ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগস্টেই যোগদান চান সরকারি প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 6

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অক্টোবরে তাদের যোগদান করানোর পরিকল্পনার কথা জানালেও এতে সন্তুষ্ট নন তারা। দাবি আদায়ে পূর্বঘোষিত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগ-সংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তবে আগামী ২৯ অক্টোবরে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানো হবে। যোগদানের পর তাদের পদায়ন করা হবে এবং এরপর দেওয়া হবে পেশাগত প্রশিক্ষণ।

তবে মন্ত্রণালয়ের এ ঘোষণাকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তাদের দাবি, নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবিতে রোববার (২ আগস্ট) থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন তারা।

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দাবিতে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার ১৭৫ দিন পার হলেও তারা এখনো বেকার। অক্টোবর পর্যন্ত আরও অপেক্ষা করা তাদের জন্য চরম অমানবিক হবে। তাই আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা চান তারা।

তিনি বলেন, রোববারের কর্মসূচি নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে। মন্ত্রণালয় আগস্টের মধ্যে যোগদানের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিলে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। অন্যথায় নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী যোগদান ও পদায়নের স্পষ্ট রূপরেখা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এদিকে, আজ শনিবার সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষে দেবব্রত সরকার ও ফারজানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন পার হলেও এখনো কোনো বিদ্যালয়ে পদায়ন বা যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের একমাত্র দাবি ছিল, গত ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে যোগদান ও পদায়নের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন বা অফিস আদেশ সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং বারবার আশ্বাসের পরও বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় তারা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন। দায়িত্বশীল মহল একাধিকবার আশ্বাস দিলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও নির্বাচিত প্রার্থীরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। এ নিয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলন করেন তারা। পরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের যোগদান করানো হবে এবং পদায়নের পর পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আগস্টেই যোগদান চান সরকারি প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকরা

আপডেট সময় : ১১:১৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অক্টোবরে তাদের যোগদান করানোর পরিকল্পনার কথা জানালেও এতে সন্তুষ্ট নন তারা। দাবি আদায়ে পূর্বঘোষিত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগ-সংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তবে আগামী ২৯ অক্টোবরে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানো হবে। যোগদানের পর তাদের পদায়ন করা হবে এবং এরপর দেওয়া হবে পেশাগত প্রশিক্ষণ।

তবে মন্ত্রণালয়ের এ ঘোষণাকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তাদের দাবি, নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবিতে রোববার (২ আগস্ট) থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন তারা।

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দাবিতে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার ১৭৫ দিন পার হলেও তারা এখনো বেকার। অক্টোবর পর্যন্ত আরও অপেক্ষা করা তাদের জন্য চরম অমানবিক হবে। তাই আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা চান তারা।

তিনি বলেন, রোববারের কর্মসূচি নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে। মন্ত্রণালয় আগস্টের মধ্যে যোগদানের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিলে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। অন্যথায় নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী যোগদান ও পদায়নের স্পষ্ট রূপরেখা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এদিকে, আজ শনিবার সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষে দেবব্রত সরকার ও ফারজানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন পার হলেও এখনো কোনো বিদ্যালয়ে পদায়ন বা যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের একমাত্র দাবি ছিল, গত ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে যোগদান ও পদায়নের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন বা অফিস আদেশ সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং বারবার আশ্বাসের পরও বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় তারা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন। দায়িত্বশীল মহল একাধিকবার আশ্বাস দিলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও নির্বাচিত প্রার্থীরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। এ নিয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলন করেন তারা। পরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের যোগদান করানো হবে এবং পদায়নের পর পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।