ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রি! ব্যাখ্যা দিল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / 6

বিশ্বকাপ কি শুধু ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর, নাকি এখন এটি বহু বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সম্পদ? ফিফার নতুন একটি পরিকল্পনা সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার ঘিরে নতুন কোম্পানি গঠন ও এর অংশীদারত্ব বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সমালোচনার মুখে এবার মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

ফিফা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বকাপসহ তাদের প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) গঠন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হতে পারে।

ফিফার দাবি, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২১১টি সদস্য ফেডারেশন প্রত্যেকে অতিরিক্ত ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে পেতে পারে। প্রস্তাবটি নিয়ে মতামত দিতে সদস্য দেশগুলোকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

তবে ঘোষণার পরই ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের অভিযোগ, এত বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।

সমালোচনার জবাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আলোচনার জন্য দেয়া একটি প্রস্তাব।

ইনফান্তিনোর ভাষ্য, ‘এটি একটি গণতান্ত্রিক ও পরামর্শভিত্তিক প্রক্রিয়ার অংশ। এটি একটি সুযোগ, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। এখন আলোচনা শুরু হচ্ছে, এরপর সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

তিনি আরও বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলেও বিশ্বকাপ বা ফিফার ওপর কোনো বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে না। বিশ্বকাপ ও নারী বিশ্বকাপসহ সব বড় টুর্নামেন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিফার হাতেই থাকবে।

কিন্তু এই ব্যাখ্যায়ও বিতর্ক থামেনি। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে সদস্য দেশগুলো ফিফার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রয়োজনে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছে, যদি ফিফা তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে না আসে।

এদিকে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও পরিকল্পনাটির স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রীড়াবিষয়ক প্রধান গ্লেন মিকাল্লেফ বলেন, ফুটবলের লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণ খেলাটির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। তার মতে, বাণিজ্যিক সাফল্য ফুটবলের ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে, সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করবে না।

ফলে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে এখন শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোর মতামত নেয়ার পরই ফিফার এই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রি! ব্যাখ্যা দিল ফিফা

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ কি শুধু ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর, নাকি এখন এটি বহু বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সম্পদ? ফিফার নতুন একটি পরিকল্পনা সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার ঘিরে নতুন কোম্পানি গঠন ও এর অংশীদারত্ব বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সমালোচনার মুখে এবার মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

ফিফা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বকাপসহ তাদের প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) গঠন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হতে পারে।

ফিফার দাবি, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২১১টি সদস্য ফেডারেশন প্রত্যেকে অতিরিক্ত ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে পেতে পারে। প্রস্তাবটি নিয়ে মতামত দিতে সদস্য দেশগুলোকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

তবে ঘোষণার পরই ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের অভিযোগ, এত বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।

সমালোচনার জবাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আলোচনার জন্য দেয়া একটি প্রস্তাব।

ইনফান্তিনোর ভাষ্য, ‘এটি একটি গণতান্ত্রিক ও পরামর্শভিত্তিক প্রক্রিয়ার অংশ। এটি একটি সুযোগ, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। এখন আলোচনা শুরু হচ্ছে, এরপর সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

তিনি আরও বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলেও বিশ্বকাপ বা ফিফার ওপর কোনো বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে না। বিশ্বকাপ ও নারী বিশ্বকাপসহ সব বড় টুর্নামেন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিফার হাতেই থাকবে।

কিন্তু এই ব্যাখ্যায়ও বিতর্ক থামেনি। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে সদস্য দেশগুলো ফিফার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রয়োজনে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছে, যদি ফিফা তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে না আসে।

এদিকে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও পরিকল্পনাটির স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রীড়াবিষয়ক প্রধান গ্লেন মিকাল্লেফ বলেন, ফুটবলের লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণ খেলাটির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। তার মতে, বাণিজ্যিক সাফল্য ফুটবলের ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে, সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করবে না।

ফলে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে এখন শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোর মতামত নেয়ার পরই ফিফার এই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে।