নতুন করে ৩৪ লাখ শিশুকে দেওয়া হবে হামের টিকা
- আপডেট সময় : ১১:১৫:০৬ অপরাহ্ন, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 1
সারা দেশে নতুন করে হামের টিকাদানের বিশেষ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাদ পড়া এবং নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হামের বিশেষ ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন একথা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে একযোগে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে। ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এই কার্যক্রমে যেসব শিশু টিকা থেকে বাদ গিয়েছে বা পায়নি তাদের অর্ন্তভুক্ত করা হবে। একই সাথে ৬ মাস বয়সে পৌঁছানো ও উপযুক্ত বয়সী শিশুদেরও খুঁজে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
আগের টিকাদান কর্মসূচিতে থেকে বাদ পড়া প্রায় ৪৩ লাখ শিশুকে মপআপ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত আরও ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখনো প্রায় ২৪ লাখ শিশু টিকার বাইরে রয়েছে। গত কয়েক মাসে নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ১০ লাখ শিশুসহ মোট প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দিতে হবে।
গত এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার শিশু টিকা পেয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রথম টিকাদান কর্মসূচির পর যখন দেখলাম কিছু শিশু বাদ পড়ে গেছে, তখন আমরা আবার মপআপ ক্যাম্পেইন করেছি। ইতোমধ্যে ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এখনো ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জানান, ইউনিসেফের কাছ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ৪৩ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে আগে মজুত থাকা ১৫ লাখ ডোজ মিলিয়ে মোট ৫৮ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। টিকার সম্ভাব্য অপচয় ১০ শতাংশ ধরেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ ব্যবহারযোগ্য থাকবে। ফলে ৩৪ লাখ শিশুর প্রয়োজন মেটানোর পরও টিকা উদ্বৃত্ত থাকবে।
এবার বিশেষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তারা শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা গ্রহণের অবস্থা যাচাই করবেন।
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব, একটি শিশুও যেন বাদ না পড়ে। যারা নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করবে, তাদেরও নজরদারির মধ্যে রাখা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।
সাধারণত নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে হামের সংক্রমণের ধরন পরিবর্তন হওয়ায় এবার ছয় মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে নয় মাসের নিচের শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু দেশে তিন থেকে চার মাস বয়সী শিশুদেরও হাম হতে দেখা যাচ্ছে। এ কারণে রোগের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করে ছয় মাস বয়স থেকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত হলে মূলত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটরসহ সহায়ক চিকিৎসা দিতে হয়।





















অপ্রতিম হত্যার দায় স্বীকার করে ৩ আসামির জবানবন্দি