অবসান হয়েছে।

উলিপুর পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম পেশায় একজন কুলি। মানুষের কষ্ট লাঘবে নিজের উপার্জনের টাকা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ১২০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটি তিনি নির্মাণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, এতদিন উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী রেলসেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হতো। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় শিক্ষার্থী, রোগীসহ সবাইকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। নতুন সেতুটি নির্মাণের ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে এবং মানুষ এখন নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছেন।

গত ১৭ এপ্রিল আব্দুল করিমের মায়ের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে স্থানীয় সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেতু নির্মাণের বিষয়ে আব্দুল করিম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও জনপ্রতিনিধিরা কোনো উদ্যোগ নেননি। তাই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কুলির কাজের উপার্জন, শখের জিনিসপত্র বিক্রি এবং কিছু ঋণ নিয়ে তিনি এই সেতু নির্মাণ করেছেন। এই মহতী কাজের জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজ উদ্যোগে কুড়িগ্রামে সেতু বানালেন কুলি!

আপডেট সময় : ০১:১৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
107

২৫ বছরের জমানো সঞ্চয়, শখের পুরোনো মোটরসাইকেল ও একটি খাসি বিক্রি করে কুড়িগ্রামের উলিপুরে বুড়ি তিস্তা নদীর ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন আব্দুল করিম নামের এক কুলি। তাঁর এই মহতী উদ্যোগে স্থানীয়দের দীর্ঘ দুই যুগের চরম দুর্ভোগের অবসান হয়েছে।

উলিপুর পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম পেশায় একজন কুলি। মানুষের কষ্ট লাঘবে নিজের উপার্জনের টাকা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ১২০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটি তিনি নির্মাণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, এতদিন উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী রেলসেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হতো। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় শিক্ষার্থী, রোগীসহ সবাইকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। নতুন সেতুটি নির্মাণের ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে এবং মানুষ এখন নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছেন।

গত ১৭ এপ্রিল আব্দুল করিমের মায়ের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে স্থানীয় সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেতু নির্মাণের বিষয়ে আব্দুল করিম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও জনপ্রতিনিধিরা কোনো উদ্যোগ নেননি। তাই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কুলির কাজের উপার্জন, শখের জিনিসপত্র বিক্রি এবং কিছু ঋণ নিয়ে তিনি এই সেতু নির্মাণ করেছেন। এই মহতী কাজের জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।