প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চাই, হাসপাতাল বন্ধ নয়: নিহত শিশুর বাবা

- আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 47
রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে হাসপাতালটি বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছেন নিহত এক শিশুর বাবা হাবিবুর রহমান।
আজ শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা চাই প্রকৃত দোষীর শাস্তি হোক।
কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা আমরা চাই না। এর আগে আমার আরও দুই সন্তানের জন্ম এই হাসপাতালে হয়েছে এবং তারা সুস্থ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতালের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শিশির মনির বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের ভিত্তিতে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা আইনের দৃষ্টিতে বেআইনি।
তিনি জানান, পাঁচ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ঘটনাটি পর্যালোচনা করে দেখতে পেয়েছে যে, একজন নার্স ও হাসপাতালের আরেক কর্মী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের ঘাটতি দেখিয়েছেন। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব রোববার বিকেল ৫টার মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। তবে নোটিশে জবাব সন্তোষজনক না হলে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেন তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে শিশির মনির বলেন, নবজাতকদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের সুনির্দিষ্ট মাত্রা উল্লেখ করা হয়নি। একইসঙ্গে কতটুকু অক্সিজেনের ঘাটতি হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, সে বিষয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা, চাকরির সুযোগ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত নবজাতকদের একজনের বাবা হাবিবুর রহমান জানান, তিনি এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন এবং প্রকৃত দায়ীদের শাস্তি চান।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান আর কখনো ফিরে আসবে না। কিন্তু এই হাসপাতালের প্রতিও আমার ঋণ রয়েছে, কারণ আমার আরও দুটি সুস্থ সন্তান এখানেই জন্ম নিয়েছে। হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাক, আমরা তা চাই না। বরং এখানে যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো সংশোধন করে সেবার মান আরও উন্নত করা হোক।’
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কোনো ধরনের সমঝোতায় বাধ্য করতে চাপ দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করেনি।’
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নবজাতকদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, তবে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বন্ধ করা হোক—এটা তারা চান না।


























