বসনিয়াকে হারিয়ে জয়ের খাতা খুলল সুইজারল্যান্ড
- আপডেট সময় : ১১:৪০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / 18
Switzerland's Johan Manzambi, center, celebrates with teammates after scoring the opening goal against Bosnia during the World Cup Group B soccer match in Inglewood, Calif., near Los Angeles, Thursday, June 18, 2026. (AP Photo/Mark J. Terrill)
ম্যাড়মেড়ে ম্যাচের সবটুকু রোমাঞ্চ যেন জমিয়ে রাখা হয়েছিল শেষের জন্য। ৭৪ মিনিটে ডেডলক ভাঙে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ের বাকি ১৬ মিনিটে আরও দুবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপায় সুইসরা। যোগ করা সময়ে দুই দলই পায় জালের দেখা। শেষ পর্যন্ত বসনিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতেই আসরে প্রথম জয় তুলে নেয় মুরাত ইয়াকিনের দল।
বৃহস্পতিবার রাতে (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বকাপের ২৬তম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড। সবগুলো গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। সুইজারল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন মানজাম্বি। একাবার করে জাল খুঁজে পেয়েছেন দলটির লেফট উইঙ্গার রুবেন ভারগাস ও অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। বসনিয়ার হয়ে এক গোল পরিশোধ করেন এরমিন মাহমিচ।
এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে দুই খেলায় চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠল সুইজারল্যান্ড। সমান ম্যাচে এক পয়েন্ট পেয়ে তলানির দল বসনিয়া। দুই ও তিনে থাকা কানাডা ও কাতারের ঝুলিতে সমান এক পয়েন্ট করে। দুটি দলই ম্যাচ খেলেছে একটি করে।
চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয়বারের মতো পা রাখে বসনিয়া। এই আসরে প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডার বিপক্ষে ড্র করে শুরুটা মন্দ করেনি পূর্ব ইউরোপের দেশটি।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু থেকে দাতে দাত চেপে লড়ে যায় বসনিয়া। নির্ধারিত সময়ের ১৬ মিনিট আগ পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রেখে শক্তিশালী সুইডেনের কাছ থেকে মহামূল্যবান এক পয়েন্টের আশা করছিল দলটি। তবে শেষের রোমাঞ্চ জিতে নিয়েছে সুইসরা।
কিক অফের পর বসনিয়ার রক্ষণে টানা কয়েকটি আক্রমণ করে সুইজারল্যান্ড। দশম মিনিটে ড্যান এনদোয়ির বা পায়ের নিচ শট কাঁপায় পাশের জাল। অল্পের জন্য গোল পায়নি সুইসরা।
খেলার প্রথম বড় সুযোগটি আসে ১৩তম মিনিটে। সুইস অধিনায়ক জাকার চমৎকার রক্ষণভেদী বল বাড়ানো থেকে জাল সীমানার কাছাকাছি ফাঁকা জায়গায় বল পান ড্যান রিডার। তিনি দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে ছুটে আসা ড্যান এনদোদেইয়ের দিকে নিচু করে বল বাড়িয়ে দিলেও, এনদোদেই ঠিকঠাক পায়ে বল ছোঁয়াতে না পারায় সহজ সুযোগটি হাতছাড়া হয় সুইজারল্যান্ডের।
এর মিনিট ছয়েক পর বাঁ প্রান্ত দিয়ে বসনিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে ভেতরের দিকে বল বাড়িয়ে আবারও সুযোগ তৈরি করেছিলেন এনদোদেই, তবে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা তা আটকে দেন।
পরের মিনিটে বসনিয়ার ব্যাক্লাইনের ভুলের সুযোগ নিয়ে আবারও লক্ষ্য বরাবর বল মারেন এই সুইস খেলোয়াড়, তবে তা জালের বাইরে চলে যায়।
২৩ মিনিটে রেমো ফ্রয়লার বক্সের বেশ দূর থেকে ডান পায়ে জোরালো আঘাত করেন। বসনিয়ার গোলকিপার নিকোলা ভাসিলজ ঝাঁপিয়ে পড়লেও বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৩২ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ শানায় বসনিয়া। তরুণ আলাজবেগোভিকের কাছ থেকে সুইসদের বিপদসীমায় বাঁ দিকে বল পান অভিজ্ঞ এডিন জেকো। তবে জেকোর বাড়িয়ে দেওয়া বলটি জালে পাঠানোর মতো কোনো সতীর্থ সেখানে ছিলেন না।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে আরও দুবার সুইস রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরান জেকো। ৪০ মিনিটে জেকো ডি বক্সের মাথা শট নেওয়ার জন্য একদম প্রস্তুত থাকলেও, সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জি দারুণ গতিতে এসে শেষ মুহূর্তে তা রুখে দেন।
চার মিনিট পর আলাজবেগোভিক ও কোলাসিনাচ নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করে আরেকটি চমৎকার আক্রমণ চালালে সুইস রক্ষণভাগ বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে বিপদমুক্ত হয়।
বিরতির পর ৫১ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। এবারও আক্রমণের নেপথ্যে ছিলেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আকাঞ্জি। মাঝমাঠ থেকে তাঁর বাড়ানো চমৎকার বল ধরে বাম প্রান্ত দিয়ে গোল এলাকায় ঢুকে ভেতরের দিকে এসে নিচু করে বল মারেন এনদোদেই। তবে এবারও বসনিয়ার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গোলকিপার ভাসিলজ; নিচু হয়ে দুর্দান্ত এক চেষ্টায় তিনি সুইজারল্যান্ডকে নিশ্চিত সাফল্য থেকে বঞ্চিত করেন।
৬৯ মিনিটে দেদিচের নেওয়া কোণাকুণি দূরপাল্লার একটি বাঁকানো শট নি চমৎকারভাবে আটকে দেন সুইস গোলকিপার।
অবশেষে ৭৪ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই গোল। বদলি নামা দুই খেলোয়াড়ের যৌথ প্রচেষ্টায় সাফল্য পায় সুইজারল্যান্ড। বাঁপ্রান্ত দিয়ে ভার্গাসের বাড়ানো বল বসনিয়ার রক্ষণভাগ পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেনি। বাতাসে ভাসতে থাকা বলটি নিচে নেমে আসার মুহূর্তে মানজাম্বি চমৎকারভাবে শরীর ঘুরিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান। প্রচণ্ড গতিতে ছুটে যাওয়া সেই বলে বসনিয়ার গোলকিপার হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি, এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড।
৮৫ মিনিটে সুইজারল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় সাফল্য পায়। এমবোলোর পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নেন ফাঁক আয় থাকা ভার্গাস। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে, প্রথম সুযোগেই নিখুঁত এক কোণাকুণি আঘাতে বলটি জালের দূরের কোণে পাঠিয়ে দেন তিনি।
৯০ মিনিটে তৃতীয় গোল ধরা দেয় সুইজারল্যান্ডের পায়ে। অধিনায়ক গ্রানিত জাকার বাড়ানো বল ধরে ভার্গাস খুঁজে নেন মানজাম্বিকে। তা নিখুঁত ছোঁয়ায় জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান কমান মাহমিচ। চার মিনিট পর পেনাল্টি থেকে সুইজারল্যান্ডের গোলে হালি পূরণ করেন জাকা।
























ক্যানসার আক্রান্ত সন্তানসহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জুলাই শহিদের মায়ের সাক্ষাৎ