ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৮

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 14

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। তবে আরও হতাহতের আশংকা করছে স্থানীয়রা। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম ও পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭), হাবিবুর রহমান (৫০) এবং দুই ভাই মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮), গাইবান্ধার বাসিন্দা মো. খোকন (৪০) ও মো. রানা (২৭)। তারা ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। তারা সবাই কারখানাটির শ্রমিক। এছাড়া, আরও অন্তত দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।দেশ টিভি

তিনি বলেন, ইয়ার্ডের সেফটি টিম একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গমনের বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে পরীক্ষা করতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে আমাদের নিকটতম কুমিরা ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটছে। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের কুমিরা ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট, রেসকিউ ভ্যান, অ্যাম্বুল্যান্সসহ তারা এসেছে। তারা তিনটি লাশ এবং দুইজনকে প্রথমে উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিএসবিএ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। সবশেষে মুমূর্ষু অবস্থায় ফোরম্যানকে উদ্ধার করে আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এখানে এসে জানলাম, আমরা আসার দু-আড়াই ঘণ্টা আগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছু লোককে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করেছেন। এখন সাগরে সম্পূর্ণ জোয়ার চলছে। আমরা অ্যাম্বুল্যান্সসহ অপেক্ষা করছি জোয়ারের পানি নেমে ভাটা আসলে সর্বশেষ তল্লাশি (সার্চ) করব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আসার পর গ্যাসের বা কেমিক্যালের দুর্গন্ধ ছিল। জোয়ারের পানি ঢোকার পর থেকে দুর্গন্ধ নেই। কার্বন মনোঅক্সাইড বা কার্বন থেকে উপজাত গ্যাস থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি এলএনজিবাহী পুরাতন জাহাজ। ২০-২৫ বছরের পুরোনো জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হয়। জাহাজে এলএনজির অনেক উপজাত থাকে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের দেশে অনেক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড মালিক সাধারণত এটা করে না। দীর্ঘদিন এটা অব্যবহৃত পড়ে ছিল। কাটিংয়ের আগে রাসায়নিক ফ্রি করতে হয়। এখানে পাইপ কাটার জন্য যখন শ্রমিকেরা গেছেন সামনে যারা ছিল তারা মারা গেছেন, একটু দূরে যারা ছিলেন তারা আক্রান্ত হয়েছেন। এটা মূল কারণ।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত ৮ জনের লাশ চমেক হাসপাতালে আছে। আহতদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক আছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বিলসের সেন্টার কোর্ডিনেটর এবং জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু জানান, ২০১৫ সাল থেকে ৯ বছর ৯ মাসে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নানা ধরনের দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ২৩৯ জন।

তিনি জানান, ২০১৫ সালে ১৬ জন, ২০১৬ সালে ১৮ জন, ২০১৭ সালে ১৯ জন, ২০১৮ সালে ১৩ জন, ২০১৯ সালে ২৩ জন, ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১ সালে ১৩ জন, ২০২২ সালে ৭ জন, ২০২৩ সালে ৭ জন, ২০২৪ সালে ৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৪ জন নিহত হয়েছেন।

২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩ জন, আহত ৫৪ জন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৮

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। তবে আরও হতাহতের আশংকা করছে স্থানীয়রা। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম ও পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭), হাবিবুর রহমান (৫০) এবং দুই ভাই মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮), গাইবান্ধার বাসিন্দা মো. খোকন (৪০) ও মো. রানা (২৭)। তারা ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। তারা সবাই কারখানাটির শ্রমিক। এছাড়া, আরও অন্তত দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।দেশ টিভি

তিনি বলেন, ইয়ার্ডের সেফটি টিম একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গমনের বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে পরীক্ষা করতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে আমাদের নিকটতম কুমিরা ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটছে। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের কুমিরা ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট, রেসকিউ ভ্যান, অ্যাম্বুল্যান্সসহ তারা এসেছে। তারা তিনটি লাশ এবং দুইজনকে প্রথমে উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিএসবিএ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। সবশেষে মুমূর্ষু অবস্থায় ফোরম্যানকে উদ্ধার করে আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এখানে এসে জানলাম, আমরা আসার দু-আড়াই ঘণ্টা আগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছু লোককে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করেছেন। এখন সাগরে সম্পূর্ণ জোয়ার চলছে। আমরা অ্যাম্বুল্যান্সসহ অপেক্ষা করছি জোয়ারের পানি নেমে ভাটা আসলে সর্বশেষ তল্লাশি (সার্চ) করব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আসার পর গ্যাসের বা কেমিক্যালের দুর্গন্ধ ছিল। জোয়ারের পানি ঢোকার পর থেকে দুর্গন্ধ নেই। কার্বন মনোঅক্সাইড বা কার্বন থেকে উপজাত গ্যাস থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি এলএনজিবাহী পুরাতন জাহাজ। ২০-২৫ বছরের পুরোনো জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হয়। জাহাজে এলএনজির অনেক উপজাত থাকে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের দেশে অনেক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড মালিক সাধারণত এটা করে না। দীর্ঘদিন এটা অব্যবহৃত পড়ে ছিল। কাটিংয়ের আগে রাসায়নিক ফ্রি করতে হয়। এখানে পাইপ কাটার জন্য যখন শ্রমিকেরা গেছেন সামনে যারা ছিল তারা মারা গেছেন, একটু দূরে যারা ছিলেন তারা আক্রান্ত হয়েছেন। এটা মূল কারণ।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত ৮ জনের লাশ চমেক হাসপাতালে আছে। আহতদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক আছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বিলসের সেন্টার কোর্ডিনেটর এবং জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু জানান, ২০১৫ সাল থেকে ৯ বছর ৯ মাসে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নানা ধরনের দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ২৩৯ জন।

তিনি জানান, ২০১৫ সালে ১৬ জন, ২০১৬ সালে ১৮ জন, ২০১৭ সালে ১৯ জন, ২০১৮ সালে ১৩ জন, ২০১৯ সালে ২৩ জন, ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১ সালে ১৩ জন, ২০২২ সালে ৭ জন, ২০২৩ সালে ৭ জন, ২০২৪ সালে ৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৪ জন নিহত হয়েছেন।

২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩ জন, আহত ৫৪ জন।