বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় মিশরের
- আপডেট সময় : ১১:৪১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 15
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল মিশর। দলটির ওপর পিছিয়ে থাকার চাপ থাকল ম্যাচের প্রায় এক ঘন্টা পর্যন্ত। এরপর মোস্তফা জিকোর দারুণ গোলে সমতা, আর বাকি সময়ে মোহাম্মদ সালাহর নৈপুণ্যে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নিল হোসাম হোসেনের দল। আর সেই সঙ্গে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
এর আগে ১৯৩৪ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় মিশর। মেগা আসরে এরপর তারা জায়গা করে নেয় ১৯৯০ সালে। সেবারও একটি ম্যাচও জিততে পারেনি দলটি। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে হারে তারা। অবশেষে কানাডার ভ্যানকুভার স্টেডিয়ামে আজ ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল মিশর।
বিশ্বকাপে আজ ‘জি’ গ্রুপ থেকে নিউ জিল্যান্ডকে মোকাবিলা করে মিশর। খেলায় ৩-১ গোলের জয় সালাহদের। এক গোল এবং অ্যাসিস্ট করেছেন মিশরের সবচেয়ে বড় তারকা সালাহ। বাকি দুই গোল মোস্তফা জিকো ও ট্রেজেগুয়েতের। এর আগে নিউ জিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ফিন সারম্যান। যদিও তাঁর এনে দেওয়া লিড শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড।
দারুণ এই জয়ে টেবিলে শীর্ষস্থানে উঠল মিশর। দুই খেলায় তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে দুই পয়েন্ট করে পাওয়া ইরান ও বেলজিয়ামের অবস্থান দুই ও তিনে। চারে থাকা নিউ জিল্যান্ডের পয়েন্ট ১।
বিশ্বকাপে ৯২ বছরের জয়ের খরা কাটানো মিশরের সামনে এখন দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার হাতছানি। ইরানকে টপকে টেবিলের শীর্ষে সালাহরা। দুই খেলায় মিশরের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে দুই পয়েন্ট করে পাওয়া ইরান ও বেলজিয়ামের অবস্থান তালিকার দুই ও তিনে। চারে থাকা নিউ জিল্যান্ডের পয়েন্ট ১।
এই গ্রুপ থেকে এখনও কেউ পরের রাউন্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। কোনো দলের বিদায়ও হয়নি। চার দলের সামনেই বিশ্বকাপে শেষ ৩২- এ ওঠার সুযোগ রয়েছে। শেষ ম্যাচে তাই রোমাঞ্চের অপেক্ষা।
গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় শীর্ষ দুই দল তথা মিশর ও ইরান একে অপরের মুখোমুখি হবে। মিশরের সামনে সহজ সমীকরণ- এক পয়েন্ট পেলেই নকআউটে উঠবে ফারাওরা। যদি মিশর জেতে তবে বেলজিয়াম ও নিউ জিল্যান্ডের মধ্যকার জয়ী দল হবে নকআউটে মিশরের সঙ্গী। শেষ ম্যাচে জয়ছাড়া বিকল্প নেই নিউ জিল্যান্ডের। তবে মিশর যদি জেতে সেক্ষেত্রে এক পয়েন্ট পেলেও পরের রাউন্ডে যাবে বেলজিয়াম।
গ্রুপে শীর্ষে থাকলেও বাদ পড়ায় শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না মিশরের ক্ষেত্রে। তাদেরকে যদি শেষ ম্যাচে ইরান হারায় এবং নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বেলজিয়াম জেতে তখন সমান ৫ পয়েন্ট হবে বেলজিয়াম ও ইরানের। এই দুই দল যাবে পরের রাউন্ডে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নেবে মিশর।
মিশরের বিপক্ষে সোমবার ম্যাচের ১৫ মিনিটে ফিন সারম্যানের গোলে লিড নেয় নিউ জিল্যান্ড। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ এক হেডে লক্ষ্যভেদ করেন এই ডিফেন্ডার। প্রথমার্ধে ৫৭ শতাংশ বল দখলে রেখেও মিশর গোলে শট নিতে পারে স্রেফ একটি। তা থেকে গোল মেলেনি। পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে সমতা ফেরায় মিশর। ডান প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ হানি দারুণ একটি ক্রস দেন বক্সে। তাতে লাফিয়ে উঠে হেড করেন নেন জিকো। বল মাটিতে বাউন্স খেয়ে জালে জড়ায়। ১-১ সমতা ফেরে ম্যাচে।
সমতায় ফেরার ঠিক ৮ মিনিট পর সালাহর গোলে লিড নেয় মিশর। দারুণ এক গোছালো আক্রমণে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দলকে এগিয়ে দিলেন সালাহ। প্রথম গোলের নায়ক জিকোর সহায়তায় বাঁ পায়ের বাঁকানো ও গতিময় শটে গোলটি করেন লিভারপুল কিংবদন্তি।
পিছিয়ে পড়ে এবার ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে নিউ জিল্যান্ড। তবে ৮২ মিনিটে তাদের ফেরার সম্ভাবনা শেষ করে দেন ত্রেজেগে। ২৪ মিনিটের মধ্যে তৃতীয় গোল পেয়ে যায় মিশর। সালাহর কর্নারে পোস্টের কাছাকাছি বল পেয়েছিলেন তিনি। বদলি নামা এই ফরোয়ার্ড অরক্ষিত থাকায় সহজেই হেডে বল জালে জড়িয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মিশর।
২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় ইরানকে মোকাবিলা করবে মিশর। একই সময়ে গ্রুপের অপর দুই দল- নিউ জিল্যান্ড ও বেলজিয়াম মাঠে নামবে।



























পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, গেজেট চলতি মাসেই