দিল্লিতে শেখ হাসিনার লাইভ সংলাপে বাংলাদেশের তীব্র ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 2
গণহত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহিদদের প্রতি চরম অপমান হিসেবে গণ্য।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারের কাছে আগেই উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহিদদের প্রতি চরম অপমান হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা এবং তার মাফিয়া চক্রের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান হবে না। যেকোনো অজুহাতেই তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেয়া আমাদের জনগণের আবেগের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।
বিবৃতিতে বলা হয়, যেদিন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেদিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এ ধরনের উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি ‘গুরুতর অপমান’।
বাংলাদেশ সরকার আরও অভিযোগ করে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে তৎকালীন সরকারের সময় সংঘটিত বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের হত্যাকাণ্ডসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা।
ঢাকার দাবি, এ ধরনের প্রচেষ্টা ‘ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের ব্যর্থ চেষ্টা’।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশ আর কখনো স্বৈরাচারের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কোনোভাবেই কোনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে না।
শেখ হাসিনা ও তার সঙ্গে যুক্ত ‘অপরাধী চক্রের’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো স্থান হবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে বাংলাদেশ সরকার জানায়, ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক সম্মান, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদা বজায় রেখে গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে ঢাকা আগ্রহী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কোনো অজুহাতেই শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত করেছে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।























দিল্লিতে শেখ হাসিনার লাইভ সংলাপে বাংলাদেশের তীব্র ক্ষোভ