বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় স্বাবলম্বিতার পথে
- আপডেট সময় : ১২:১৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 13
বান্দরবান সদর থেকে আমাদের বহনকারী গাড়িটি রোয়াংছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে সকাল সকাল। শুনেছি সর্বোচ্চ ঘণ্টাখানেকের পথ। সেলাই মেশিন পৌঁছে গেছে আগের দিন। আমরা বসুন্ধরা শুভসংঘ টিম যাচ্ছি সেই সেলাই মেশিনগুলো রোয়াংছড়ির অসচ্ছল নারীদের হাতে তুলে দিতে।
যতটা দুর্গম শুনেছি আর মনে মনে ভেবে নিয়েছি, তার চেয়ে অনেক বেশি দুর্গম আর খাড়া আঁকাবাঁকা পাহাড় বেয়ে আমাদের গাড়িটি ওপরের দিকে উঠছিল। গাড়িটি এই বুঝি থেমে যাবে, আর উঠতে পারবে না-এমন ভয়ে অনেকের তখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।
সব বাধা অতিক্রম করে আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রোয়াংছড়ি উপজেলা মিলনায়তনে পৌঁছলাম। সমস্বরে সবাই বলে উঠলেন, হ্রিখো ভায়া (সালাম, আদাব বা নমস্কার)।
সেলাই মেশিনের বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় স্বাবলম্বিতার পথেপেছনে বসে থাকা ২০ নারীই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। জীবনসংগ্রামে আরেকটুখানি এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাঁরা।
আজ এসেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে পাওয়া সেলাই মেশিন বুঝে নিতে। সম্প্রতি অসচ্ছল নারীদের হাতে আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তুলে দিতে বান্দরবানের প্রত্যন্ত উপজেলা রোয়াংছড়িতে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। উপজেলা মিলনায়তনে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলা শুভসংঘের সভাপতি উয়ই সিং মার্মার সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন রোয়াংছড়ি থানার ওসি হুমায়ুন কবির, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাথোয়া মারমা।‘আমাদের ঘরে অভাব। এই সেলাই মেশিনটি পেয়ে নিজের হাতে কাজ করে সংসারে সাহায্য করতে পারব।’
তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার শুকনো ঝিড়ি পাড়ার সুমনা তঞ্চঙ্গ্যা। চার বোনের সংসারে বাবা কান্দরা তঞ্চঙ্গ্যার কৃষিকাজের আয়ে কোনোমতে সংসার চলে। অভাব-অনটনের কারণে নিজের পড়াশোনা শেষ করতে না পারলেও বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া এই সেলাই মেশিন তাঁর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে জানান তিনি। একই প্রত্যাশার কথা জানালেন মেচঅং মারমা। উপজেলার রোয়াংছড়ি পাড়ার এই শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম কলেজের পালি বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। বাবা ক্রোইথোয়াই মারমা আগে কৃষিকাজ করলেও বর্তমানে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিবারের আয় প্রায় বন্ধ। ফলে পড়াশোনার ব্যয় চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। বসুন্ধরার দেওয়া সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
রোয়াংছড়ি থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা গ্রুপ শুভসংঘের মাধ্যমে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে তারা। এর মাধ্যমে উপার্জন করে নারীরা পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এমন মানবিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশা করি।’
রোয়াংছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাথোয়া মারমা বলেন, ‘দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অনেক সুন্দর ও সময়োপযোগী। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে অসচ্ছল নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং তাঁদের জীবনমান উন্নত হবে। এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য রোয়াংছড়িবাসীর পক্ষ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বসুন্ধরা ভবিষ্যতেও এভাবেই মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাক।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ উপজেলা শাখার সদস্যরা বলেন, রোয়াংছড়িতে সেলাই মেশিন পাওয়া ২০ জন নারীই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। তাঁদের জীবনমানের কিছুটা হলেও পরিবর্তন ঘটাবে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে দেওয়া এই সেলাই মেশিন। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বন্যায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাজ হারিয়ে বেকার বসে আছেন অনেক পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের এমন দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা শুভসংঘ।





















১০-০ গোলের লজ্জা, বাটলারের অধীনে সর্বকালের বড় বিপর্যয়