ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন স্কালোনি

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / 7

সংবাদ সম্মেলন কক্ষ তখন থমথমে। চোখের কোণে জমা জল আর রুদ্ধকণ্ঠ লুকাতে বারবার চেষ্টা করছিলেন লিওনেল স্কালোনি। যে মানুষটি ভাঙাচোরা এক আর্জেন্টিনাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বজয়ের চূড়ায়, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের অশ্রুসিক্ত রাতে সেই মাস্টারমাইন্ডের কন্ঠেই যেন বেজে উঠল বিদায়ের সুর। চুক্তি শেষ হওয়ার ঠিক পাঁচ মাস আগে স্পেনের বিপক্ষে এই ট্র্যাজিক হারের পর কি তবে শেষ হতে চলেছে আলবিসেলেস্তে ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও সোনালী অধ্যায়?

বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ। আগামী ডিসেম্বরেই তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে স্কালোনির। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন লিওনেল স্কালোনি।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে আর্জেন্টাইন কোচ জানান, চুক্তি শেষ হতে চললেও দলের দায়িত্বে থাকা না-থাকা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

আবেগে ঝরা কণ্ঠে স্কালোনি শুরুতেই বলেন, ‘আমি লোর (মেসি) সঙ্গে এখনও কথা বলিনি। আর আমার কথা বললে, আমি সভাপতির (ক্লদিও তাপিয়া) সঙ্গে বসব। আমার মাথায় একটা পরিকল্পনা আছে। চুক্তির বাকি সময়টুকু শেষ করব, তারপর দেখা যাবে। সত্যি বলতে, আমার একটু ভাবার দরকার। কারণ, এত বড় কোনো অর্জন ভবিষ্যতে আর টেনে নেওয়া সম্ভব কি না, তা আমি জানি না। হয়তো আমাদের খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন আছে। এমন একটি জায়গায় আমাকে নিয়ে আসার জন্য আর এত বড় সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি সভাপতির কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’ এটুকু বলার পরই কান্নায় আটকে যায় তাঁর কণ্ঠ।

নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে স্কালোনি আরও যোগ করেন, ‘যে জায়গায় আমি আজ দাঁড়িয়ে আছি, তা যে কারও জন্যই এক স্বপ্নের নাম। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ফুটবলার—সবাই আমরা একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই এখন কিছুটা সময় নিয়ে নতুন করে চিন্তা করাটা ভুল কিছু নয়। এই জায়গাটা চমৎকার, জীবনের এক অবিশ্বাস্য স্বপ্নপূরণ, যা আমি কোনো দিন কল্পনাও করিনি।’

আবেগের জোয়ারে আবার নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করেন স্কালোনি। এরপরই প্রকাশ পায় আর্জেন্টিনা দলের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন নিয়ে তাঁর ভেতরের গভীর দুশ্চিন্তা, ‘আমি বা আমাদের কোচিং স্টাফের কেউ কখনো ভাবেনি যে আমরা আজকের এই জায়গায় পৌঁছাব। তাই এভাবে পথচলা বজায় রাখতে গেলে অনেক কিছুর প্রয়োজন—বিশেষ করে পুরো বিষয়টাকে রিসেট করা আর দলটাকে নতুন করে পুনর্গঠন করা। এমন একটা দল আর কোনো দিন গড়ে তোলা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আর এই সত্যটাই আমাকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।’ কথাগুলো বলতে বলতেই স্বর ভেঙে আসে তাঁর, আর এরপরই হঠাৎ করে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।

স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের জন্য এএফএ-র সঙ্গে আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ায় আলোচনা ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছিল, তবে ফাইনালের পর স্কালোনির এমন মন্তব্যে পরিষ্কার—সব সিদ্ধান্তই ঝুলে থাকছে বছর শেষের নির্ধারিত বৈঠকের ওপর।

অবশ্য নিজের চুক্তির চেয়ে সবসময় দলকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছেন স্কালোনি। গত মে’তে ‘রেডিও লা রেড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কাছে এই মুহূর্তে প্রধান কাজ হলো বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবা। যেহেতু ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত আমাদের সময় আছে, তাই চুক্তি নিয়ে তড়িঘড়ি করার কিছু নেই। এএফএ-র কাছেও এটা কোনো জরুরি ইস্যু নয়।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন স্কালোনি

আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সংবাদ সম্মেলন কক্ষ তখন থমথমে। চোখের কোণে জমা জল আর রুদ্ধকণ্ঠ লুকাতে বারবার চেষ্টা করছিলেন লিওনেল স্কালোনি। যে মানুষটি ভাঙাচোরা এক আর্জেন্টিনাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বজয়ের চূড়ায়, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের অশ্রুসিক্ত রাতে সেই মাস্টারমাইন্ডের কন্ঠেই যেন বেজে উঠল বিদায়ের সুর। চুক্তি শেষ হওয়ার ঠিক পাঁচ মাস আগে স্পেনের বিপক্ষে এই ট্র্যাজিক হারের পর কি তবে শেষ হতে চলেছে আলবিসেলেস্তে ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও সোনালী অধ্যায়?

বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ। আগামী ডিসেম্বরেই তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে স্কালোনির। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন লিওনেল স্কালোনি।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে আর্জেন্টাইন কোচ জানান, চুক্তি শেষ হতে চললেও দলের দায়িত্বে থাকা না-থাকা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

আবেগে ঝরা কণ্ঠে স্কালোনি শুরুতেই বলেন, ‘আমি লোর (মেসি) সঙ্গে এখনও কথা বলিনি। আর আমার কথা বললে, আমি সভাপতির (ক্লদিও তাপিয়া) সঙ্গে বসব। আমার মাথায় একটা পরিকল্পনা আছে। চুক্তির বাকি সময়টুকু শেষ করব, তারপর দেখা যাবে। সত্যি বলতে, আমার একটু ভাবার দরকার। কারণ, এত বড় কোনো অর্জন ভবিষ্যতে আর টেনে নেওয়া সম্ভব কি না, তা আমি জানি না। হয়তো আমাদের খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন আছে। এমন একটি জায়গায় আমাকে নিয়ে আসার জন্য আর এত বড় সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি সভাপতির কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’ এটুকু বলার পরই কান্নায় আটকে যায় তাঁর কণ্ঠ।

নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে স্কালোনি আরও যোগ করেন, ‘যে জায়গায় আমি আজ দাঁড়িয়ে আছি, তা যে কারও জন্যই এক স্বপ্নের নাম। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ফুটবলার—সবাই আমরা একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই এখন কিছুটা সময় নিয়ে নতুন করে চিন্তা করাটা ভুল কিছু নয়। এই জায়গাটা চমৎকার, জীবনের এক অবিশ্বাস্য স্বপ্নপূরণ, যা আমি কোনো দিন কল্পনাও করিনি।’

আবেগের জোয়ারে আবার নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করেন স্কালোনি। এরপরই প্রকাশ পায় আর্জেন্টিনা দলের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন নিয়ে তাঁর ভেতরের গভীর দুশ্চিন্তা, ‘আমি বা আমাদের কোচিং স্টাফের কেউ কখনো ভাবেনি যে আমরা আজকের এই জায়গায় পৌঁছাব। তাই এভাবে পথচলা বজায় রাখতে গেলে অনেক কিছুর প্রয়োজন—বিশেষ করে পুরো বিষয়টাকে রিসেট করা আর দলটাকে নতুন করে পুনর্গঠন করা। এমন একটা দল আর কোনো দিন গড়ে তোলা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আর এই সত্যটাই আমাকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।’ কথাগুলো বলতে বলতেই স্বর ভেঙে আসে তাঁর, আর এরপরই হঠাৎ করে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।

স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের জন্য এএফএ-র সঙ্গে আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ায় আলোচনা ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছিল, তবে ফাইনালের পর স্কালোনির এমন মন্তব্যে পরিষ্কার—সব সিদ্ধান্তই ঝুলে থাকছে বছর শেষের নির্ধারিত বৈঠকের ওপর।

অবশ্য নিজের চুক্তির চেয়ে সবসময় দলকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছেন স্কালোনি। গত মে’তে ‘রেডিও লা রেড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কাছে এই মুহূর্তে প্রধান কাজ হলো বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবা। যেহেতু ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত আমাদের সময় আছে, তাই চুক্তি নিয়ে তড়িঘড়ি করার কিছু নেই। এএফএ-র কাছেও এটা কোনো জরুরি ইস্যু নয়।’