ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 5

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যুর পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিএসবিআরএ এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা কয়েকজন আক্রান্ত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। অপরজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থলে আরও দুজনের লাশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর। পরে নিহতের সংখ্যা আটজনে দাঁড়ায়।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাদের বাড়ি ভাটিয়ারী এলাকায়।

ঘটনার পর উদ্ধারকাজেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাহাজের ভেতরে এখনও গ্যাসের উপস্থিতি থাকায় সেখানে প্রবেশ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। তারা মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে। পাশাপাশি সম্ভব হলে উদ্ধারকাজেও অংশ নেবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কারণ, জাহাজের ভেতরে গ্যাসের উপস্থিতি থাকায় সেখানে যে কারও প্রবেশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধারকাজের জন্য এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন।’

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি আগে এলএনজি বহন করত।

তার ভাষ্য, এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে ট্যাংক ও অন্যান্য অংশ সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জাহাজের ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কাজ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তৌফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকতে পারে। এসব গ্যাসের উপস্থিতি শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম জানান, এটি বিস্ফোরণের ঘটনা নয়। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গ্যাস নির্গমনের কারণ এবং সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর শিপইয়ার্ড ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৫:২৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যুর পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিএসবিআরএ এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা কয়েকজন আক্রান্ত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। অপরজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থলে আরও দুজনের লাশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর। পরে নিহতের সংখ্যা আটজনে দাঁড়ায়।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাদের বাড়ি ভাটিয়ারী এলাকায়।

ঘটনার পর উদ্ধারকাজেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাহাজের ভেতরে এখনও গ্যাসের উপস্থিতি থাকায় সেখানে প্রবেশ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। তারা মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে। পাশাপাশি সম্ভব হলে উদ্ধারকাজেও অংশ নেবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কারণ, জাহাজের ভেতরে গ্যাসের উপস্থিতি থাকায় সেখানে যে কারও প্রবেশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধারকাজের জন্য এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন।’

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি আগে এলএনজি বহন করত।

তার ভাষ্য, এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে ট্যাংক ও অন্যান্য অংশ সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জাহাজের ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কাজ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তৌফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকতে পারে। এসব গ্যাসের উপস্থিতি শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম জানান, এটি বিস্ফোরণের ঘটনা নয়। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গ্যাস নির্গমনের কারণ এবং সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর শিপইয়ার্ড ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।