তামিমের সেঞ্চুরিতে স্বপ্নের পথে ছুটছে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৪:২১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 5
সিডনিতে স্টুয়ার্ট কার্লাইল ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেটি ছিল অজিদের মাঠে একটি দেশের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া শেষ ব্যাটার। একই বছর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। ডারউইনে সেবার ভরাডুবি হয়েছিল লাল বলের ঐতিহ্যে কেবল পা রাখা সফরকারীদের। সেই সিরিজের পর অজিদের মাঠে আরেকটা টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩ বছর।
এই ২৩ বছরে বাংলাদেশও নিজেদের উন্নতি করেছে! মিচেল স্টার্ক, জশ হেজলউড, প্যাট কামিন্স-ত্রয়ীর সঙ্গে ঘূর্ণি জাদুকর নাথান লায়নকে মোকাবিলা করে তানজিদ হাসান তামিমের অসাধারণ সেঞ্চুরি তো সেটাই বলছে। কার্লাইলের পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে তাদের বিপক্ষে আরেকটি দেশের (বাংলাদেশ) প্রথম সেঞ্চুরিয়ান।
তামিম সেঞ্চুরির পর আরেকটু থাকলে স্কোরটা বাংলাদেশের প্রত্যাশার চেয়ে আরেকটু বড় হতে পারতো। টেস্টে তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি, শান্তর ৮০ পেরেনো ইনিংস, মুশফিক-মুমিনুলের কার্যকর দুই ইনিংসে ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত নিজেদের স্বপ্নের পথেই যেন ছুটছে বাংলাদেশ দল। দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান রান অতিথিদের।
১৫৩ রানে এগিয়ে থেকে কাল তৃতীয় দিন ব্যাটিয়ে নামবে বাংলাদেশ। মজার ব্যাপার—অস্ট্রেলিয়া টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১০০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে পড়েও সবশেষ জয় পেয়েছিল ২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এর মাঝে বাংলাদেশ ম্যাচের আগ পর্যন্ত তারা ২৮ বার প্রথম ইনিংসে ১০০ বা তার বেশি রানের পিছিয়ে পড়েছিল, এর মধ্যে ২২টিতেই হেরেছে, বাকিগুলো ড্র। প্রথম ইনিংসে ১০০ বা এর বেশি রান পিছিয়ে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়ার কামব্যাক করার রেকর্ড অত্যন্ত শোচনীয়। ৮৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তৃতীয় ইনিংসের ব্যাটিং গড় ১৮৯। পরিসংখ্যান দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে। তবে কাল প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ম্যাচের ফলের একটা টিউন সেট করলেও করতে পারে!
মাঝে ১১ রানের ব্যবধানে তিনটি উইকটে হারানোর পর মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে এবার ফিরছে! তবে সপ্তম উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের লড়াই বাংলাদেশকে বিপর্যয় থেকে সুপথে ফেরায়। মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রান, হাসান ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। টেস্টে কোনো বলে মোকাবিলার দিক থেকে বল হাতে আলো ছড়ানোর হাসানের এটি সর্বোচ্চ ইনিংস।
দিনের শুরুতে তানজিদের সঙ্গে জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন মমিনুল হক। দারুণ ছন্দে থাকা মমিনুল ফিফটি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে ফেরেন ৪৯ রানে। ১৮৯ বলে ১০২ রানে রানের জুটি ভাঙেন হ্যাজলউড। একটা ব্রেক-থ্রু পেলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেটে এসে আবারও শিকড় ঘেঁড়ে বসেন তানজিদের সঙ্গে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল না। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে নিজের দ্বিতীয় টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি নেন ২৫ বছর বয়সী তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ান পেস আক্রমণ ও কন্ডিশনের পৌরোহিত্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ১৯০ বলে আটটি চার ও এক ছক্কায় ১০১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এ বাঁহাতি ওপনোর।
তৃতীয় উইকেটে ১৫৭ বলে ৯৩ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন তামিম। নাথান লায়নের ঘূর্ণিতে কাটা পড়েন তিনি। চতুর্থ উইকেট অভিজ্ঞ মুশফিক ও শান্ত ৬৬ রানের আরেকটি কার্যকর জুটি গড়েন। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন মুশফিক (৩৬)। তবে তাঁর চেয়ে বেশি আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে শান্তকে। ‘কুল এন্ড কন্ট্রোলড’ ব্যাটিংয়ে হাঁটছিলেন সেঞ্চুরির পথে। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ১২৬ বলে তাঁকে থামতে হয়েছে ৮৪ রানে।
চোট থেকে ফেরা লিটন দাসকে একাদশে পাওয়া ছিল সবচেয়ে স্বস্তির। স্টার্কের তোপে রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ১১ রানের মধ্যে লিটন, শান্ত ও মুশফিককে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ (৩০৮/৬)। সপ্তম উইকেটে হাসান মাহমুদকে নিয়ে দলের রান বাড়াচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
তবে সেখান থেকে লোয়ার-মিডল অর্ডারে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ১৪৭ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েছেন মিরাজ-হাসান। কাউন্টিতে হাসানের বাউন্সি ও ফাস্ট উইকেটের প্র্যাক্টিসও বেশ কাজে লাগছে ব্যাটিংয়ে! হঠাৎ ধসের মধ্যে তাইজুল-তাসকিনদের ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে ভিন্ন মাস্টার স্ট্রোক খেললেন কোচ ফিল সিমন্স।
অজি বোলাররা সারাদিনে খাটুনির পর নিতে পেরেছেন আজ ৫ উইকেট। সব মিলিয়ে স্টার্ক-হ্যাজলউড দুটি করে, লায়ন ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের শিকার একটি করে।

























অঞ্চলভিত্তিক চলবে ব্যাটারিচালিত রিকশা, আসছে নীতিমালা