চীনা যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, ভারতের উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ১০:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / 35
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ভারত কেবল সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় হিসেবে দেখছে না; বরং নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে এটি অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের অংশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া (Defense Security Asia)।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা এগিয়ে নেয়। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। এর ফলে ঢাকা ও বেইজিংয়ের সামরিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন কর্মসূচি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিতসংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে আধুনিক প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করে আকাশসীমার নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোরদার করাই এর লক্ষ্য।
প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তির অর্থ ১০ বছর মেয়াদে সহজ কিস্তিতে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জাতীয় অর্থনীতির ওপর তাৎক্ষণিক চাপ না বাড়িয়ে সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে যুদ্ধবিমানগুলো সরবরাহ করা হতে পারে। চুক্তির আওতায় বিমান সরবরাহের পাশাপাশি লজিস্টিক সহায়তা, পাইলট ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা দুই দেশের সামরিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।
জে-১০সিই মূলত একটি ৪.৫ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধ ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর জে-১০সি ফাইটার জেটের দুর্দান্ত কার্যকারিতা প্রদর্শিত হওয়ার পরই মূলত এই বিমানের প্রতি বাংলাদেশের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ফাইটার জেটটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে রাডারে সজ্জিত এবং চীনের তৈরি দূরপাল্লার বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ‘পিএল-১৫’ ছুঁড়তে সক্ষম। উন্নত ডেটা লিংক এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে এটি যেকোনো আধুনিক পশ্চিমা বা রুশ বিমানকে আকাশযুদ্ধে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
এদিকে, বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটিগুলোতে এই আধুনিক চীনা ফাইটার জেট মোতায়েন করা হলে তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা সংকীর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করবে। ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান ইতিপূর্বেই চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভাব্য ‘স্বার্থের মিলন’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা নীতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।
এর আগে ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ Anil Chauhan চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্ভাব্য স্বার্থগত সমন্বয় নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উন্নয়ন ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।






















মতিঝিলে মেট্রোরেলের নিচে বিস্ফোরক উদ্ধার, সিটিটিসির অভিযান