ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আড়তকেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বড় কারণ: সিপিডি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / 8

আড়তকেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বড় কারণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বড় একটি অংশের সরবরাহ নগর আড়তদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় বাজারে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ তৈরি হচ্ছে। এতে দরকষাকষির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, প্রতিযোগিতা কমছে এবং সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন বা মজুতদারির ঘটনাও দ্রুত খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘দ্য ফুড প্রাইস চেইন : মার্কেটস, মার্জিনস অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেশের ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল, উৎপাদন ব্যয়, বিপণন ব্যয়, মূল্য সংযোজন এবং বাজারের বিভিন্ন স্তরের মার্জিন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এতে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ, বেগুন, ডিম, রুই মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০টি পণ্যের মধ্যে ছয়টির ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতারা প্রধানত নগর আড়তদারদের কাছ থেকেই পণ্য সংগ্রহ করেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ, বেগুন, ডিম ও রুই মাছ। ফলে কয়েকটি নির্দিষ্ট আড়ত বা সরবরাহকারীর ওপর অতিনির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং দামের ওপর অল্পসংখ্যক ব্যবসায়ীর প্রভাব বাড়ছে। এই পর্যায়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, মজুতদারি বা যোগসাজশের ঘটনা ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়ে।

সরবরাহ শৃঙ্খল যত দীর্ঘ, খামার বা উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির হারও তত বেশি। বিশেষ করে কাঁচামরিচের ক্ষেত্রে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ, যা বিশ্লেষণ করা পণ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এছাড়া, মাঝারি পাইজাম চালে ১০০ শতাংশ, দেশি পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডালে ৭৮ শতাংশ, বেগুনে ৭২ শতাংশ এবং আলুতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ডিম, মুরগি, গরুর মাংস ও রুই মাছের মতো তুলনামূলক ছোট সরবরাহ শৃঙ্খলের পণ্যে মূল্যবৃদ্ধির হারও কম।

খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের প্রধান কারণ হিসেবে সরবরাহ সংকটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপরেই রয়েছে ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ এবং মজুতদারি। তবে বাজারে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরের ব্যবসায়ী নিজেদের পরবর্তী স্তরের ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন।

এদিকে, বাজার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সাতটি সুপারিশ দিয়েছে সিপিডি। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরবরাহ শৃঙ্খলের অপ্রয়োজনীয় স্তর কমানো, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বিকল্প ক্রেতা ও সরবরাহকারী তৈরি, নিয়মিত উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা মূল্য প্রকাশ, বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আধুনিক সংরক্ষণ ও পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

এছাড়া, কাঁচা মরিচের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আড়তদার স্তর কমানো, পেঁয়াজে মজুতদারি কঠোরভাবে নজরদারি, আলুতে বিকল্প বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডিম ও মুরগির ক্ষেত্রে পশুখাদ্য ও টিকার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সুপারিশও করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আড়তকেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বড় কারণ: সিপিডি

আপডেট সময় : ০১:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

আড়তকেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বড় কারণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বড় একটি অংশের সরবরাহ নগর আড়তদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় বাজারে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ তৈরি হচ্ছে। এতে দরকষাকষির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, প্রতিযোগিতা কমছে এবং সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন বা মজুতদারির ঘটনাও দ্রুত খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘দ্য ফুড প্রাইস চেইন : মার্কেটস, মার্জিনস অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেশের ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল, উৎপাদন ব্যয়, বিপণন ব্যয়, মূল্য সংযোজন এবং বাজারের বিভিন্ন স্তরের মার্জিন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এতে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ, বেগুন, ডিম, রুই মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০টি পণ্যের মধ্যে ছয়টির ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতারা প্রধানত নগর আড়তদারদের কাছ থেকেই পণ্য সংগ্রহ করেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ, বেগুন, ডিম ও রুই মাছ। ফলে কয়েকটি নির্দিষ্ট আড়ত বা সরবরাহকারীর ওপর অতিনির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং দামের ওপর অল্পসংখ্যক ব্যবসায়ীর প্রভাব বাড়ছে। এই পর্যায়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, মজুতদারি বা যোগসাজশের ঘটনা ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়ে।

সরবরাহ শৃঙ্খল যত দীর্ঘ, খামার বা উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির হারও তত বেশি। বিশেষ করে কাঁচামরিচের ক্ষেত্রে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ, যা বিশ্লেষণ করা পণ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এছাড়া, মাঝারি পাইজাম চালে ১০০ শতাংশ, দেশি পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডালে ৭৮ শতাংশ, বেগুনে ৭২ শতাংশ এবং আলুতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ডিম, মুরগি, গরুর মাংস ও রুই মাছের মতো তুলনামূলক ছোট সরবরাহ শৃঙ্খলের পণ্যে মূল্যবৃদ্ধির হারও কম।

খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের প্রধান কারণ হিসেবে সরবরাহ সংকটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপরেই রয়েছে ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ এবং মজুতদারি। তবে বাজারে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরের ব্যবসায়ী নিজেদের পরবর্তী স্তরের ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন।

এদিকে, বাজার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সাতটি সুপারিশ দিয়েছে সিপিডি। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরবরাহ শৃঙ্খলের অপ্রয়োজনীয় স্তর কমানো, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বিকল্প ক্রেতা ও সরবরাহকারী তৈরি, নিয়মিত উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা মূল্য প্রকাশ, বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আধুনিক সংরক্ষণ ও পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

এছাড়া, কাঁচা মরিচের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আড়তদার স্তর কমানো, পেঁয়াজে মজুতদারি কঠোরভাবে নজরদারি, আলুতে বিকল্প বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডিম ও মুরগির ক্ষেত্রে পশুখাদ্য ও টিকার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সুপারিশও করা হয়েছে।