ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের ১০০ ডলার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / 4

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত মে মাসের পর এই প্রথম।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পর কয়েক দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যে একদিনেই ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর ফলে সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শুধু তেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও দ্রুত বাড়ছে।

যুক্তরাজ্যে গ্যাসের মানদণ্ড মূল্য বর্তমানে প্রতি থার্ম প্রায় ১৫০ পেন্সে পৌঁছেছে। জুনের শেষ দিকে এই দাম ছিল প্রায় ৯৮ পেন্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কিছুটা কমে এসেছিল। এমনকি ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগের পর্যায়েও নেমে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবার পাল্টে যায়।

এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে। সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বেড়ে যায়। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

যুক্তরাজ্যে গত আড়াই সপ্তাহে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ৫ পেন্স বেড়ে গড়ে ১ দশমিক ৫৬ পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১ দশমিক ৭২ পাউন্ড।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম আবার ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এক মাস আগে এর গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৯২ ডলার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়লেও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ফেড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঋণের সুদহার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তবুও গত মাসে কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে ফেড সুদের হার ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে। সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের ১০০ ডলার ছাড়াল

আপডেট সময় : ০১:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত মে মাসের পর এই প্রথম।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পর কয়েক দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যে একদিনেই ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর ফলে সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শুধু তেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও দ্রুত বাড়ছে।

যুক্তরাজ্যে গ্যাসের মানদণ্ড মূল্য বর্তমানে প্রতি থার্ম প্রায় ১৫০ পেন্সে পৌঁছেছে। জুনের শেষ দিকে এই দাম ছিল প্রায় ৯৮ পেন্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কিছুটা কমে এসেছিল। এমনকি ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগের পর্যায়েও নেমে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবার পাল্টে যায়।

এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে। সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বেড়ে যায়। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

যুক্তরাজ্যে গত আড়াই সপ্তাহে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ৫ পেন্স বেড়ে গড়ে ১ দশমিক ৫৬ পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১ দশমিক ৭২ পাউন্ড।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম আবার ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এক মাস আগে এর গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৯২ ডলার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়লেও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ফেড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঋণের সুদহার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তবুও গত মাসে কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে ফেড সুদের হার ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে। সূত্র: রয়টার্স