ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 45

পটুয়াখালীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত দুই দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে করে মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও কৃষক পরিবারগুলো। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক সময়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন সৌরভ মজুমদার (২২)। এরপর দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান জহির উদ্দিন (২৮)। ঠিক একই সময়ে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান।

গত দুই দিনে কলাপাড়া, রাঙ্গাবালীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৫০টির বেশি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা কৃষক ও খামারিদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ২৯টি গরুর মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছেন এবং বুধবারের তথ্য এখনো সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রুহুল আমিন খান জানান, দুপুরে মাঠে রাখা গরু বজ্রপাতে মুহূর্তেই মৃত্যু হয়। এতে তার প্রায় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হাওলাদার, বালিয়াতলী গ্রামের হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালী গ্রামের আনেচ খান, এনায়েত তালুকদার, কমরপুর গ্রামের নূর হোসেন জানান, স্বাভাবিকভাবেই গরুগুলো মাঠে বেঁধে রাখা ছিল। আচমকা ঝড়োবৃষ্টির সঙ্গে বিরামহীন বজ্রপাতে গরুগুলো মারা গেছে।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ জানান, মঙ্গলবার বজ্রপাতে খামারিসহ ২৩ জন কৃষকের তালিকা পেয়েছেন। তাতে মোট ২৯টি গরু মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছেন। বুধবার বজ্রপাতে কোন গরু মারা যাওয়ার খবর এখন পর্যন্ত মেলেনি। তবে অনেক কৃষক তার গরু মারা যাওয়ার খবর জানায়নি। মৃত গরুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে ইতোমধ্যে গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, তার উপজেলায় তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন দেওয়া হবে। গবাদিপশু মারা যাওয়া কৃষকের তালিকা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত দুই দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে করে মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও কৃষক পরিবারগুলো। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক সময়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন সৌরভ মজুমদার (২২)। এরপর দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান জহির উদ্দিন (২৮)। ঠিক একই সময়ে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান।

গত দুই দিনে কলাপাড়া, রাঙ্গাবালীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৫০টির বেশি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা কৃষক ও খামারিদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ২৯টি গরুর মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছেন এবং বুধবারের তথ্য এখনো সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রুহুল আমিন খান জানান, দুপুরে মাঠে রাখা গরু বজ্রপাতে মুহূর্তেই মৃত্যু হয়। এতে তার প্রায় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হাওলাদার, বালিয়াতলী গ্রামের হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালী গ্রামের আনেচ খান, এনায়েত তালুকদার, কমরপুর গ্রামের নূর হোসেন জানান, স্বাভাবিকভাবেই গরুগুলো মাঠে বেঁধে রাখা ছিল। আচমকা ঝড়োবৃষ্টির সঙ্গে বিরামহীন বজ্রপাতে গরুগুলো মারা গেছে।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ জানান, মঙ্গলবার বজ্রপাতে খামারিসহ ২৩ জন কৃষকের তালিকা পেয়েছেন। তাতে মোট ২৯টি গরু মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছেন। বুধবার বজ্রপাতে কোন গরু মারা যাওয়ার খবর এখন পর্যন্ত মেলেনি। তবে অনেক কৃষক তার গরু মারা যাওয়ার খবর জানায়নি। মৃত গরুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে ইতোমধ্যে গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, তার উপজেলায় তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন দেওয়া হবে। গবাদিপশু মারা যাওয়া কৃষকের তালিকা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।