ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতা থেকে লাশ হয়ে ফিরছেন স্বজনরা, ভারাক্রান্ত পরিবারগুলো

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 3

মৃত শিশুটার দিকে তাকাতে পারছি না।’ কথাগুলো বলতে বলতে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্তের স্বজনরা। চোখের পানি মুছতে মুছতে ফিরোজ হাসান বলেন, ‘আমার মুখের ভাষা নেই। দেশে ফিরে আজই দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, দেবাশীষ দত্তের স্ত্রী আফসানা শারমীন হিন্দু ধর্ম গ্রহণ না করায় আফসানা শারমীন ও তার বাবা মো. আকরাম আলীকে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। অন্যদিকে দেবাশীষ দত্ত ও তার ২ বছর ৮ মাস বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্তের শেষকৃত্য হবে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী।

একই ঘটনায় নিহত ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবুর চাচাতো ভাই বলেন, বাংলাদেশ মিশন ও কলকাতা পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতা না পেলে এত দ্রুত লাশ দেশে নিয়ে যেতে পারতাম না। আজই বাবুর দাফন সম্পন্ন হবে।

এদিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে ঢাকা ও কলকাতাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ শেষ অবধি মৃতদের স্বজনদের সঙ্গে ছিলেন। লাশগুলো পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড ছাড়ার পর তিনি সেখান থেকে চলে যান। সকাল থেকে পিস ওয়ার্ল্ডের সব বিষয় তদারকি করেন তিনি ও মিশনের কর্মকর্তারা। খালেদ জানান, এটি একটি দুর্ঘটনা এবং ভারতের আইনি প্রক্রিয়া বেশ জটিল, তাই একটু সময় লেগেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে কলকাতার পার্ক সার্কাসে অবস্থিত ‘পিস ওয়ার্ল্ড’ হিমঘর থেকে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের লাশগুলো লাশবাহী গাড়িতে করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

সড়কপথে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরছেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের ২ বছর ৮ মাস বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবু।

অপরদিকে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৭টার দিকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা নিহত এস এম আলিমুজ্জামানের লাশ ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই রাখা হয়। পরে শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দুই দেশেই শোকের ছায়া নেমে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের পর ময়নাতদন্ত, লাশ শনাক্তকরণ, হস্তান্তর এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিপত্রসহ নানা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত হয়ে যায়। পরে লাশগুলো কলকাতার হিমঘরে রাখা হয়।

নিহতদের লাশ দ্রুত স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে ময়নাতদন্ত,লাশ হস্তান্তর ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করছে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।

স্বজনদের আহাজারি আর চোখের জলে শনিবার কলকাতা থেকে একে একে দেশে ফিরছে সেই সব লাশ, যারা চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনের প্রত্যাশায় ভারতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরছেন নিথর হয়ে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কলকাতা থেকে লাশ হয়ে ফিরছেন স্বজনরা, ভারাক্রান্ত পরিবারগুলো

আপডেট সময় : ০২:২৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মৃত শিশুটার দিকে তাকাতে পারছি না।’ কথাগুলো বলতে বলতে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্তের স্বজনরা। চোখের পানি মুছতে মুছতে ফিরোজ হাসান বলেন, ‘আমার মুখের ভাষা নেই। দেশে ফিরে আজই দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, দেবাশীষ দত্তের স্ত্রী আফসানা শারমীন হিন্দু ধর্ম গ্রহণ না করায় আফসানা শারমীন ও তার বাবা মো. আকরাম আলীকে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। অন্যদিকে দেবাশীষ দত্ত ও তার ২ বছর ৮ মাস বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্তের শেষকৃত্য হবে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী।

একই ঘটনায় নিহত ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবুর চাচাতো ভাই বলেন, বাংলাদেশ মিশন ও কলকাতা পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতা না পেলে এত দ্রুত লাশ দেশে নিয়ে যেতে পারতাম না। আজই বাবুর দাফন সম্পন্ন হবে।

এদিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে ঢাকা ও কলকাতাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ শেষ অবধি মৃতদের স্বজনদের সঙ্গে ছিলেন। লাশগুলো পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড ছাড়ার পর তিনি সেখান থেকে চলে যান। সকাল থেকে পিস ওয়ার্ল্ডের সব বিষয় তদারকি করেন তিনি ও মিশনের কর্মকর্তারা। খালেদ জানান, এটি একটি দুর্ঘটনা এবং ভারতের আইনি প্রক্রিয়া বেশ জটিল, তাই একটু সময় লেগেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে কলকাতার পার্ক সার্কাসে অবস্থিত ‘পিস ওয়ার্ল্ড’ হিমঘর থেকে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের লাশগুলো লাশবাহী গাড়িতে করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

সড়কপথে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরছেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের ২ বছর ৮ মাস বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবু।

অপরদিকে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৭টার দিকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা নিহত এস এম আলিমুজ্জামানের লাশ ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই রাখা হয়। পরে শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দুই দেশেই শোকের ছায়া নেমে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের পর ময়নাতদন্ত, লাশ শনাক্তকরণ, হস্তান্তর এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিপত্রসহ নানা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত হয়ে যায়। পরে লাশগুলো কলকাতার হিমঘরে রাখা হয়।

নিহতদের লাশ দ্রুত স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে ময়নাতদন্ত,লাশ হস্তান্তর ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করছে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।

স্বজনদের আহাজারি আর চোখের জলে শনিবার কলকাতা থেকে একে একে দেশে ফিরছে সেই সব লাশ, যারা চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনের প্রত্যাশায় ভারতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরছেন নিথর হয়ে।