ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা, বাড়ছে তিস্তা ও সুরমার পানি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / 4

দেশজুড়ে দাপটে রয়েছে শ্রাবণের অঝোর ধারার বৃষ্টি। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও দেশে সর্বোচ্চ ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের ৭ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যার মধ্যেই ৫ জেলায় ঝড়ের পাশাপাশি আগামী ৫ দিনও দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৮টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানি বেড়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরি বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৮ টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার লাউয়ারগড়ে সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এতে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮.৮৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৭.৩৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচে। লাউয়ারগড়ে পানি ৭.৪৪ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার নিচে এবং দিরাইয়ে ৬.০৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অধিকাংশ পয়েন্টেই পানির উচ্চতা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সোমবার দুপুর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (>৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই দেশের ৫ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, রাজশাহী ও সিলেট অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে আগামী ৫ দিনও দেশজুড়ে দাপটে থাকতে পারে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে এই সময়েও দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, মঙ্গল ও বুধবার (২১-২২ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই দু’দিনে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার (২৩-২৫ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দেশের কোথাও কোথাও এবং শুক্র ও শনিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডিমলায় দেশের সর্বোচ্চ ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি এই সময়ে রংপুরে ৭২ মিলিমিটার ছাড়াও খুলনায় ৬২, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৫৯, কুমিল্লা ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৫৬, কক্সবাজারে ৫১, সিলেটে ৩৩ মিলিমিটারসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বর্ধিত ৫ দিনেও দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা, বাড়ছে তিস্তা ও সুরমার পানি

আপডেট সময় : ০২:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে দাপটে রয়েছে শ্রাবণের অঝোর ধারার বৃষ্টি। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও দেশে সর্বোচ্চ ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের ৭ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যার মধ্যেই ৫ জেলায় ঝড়ের পাশাপাশি আগামী ৫ দিনও দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৮টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানি বেড়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরি বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৮ টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার লাউয়ারগড়ে সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এতে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮.৮৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৭.৩৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচে। লাউয়ারগড়ে পানি ৭.৪৪ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার নিচে এবং দিরাইয়ে ৬.০৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অধিকাংশ পয়েন্টেই পানির উচ্চতা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সোমবার দুপুর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (>৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই দেশের ৫ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, রাজশাহী ও সিলেট অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে আগামী ৫ দিনও দেশজুড়ে দাপটে থাকতে পারে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে এই সময়েও দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, মঙ্গল ও বুধবার (২১-২২ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই দু’দিনে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার (২৩-২৫ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দেশের কোথাও কোথাও এবং শুক্র ও শনিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডিমলায় দেশের সর্বোচ্চ ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি এই সময়ে রংপুরে ৭২ মিলিমিটার ছাড়াও খুলনায় ৬২, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৫৯, কুমিল্লা ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৫৬, কক্সবাজারে ৫১, সিলেটে ৩৩ মিলিমিটারসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বর্ধিত ৫ দিনেও দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।