ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 5

দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। রাজবাড়ী, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, নওগাঁ, কক্সবাজার, মাগুরা, ফেনী, কুমিল্লা, যশোর ও নড়াইলে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী, পথচারী, নছিমন চালক ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্টদের পাঠানো প্রতিবেদন হতে এসব তথ্য জানা গেছে।

১. রাজবাড়ী
রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কের মাটিপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে পলাশ পরামাণিক নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পলাশ রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং আরজু পরামাণিকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটিপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে পলাশ গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য নিয়ে যায়।

২. গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আনজুয়ারা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদুল্লাপুর-ভাতগ্রাম সড়কের জামলারজান ব্রিজের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনজুয়ারা উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের টিয়াগাছা গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, আনজুয়ারা একটি ছাগল মাঠে ছেড়ে দিয়ে সড়কের পাশে বসেছিলেন। এ সময় সাদুল্লাপুরের দিকে যাওয়া একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। সাদুল্লাপুর থানার এসআই সুজন সরকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

৩. নেত্রকোনা
নেত্রকোনার পূর্বধলায় পিকআপভ্যান ও সারবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা থেকে আসা সারবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। গুরুতর আহত দুই পুরুষকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
আহত চারজনকে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল কাজ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিকআপভ্যানে থাকা ব্যক্তিরা মদনপুরের সুলতান রহম মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

৪. নওগাঁ
নওগাঁর পত্নীতলায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে শ্যামল তিগ্গা (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নজিপুর-ধামইরহাট আঞ্চলিক সড়কের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্যামল উপজেলার আকবরপুর ইউনিয়নের রায়তারা গ্রামের বিরশা তিগ্গার ছেলে।
জানা যায়, পাশের সড়ক থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে মূল সড়কে উঠছিলেন শ্যামল। এ সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পত্নীতলা থানার ওসি নিয়ামুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

৫. কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও জিটু গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার রফিক (২৮), নাপিতখালী এলাকার সরোয়ার (১৯), চকরিয়ার ফুলছড়ি সিয়ালপাড়ার মো. শাহেদ (২৭) এবং খুটাখালীর নতুন অফিস এলাকার জিয়াবুল হক (২৫)।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী এসি বাস ‘লাল সবুজ’ খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় চকরিয়াগামী একটি নম্বরবিহীন জিটু গাড়িকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে জিটু গাড়িটির ছাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে থাকা নয়জন যাত্রী আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার এসআই মো. শামসুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর বাস ও জিটু গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৬. মাগুরা
মাগুরায় অজ্ঞাত পরিবহনের ধাক্কায় মহিউদ্দিন (৫০) নামে এক নছিমন চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের বাঁশতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মহিউদ্দিন ঝিনাইদহ জেলার নারায়ণ গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
মাগুরা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, কৃষিপণ্য ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিক্রি করে নছিমন চালিয়ে ফিরছিলেন মহিউদ্দিন। বাঁশতলা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে অজ্ঞাত একটি পরিবহন তার নছিমনকে ধাক্কা দেয়। এতে নছিমনটি উল্টে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে।

৭. ফেনী
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ গাড়ির দীর্ঘ সারিতে ট্রাকের ধাক্কায় জুয়েল দাস (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন মাইক্রোবাসচালক আহত হয়েছেন এবং পাঁচটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জ এলাকায় ইকবাল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল দাস নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি মুহুরীগঞ্জের পিএইচপি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে আগের দিন বিকেল থেকেই ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকালেও চট্টগ্রামমুখী লেনে গাড়িগুলো অপেক্ষা করছিল। এ সময় মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে কারখানায় যাওয়ার পথে দ্রুতগতির একটি ট্রাক জুয়েলকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি অপেক্ষমাণ একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে মিনিবাসটি সামনে থাকা তিনটি মাইক্রোবাস ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পরপর ধাক্কা দেয়। ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরানোর কাজ চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

৮. কুমিল্লা
কুমিল্লার চান্দিনায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন রনি (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীরচর ও কুরছাপ এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহত মহিউদ্দিন রনি দেবীদ্বার উপজেলার কুরছাপ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে কুরছাপ এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রনি। এ সময় দ্রুতগতির একটি মিনি পিকআপ তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তীরচর এলাকায় ‘তিশা প্লাস’ পরিবহনের একটি বাস সামনে থাকা একটি ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং শিশুসহ অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ইলিয়টগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার এসআই মো. ফারুক পৃথক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাগুলোতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

৯. যশোর
যশোরের বেনাপোল ও কেশবপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মাদরাসার অফিস সহকারী ও এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ও দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুপুর পৌনে ২টার দিকে বেনাপোল বাইপাস সড়কের ভবারবের এলাকায় গ্রিল ও লোহাবোঝাই ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইব্রাহিম হোসেন (৫০) নামে এক মাদরাসার অফিস সহকারী নিহত হন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী শিক্ষক ফজলু (৪৫) ও ভ্যানচালক আলী কদর (৩৫) গুরুতর আহত হন।
নিহত ইব্রাহিম হোসেন শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম হোসেন ও শিক্ষক ফজলু হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে গোগা এলাকা থেকে মাদরাসার কাজে শার্শায় যাচ্ছিলেন। পথে ভবারবের এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গ্রিল ও লোহাবোঝাই ভ্যানের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সরাসরি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার নিচে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, একই দিন সকাল ৯টার দিকে কেশবপুর শহরের খাদ্য গুদামের পাশে আলমসাধুর (নছিমন-টমটম জাতীয় গাড়ি) সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইয়াসিন আরাফাত (১৭) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হন।
নিহত ইয়াসিন আরাফাত কেশবপুর উপজেলার কাস্তা গ্রামের রুস্তম খানের ছেলে এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। সকালে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে কেশবপুরে আসছিলেন তিনি। পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি আলমসাধু সজোরে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
একই দিনে যশোরের দুটি উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই তরুণ ও কর্মজীবী মানুষের প্রাণহানিতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোর বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

১০. নড়াইল
নড়াইলে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চাপায় সূর্য দাস নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার মুলিয়া-বাহরিগ্রাম সড়কের কোড়গ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সূর্য দাস কোড়গ্রামের সুমন দাসের ছেলে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুলিয়া থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান বাহরিগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। ভ্যানটি কোড়গ্রাম এলাকায় পৌঁছালে সড়ক পার হওয়ার সময় শিশুটি ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দশ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:১৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। রাজবাড়ী, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, নওগাঁ, কক্সবাজার, মাগুরা, ফেনী, কুমিল্লা, যশোর ও নড়াইলে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী, পথচারী, নছিমন চালক ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্টদের পাঠানো প্রতিবেদন হতে এসব তথ্য জানা গেছে।

১. রাজবাড়ী
রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কের মাটিপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে পলাশ পরামাণিক নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পলাশ রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং আরজু পরামাণিকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটিপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে পলাশ গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য নিয়ে যায়।

২. গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আনজুয়ারা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদুল্লাপুর-ভাতগ্রাম সড়কের জামলারজান ব্রিজের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনজুয়ারা উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের টিয়াগাছা গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, আনজুয়ারা একটি ছাগল মাঠে ছেড়ে দিয়ে সড়কের পাশে বসেছিলেন। এ সময় সাদুল্লাপুরের দিকে যাওয়া একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। সাদুল্লাপুর থানার এসআই সুজন সরকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

৩. নেত্রকোনা
নেত্রকোনার পূর্বধলায় পিকআপভ্যান ও সারবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা থেকে আসা সারবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। গুরুতর আহত দুই পুরুষকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
আহত চারজনকে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল কাজ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিকআপভ্যানে থাকা ব্যক্তিরা মদনপুরের সুলতান রহম মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

৪. নওগাঁ
নওগাঁর পত্নীতলায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে শ্যামল তিগ্গা (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নজিপুর-ধামইরহাট আঞ্চলিক সড়কের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্যামল উপজেলার আকবরপুর ইউনিয়নের রায়তারা গ্রামের বিরশা তিগ্গার ছেলে।
জানা যায়, পাশের সড়ক থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে মূল সড়কে উঠছিলেন শ্যামল। এ সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পত্নীতলা থানার ওসি নিয়ামুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

৫. কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও জিটু গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার রফিক (২৮), নাপিতখালী এলাকার সরোয়ার (১৯), চকরিয়ার ফুলছড়ি সিয়ালপাড়ার মো. শাহেদ (২৭) এবং খুটাখালীর নতুন অফিস এলাকার জিয়াবুল হক (২৫)।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী এসি বাস ‘লাল সবুজ’ খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় চকরিয়াগামী একটি নম্বরবিহীন জিটু গাড়িকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে জিটু গাড়িটির ছাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে থাকা নয়জন যাত্রী আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার এসআই মো. শামসুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর বাস ও জিটু গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৬. মাগুরা
মাগুরায় অজ্ঞাত পরিবহনের ধাক্কায় মহিউদ্দিন (৫০) নামে এক নছিমন চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের বাঁশতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মহিউদ্দিন ঝিনাইদহ জেলার নারায়ণ গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
মাগুরা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, কৃষিপণ্য ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিক্রি করে নছিমন চালিয়ে ফিরছিলেন মহিউদ্দিন। বাঁশতলা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে অজ্ঞাত একটি পরিবহন তার নছিমনকে ধাক্কা দেয়। এতে নছিমনটি উল্টে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে।

৭. ফেনী
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ গাড়ির দীর্ঘ সারিতে ট্রাকের ধাক্কায় জুয়েল দাস (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন মাইক্রোবাসচালক আহত হয়েছেন এবং পাঁচটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জ এলাকায় ইকবাল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল দাস নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি মুহুরীগঞ্জের পিএইচপি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে আগের দিন বিকেল থেকেই ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকালেও চট্টগ্রামমুখী লেনে গাড়িগুলো অপেক্ষা করছিল। এ সময় মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে কারখানায় যাওয়ার পথে দ্রুতগতির একটি ট্রাক জুয়েলকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি অপেক্ষমাণ একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে মিনিবাসটি সামনে থাকা তিনটি মাইক্রোবাস ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পরপর ধাক্কা দেয়। ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরানোর কাজ চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

৮. কুমিল্লা
কুমিল্লার চান্দিনায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন রনি (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীরচর ও কুরছাপ এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহত মহিউদ্দিন রনি দেবীদ্বার উপজেলার কুরছাপ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে কুরছাপ এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রনি। এ সময় দ্রুতগতির একটি মিনি পিকআপ তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তীরচর এলাকায় ‘তিশা প্লাস’ পরিবহনের একটি বাস সামনে থাকা একটি ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং শিশুসহ অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ইলিয়টগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার এসআই মো. ফারুক পৃথক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাগুলোতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

৯. যশোর
যশোরের বেনাপোল ও কেশবপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মাদরাসার অফিস সহকারী ও এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ও দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুপুর পৌনে ২টার দিকে বেনাপোল বাইপাস সড়কের ভবারবের এলাকায় গ্রিল ও লোহাবোঝাই ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইব্রাহিম হোসেন (৫০) নামে এক মাদরাসার অফিস সহকারী নিহত হন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী শিক্ষক ফজলু (৪৫) ও ভ্যানচালক আলী কদর (৩৫) গুরুতর আহত হন।
নিহত ইব্রাহিম হোসেন শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম হোসেন ও শিক্ষক ফজলু হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে গোগা এলাকা থেকে মাদরাসার কাজে শার্শায় যাচ্ছিলেন। পথে ভবারবের এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গ্রিল ও লোহাবোঝাই ভ্যানের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সরাসরি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার নিচে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, একই দিন সকাল ৯টার দিকে কেশবপুর শহরের খাদ্য গুদামের পাশে আলমসাধুর (নছিমন-টমটম জাতীয় গাড়ি) সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইয়াসিন আরাফাত (১৭) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হন।
নিহত ইয়াসিন আরাফাত কেশবপুর উপজেলার কাস্তা গ্রামের রুস্তম খানের ছেলে এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। সকালে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে কেশবপুরে আসছিলেন তিনি। পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি আলমসাধু সজোরে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
একই দিনে যশোরের দুটি উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই তরুণ ও কর্মজীবী মানুষের প্রাণহানিতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোর বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

১০. নড়াইল
নড়াইলে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চাপায় সূর্য দাস নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার মুলিয়া-বাহরিগ্রাম সড়কের কোড়গ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সূর্য দাস কোড়গ্রামের সুমন দাসের ছেলে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুলিয়া থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান বাহরিগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। ভ্যানটি কোড়গ্রাম এলাকায় পৌঁছালে সড়ক পার হওয়ার সময় শিশুটি ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।