ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক চাপ ও অর্থের অভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে সমঝোতায় আসতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / 7

এমন এক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, যেখানে জয়-পরাজয় নিয়ে আর ভাবার সুযোগ নেই। যুদ্ধের খরচ এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে এখনই ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিৎ। বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করছে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাপ এবং অস্ত্রের অভাবে শেষ পর্যন্ত দুটি দেশকেই আসতে হবে সমঝোতার সমাধানে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন কিংবা পরমাণু কর্মসূচি বিলীন করে দেয়া- যে লক্ষ্য নিয়ে ইরানে হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল- তা পাল্টে গেছে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণই এখন ওয়াশিংটন-তেহরানের মূল বিরোধের জায়গা।

যুদ্ধের প্রথম মাস শেষে অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায় ইরান, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এতে ওয়াশিংটনের অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপর চাপ তৈরির সুযোগও পেয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, চলমান সংঘাতে এটাই ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত শক্তি। এরপর সমঝোতা স্মারকেও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায়, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িতই হচ্ছে।

প্রশ্ন ওঠে, ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কী দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘাত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে? মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণ বলছে, ইরানকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল করাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। তারা জয় পরাজয় নিয়ে ভাবছে না কারণ দুর্বার প্রতিরোধ দেখিয়ে এরই মধ্যে ইরান প্রমাণ করেছে তারা হার স্বীকার করবে না। তবুও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় বড় ঝুঁকি আছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের।

গেল মাসে ইরানের মূল্যস্ফীতি ৮৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে কাজ হারিয়েছেন ৩০-৪৫ লাখ মানুষ। দ্রব্যমূল্যের চড়া ঊর্ধ্বগতি আর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে যে কোনো সময়ে আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ- আশঙ্কা ইরানভিত্তিক গণমাধ্যমের। আর বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিপরীতে ইরানের সামরিক-বাণিজ্যিক অবকাঠামো আর বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ার যে প্রবণতা শুরু করেছে ট্রাম্প- সেটাও ইরানি প্রশাসনের জন্য সুখকর নয়।

তবে খেসারতের পাল্লা ভারী ওয়াশিংটনের। ইরান এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে, তারা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। তাই সবসময় অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসা ট্রাম্পও পড়ে গেছেন জটিল এক গোলকধাঁধায়। আবার, ওয়াশিংটনের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এমন দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার অস্ত্র নেই যুক্তরাষ্ট্রের।

এরমধ্যে ট্রাম্পের জন্য আরও বড় সংকট হয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের আগাম নির্বাচন। পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির কারণে ইরান যুদ্ধ নিয়ে হতাশ মার্কিনিরা। রিপাবলিকান শিবিরেও কমছে ইরান যুদ্ধ প্রতি সমর্থন। এইসব কিছুই ইঙ্গিত করে, এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা প্রয়োজন নেই ট্রাম্পের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনেকবার দাবি করা হয়েছে, মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু’র কারণেই এই যুদ্ধে জড়িয়ে ছিলেন ট্রাম্প। বাস্তবতা হচ্ছে, বৈশ্বিক অস্থিরতা আমলে না নিলেও নিজস্ব প্রয়োজনেই সংঘাত থামিয়ে আলোচনায় ফেরা উচিৎ তেহরান-ওয়াশিংটনের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজনৈতিক চাপ ও অর্থের অভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে সমঝোতায় আসতে হবে

আপডেট সময় : ০২:৩৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

এমন এক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, যেখানে জয়-পরাজয় নিয়ে আর ভাবার সুযোগ নেই। যুদ্ধের খরচ এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে এখনই ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিৎ। বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করছে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাপ এবং অস্ত্রের অভাবে শেষ পর্যন্ত দুটি দেশকেই আসতে হবে সমঝোতার সমাধানে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন কিংবা পরমাণু কর্মসূচি বিলীন করে দেয়া- যে লক্ষ্য নিয়ে ইরানে হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল- তা পাল্টে গেছে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণই এখন ওয়াশিংটন-তেহরানের মূল বিরোধের জায়গা।

যুদ্ধের প্রথম মাস শেষে অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায় ইরান, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এতে ওয়াশিংটনের অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপর চাপ তৈরির সুযোগও পেয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, চলমান সংঘাতে এটাই ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত শক্তি। এরপর সমঝোতা স্মারকেও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায়, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িতই হচ্ছে।

প্রশ্ন ওঠে, ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কী দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘাত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে? মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণ বলছে, ইরানকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল করাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। তারা জয় পরাজয় নিয়ে ভাবছে না কারণ দুর্বার প্রতিরোধ দেখিয়ে এরই মধ্যে ইরান প্রমাণ করেছে তারা হার স্বীকার করবে না। তবুও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় বড় ঝুঁকি আছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের।

গেল মাসে ইরানের মূল্যস্ফীতি ৮৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে কাজ হারিয়েছেন ৩০-৪৫ লাখ মানুষ। দ্রব্যমূল্যের চড়া ঊর্ধ্বগতি আর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে যে কোনো সময়ে আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ- আশঙ্কা ইরানভিত্তিক গণমাধ্যমের। আর বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিপরীতে ইরানের সামরিক-বাণিজ্যিক অবকাঠামো আর বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ার যে প্রবণতা শুরু করেছে ট্রাম্প- সেটাও ইরানি প্রশাসনের জন্য সুখকর নয়।

তবে খেসারতের পাল্লা ভারী ওয়াশিংটনের। ইরান এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে, তারা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। তাই সবসময় অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসা ট্রাম্পও পড়ে গেছেন জটিল এক গোলকধাঁধায়। আবার, ওয়াশিংটনের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এমন দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার অস্ত্র নেই যুক্তরাষ্ট্রের।

এরমধ্যে ট্রাম্পের জন্য আরও বড় সংকট হয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের আগাম নির্বাচন। পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির কারণে ইরান যুদ্ধ নিয়ে হতাশ মার্কিনিরা। রিপাবলিকান শিবিরেও কমছে ইরান যুদ্ধ প্রতি সমর্থন। এইসব কিছুই ইঙ্গিত করে, এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা প্রয়োজন নেই ট্রাম্পের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনেকবার দাবি করা হয়েছে, মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু’র কারণেই এই যুদ্ধে জড়িয়ে ছিলেন ট্রাম্প। বাস্তবতা হচ্ছে, বৈশ্বিক অস্থিরতা আমলে না নিলেও নিজস্ব প্রয়োজনেই সংঘাত থামিয়ে আলোচনায় ফেরা উচিৎ তেহরান-ওয়াশিংটনের।