বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
- আপডেট সময় : ০২:০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- / 5
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৩৭ শতাংশ বা ২.০৯ ডলার বেড়ে ৯০.১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২.০৭ শতাংশ বা ১.৭১ ডলার বেড়ে ৮৪.২০ ডলারে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির পর এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ হঠাৎ করেই উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়ায় বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সরবরাহ-সংকটের ঝুঁকি এবং সমুদ্রপথে বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
আল জাজিরা বলছে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি শুরু হয় গত ৭ জুলাই। ওই দিন হরমুজ প্রণালির কাছে কাতারের একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এবং সৌদি আরবের পতাকাবাহী একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ওই দিনের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৮৫ ডলারে ওঠে। একই সময়ে সমুদ্রপথটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর জন্য ঝুঁকির মাত্রাও বাড়িয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ।
সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ কুয়েত ও বাহরাইনও তাদের ভূখণ্ডে ইরানি হামলার কথা জানিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সোমবার দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর অনিরাপদ দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট ব্যবহারের চেষ্টার সময় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। আইআরজিসির অভিযোগ, মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই জাহাজগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহারে উৎসাহিত করেছিল। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এরই মধ্যে সোমবার ভোরে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ওমানের কুমজারের উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর জানিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তেলের মজুত ও সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এলএসইজি (LSEG)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে আটটি জাহাজ পার হলেও রবিবার তা চারে নেমে এসেছে। শুক্রবার থেকে মাত্র কয়েকটি ট্যাংকার তেল সংগ্রহের জন্য প্রণালীতে প্রবেশ করেছে, যা জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে চলমান সংকটের গভীরতাকেই স্পষ্ট করে তোলে। সূত্র: রয়টার্স





















রাষ্ট্র সংস্কার হবে ৩১ দফার ভিত্তিতেই: মির্জা ফখরুল