ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাকে লুকিয়ে ‘গোপনে’ বিমান বদলের ঘটনা নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 11

ইরানের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে খাবার বহনের একটি ট্রাকে লুকিয়ে গোপনে উড়োজাহাজ বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিনের সেই গোপনীয়তার বিষয়টি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ট্রাম্প জানান, সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানে রেখে নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শেই খাবার সরবরাহকারী একটি ট্রাকের মাধ্যমে তাকে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী আমাকে অন্য একটি ফ্লাইট, অন্য একটি বিমানে যেতে বলেছিল। আমাকে তাদের কথাই মানতে হয়।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর গত ৮ জুলাইয়ের একটি ঘটনার বিষয়টি সামনে এসেছে। সেদিন টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গিয়েছিল। পরে জানা যায়, তিনি একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বাহিনীর অন্য একটি বিমানে চলে যান।

শেষ মুহূর্তে এভাবে বিমান বদলানোর ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, মূল বিমানটিতে থাকা ব্যক্তিদের কোনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছিল কি না। তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন, যে সামরিক বিমানে তিনি শেষ পর্যন্ত উঠেছিলেন, সেটিই ‘আরও বেশি ঝুঁকির’ মধ্যে ছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছিল যে ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের কাছে এক ব্যক্তিকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ দেখা গিয়েছিল—এমন তথ্যও মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে ছিল।

আর তাই সম্ভাব্য ইরানি হুমকির জবাবে পরিকল্পিত এই কৌশলের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে গোপনে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে এ কথা বিমানে থাকা সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীও জানতেন না।

এর আগে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের ‘এক নম্বর টার্গেট’।

মঙ্গলবার ওহাইওতে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘মনে হয় সেখানে কোনও হুমকি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু জানতে চাইনি। আমি অনেক হুমকি পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন অনেক হুমকি আছে, যেগুলোর কথা আপনারা জানেন না।’

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আবার সামরিক হামলা শুরু করে। আর তারই এক দিন পর গত মাসে গোপনে বিমান বদলের ঘটনাটি ঘটে।

বিবিসি বলছে, ট্রাম্প তুরস্কে পৌঁছেছিলেন কাতারের দেয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে। তবে সেখান থেকে ফেরার সময় তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করে’ তিনি ওই বিমানেই ফিরতে চান।

এরপর ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের বিমানে উঠতে দেখা যায়। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানে ওঠার পর ট্রাম্প সেখান থেকে বের হয়ে গোপনে একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে ওঠেন। ট্রাকটি বিমানে ওঠার জায়গার বিপরীত পাশে বিমানটির দরজার উচ্চতায় তোলা হয়েছিল।

এরপর তাকে গোপনে একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটিকে স্বাভাবিক মনে করানোর জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও আলাদা করে বাইরের সিঁড়ি দিয়ে সি-৩২এ বিমানে ওঠেন।

সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মী এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। তাদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়। তারা জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট আর ওই বিমানে নেই।

বিমানে থাকা মিডিয়া পুলের একজন প্রযোজক জানান, জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশটি তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। একজন আলোকচিত্রী অল্প সময়ের জন্য জানালার পর্দা তুললে তাকে দ্রুত সেটি আবার নামিয়ে দিতে বলা হয় বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে ওই প্রযোজকের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাংবাদিকরা বিমানে ওঠার সময় বিমানের সামনে ও পেছনে দুটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাক দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া বিমানবন্দরে গাড়িবহরের মিডিয়া ভ্যানটি এতটাই পেছনে ছিল যে ট্রাম্পের বিমানে ওঠার ছবি তোলা সম্ভব হয়নি।

প্রযুক্তিগতভাবে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী যেকোনও বিমানের কল সাইন। তবে ওই ঘটনায় ট্রাম্প যে সি-৩২এ বিমানে ছিলেন, সেটি ‘রিচ ১৮’ কল সাইন ব্যবহার করেছিল। অন্যদিকে সাংবাদিকদের বহনকারী বিমানটি ‘এএফ১’ কল সাইন ব্যবহার করতে থাকে, যাতে পুরো বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য মূল বিমানটিতেই ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ওই বিমানে ছিলেন।

এরপর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে তিনি আবার পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। আরএএফ মিলডেনহলে বিমানটি অবতরণের পর তাকে সেখান থেকে নামতে দেখা যায়।

তবে সি-৩২এ থেকে কীভাবে তিনি আবার পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। এরপর কাতারের দেয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটনে ফেরেন ট্রাম্প। ওই ফ্লাইটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে এর আগে বিমান বদলের ঘটনা সম্পর্কে কিছু বলেননি।

তুরস্ক থেকে ফেরার সময় সাংবাদিকদের কেন বিমানের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ‘কারণ আমরা যেসব নোংরা লোকজনের সঙ্গে মোকাবিলা করছি, তাদের কারণে সম্ভবত আপনারা একটি ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইটে আছেন।’

তিনি আরও বলেছিলেন, তার জীবনের ওপর ‘সবসময়ই হুমকি’ রয়েছে এবং ইরানের ‘তালিকায়’ তিনি ‘এক নম্বরে’ আছেন।

সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক হোসে জামোরা এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের যেন অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে না ফেলা হয়, তা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি থাকলে সাংবাদিকদের তা জানানো উচিত, যাতে তারা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাকে লুকিয়ে ‘গোপনে’ বিমান বদলের ঘটনা নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০১:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে খাবার বহনের একটি ট্রাকে লুকিয়ে গোপনে উড়োজাহাজ বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিনের সেই গোপনীয়তার বিষয়টি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ট্রাম্প জানান, সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানে রেখে নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শেই খাবার সরবরাহকারী একটি ট্রাকের মাধ্যমে তাকে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী আমাকে অন্য একটি ফ্লাইট, অন্য একটি বিমানে যেতে বলেছিল। আমাকে তাদের কথাই মানতে হয়।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর গত ৮ জুলাইয়ের একটি ঘটনার বিষয়টি সামনে এসেছে। সেদিন টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গিয়েছিল। পরে জানা যায়, তিনি একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বাহিনীর অন্য একটি বিমানে চলে যান।

শেষ মুহূর্তে এভাবে বিমান বদলানোর ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, মূল বিমানটিতে থাকা ব্যক্তিদের কোনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছিল কি না। তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন, যে সামরিক বিমানে তিনি শেষ পর্যন্ত উঠেছিলেন, সেটিই ‘আরও বেশি ঝুঁকির’ মধ্যে ছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছিল যে ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের কাছে এক ব্যক্তিকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ দেখা গিয়েছিল—এমন তথ্যও মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে ছিল।

আর তাই সম্ভাব্য ইরানি হুমকির জবাবে পরিকল্পিত এই কৌশলের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে গোপনে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে এ কথা বিমানে থাকা সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীও জানতেন না।

এর আগে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের ‘এক নম্বর টার্গেট’।

মঙ্গলবার ওহাইওতে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘মনে হয় সেখানে কোনও হুমকি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু জানতে চাইনি। আমি অনেক হুমকি পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন অনেক হুমকি আছে, যেগুলোর কথা আপনারা জানেন না।’

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আবার সামরিক হামলা শুরু করে। আর তারই এক দিন পর গত মাসে গোপনে বিমান বদলের ঘটনাটি ঘটে।

বিবিসি বলছে, ট্রাম্প তুরস্কে পৌঁছেছিলেন কাতারের দেয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে। তবে সেখান থেকে ফেরার সময় তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করে’ তিনি ওই বিমানেই ফিরতে চান।

এরপর ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের বিমানে উঠতে দেখা যায়। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানে ওঠার পর ট্রাম্প সেখান থেকে বের হয়ে গোপনে একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে ওঠেন। ট্রাকটি বিমানে ওঠার জায়গার বিপরীত পাশে বিমানটির দরজার উচ্চতায় তোলা হয়েছিল।

এরপর তাকে গোপনে একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটিকে স্বাভাবিক মনে করানোর জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও আলাদা করে বাইরের সিঁড়ি দিয়ে সি-৩২এ বিমানে ওঠেন।

সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মী এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। তাদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়। তারা জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট আর ওই বিমানে নেই।

বিমানে থাকা মিডিয়া পুলের একজন প্রযোজক জানান, জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশটি তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। একজন আলোকচিত্রী অল্প সময়ের জন্য জানালার পর্দা তুললে তাকে দ্রুত সেটি আবার নামিয়ে দিতে বলা হয় বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে ওই প্রযোজকের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাংবাদিকরা বিমানে ওঠার সময় বিমানের সামনে ও পেছনে দুটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাক দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া বিমানবন্দরে গাড়িবহরের মিডিয়া ভ্যানটি এতটাই পেছনে ছিল যে ট্রাম্পের বিমানে ওঠার ছবি তোলা সম্ভব হয়নি।

প্রযুক্তিগতভাবে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী যেকোনও বিমানের কল সাইন। তবে ওই ঘটনায় ট্রাম্প যে সি-৩২এ বিমানে ছিলেন, সেটি ‘রিচ ১৮’ কল সাইন ব্যবহার করেছিল। অন্যদিকে সাংবাদিকদের বহনকারী বিমানটি ‘এএফ১’ কল সাইন ব্যবহার করতে থাকে, যাতে পুরো বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য মূল বিমানটিতেই ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ওই বিমানে ছিলেন।

এরপর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে তিনি আবার পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। আরএএফ মিলডেনহলে বিমানটি অবতরণের পর তাকে সেখান থেকে নামতে দেখা যায়।

তবে সি-৩২এ থেকে কীভাবে তিনি আবার পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। এরপর কাতারের দেয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটনে ফেরেন ট্রাম্প। ওই ফ্লাইটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে এর আগে বিমান বদলের ঘটনা সম্পর্কে কিছু বলেননি।

তুরস্ক থেকে ফেরার সময় সাংবাদিকদের কেন বিমানের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ‘কারণ আমরা যেসব নোংরা লোকজনের সঙ্গে মোকাবিলা করছি, তাদের কারণে সম্ভবত আপনারা একটি ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইটে আছেন।’

তিনি আরও বলেছিলেন, তার জীবনের ওপর ‘সবসময়ই হুমকি’ রয়েছে এবং ইরানের ‘তালিকায়’ তিনি ‘এক নম্বরে’ আছেন।

সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক হোসে জামোরা এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের যেন অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে না ফেলা হয়, তা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি থাকলে সাংবাদিকদের তা জানানো উচিত, যাতে তারা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’