ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / 5

শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ জুলাই) স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব পালনের পুরো সময় সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হলে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চান। পরে আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সেই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেন, তার ‘সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ‘Autonomic Neuropathy’ রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

এসব কারণ বিবেচনায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

যে কারণে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ জুলাই) স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব পালনের পুরো সময় সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হলে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চান। পরে আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সেই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেন, তার ‘সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ‘Autonomic Neuropathy’ রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

এসব কারণ বিবেচনায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন মো. সাহাবুদ্দিন।