বঙ্গভবন ছাড়ছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, পাবেন যেসব সুবিধা
- আপডেট সময় : ০৯:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / 6
শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করা সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী রোববার (২৬ জুলাই) সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়ছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তার পরিবারের এক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, বঙ্গভবন ছাড়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ত্যাগ করে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব ছাড়ার পর রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ ছাড়াও চিকিৎসার জন্য তার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগও শনাক্ত হয়েছে। এসব কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।
যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার পরও আজীবন অবসরভাতাসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন তিনি।
দি প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী, যিনি রাষ্ট্রপতির পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেছেন অথবা অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি আমৃত্যু সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাবেন।
আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। এছাড়া তার দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতা দেয়া হবে।
এছাড়া সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ এবং সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে সেই সংযোগের বিল পরিশোধের সুবিধাও পাবেন।
এ ছাড়া একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসাসেবা, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সরকারি সফরের সময় সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুযোগও তার জন্য বহাল থাকবে।
বাংলাদেশের পদত্যাগী রাষ্ট্রপতিগণ
খোন্দকার মোশতাক আহমদ: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণের পর একই বছরের ৫ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থানের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী: ২০০২ সালের ১৪ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক চাপে ও দলের অনাস্থার মুখে মাত্র সাত মাসের মাথায় ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করেন।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন: ২০২৩ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই নির্ধারিত মেয়াদ শেষের আগেই স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।























ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী