তুরস্ক-পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল হুথিরা
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেন সংঘাতে সৌদি আরবের পক্ষে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে যুক্ত হলে এই দুই দেশকে কঠোর ও নির্মম জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুথি গোষ্ঠী।
ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কড়া বার্তা দেন হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও ধামার প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে সামরিকভাবে জড়ায়, তবে তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানা হবে এবং উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে।
তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, এই দেশগুলোর সাধারণ মানুষের মনে ইয়েমেনের প্রতি গভীর সহানুভূতি রয়েছে, তাই এই হুঁশিয়ারি মূলত দেশগুলোর সরকারের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। গত ৭ আগস্ট এই তিন দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি করা।
এই চুক্তির আওতায় কোনো একটি অংশীদার দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। হুথিদের হুমকির প্রেক্ষিতে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বর্তমানে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে এবং জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ক রিয়াদের পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরও জানান, সামরিক সহযোগিতার প্রয়োজনে তুরস্ক পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করে রিয়াদকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ইয়েমেন সংঘাতের শুরু থেকেই হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। বিশেষ করে পবিত্র মক্কার কাছাকাছি হামলার খবরের পর থেকে পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের জন্য একটি চিরন্তন ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পবিত্র কাবা বা মহানবীর জন্মস্থানে হামলা হলে কোনো চুক্তির অপেক্ষা না করেই তা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য। এর সঙ্গে সুর মিলিয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালকও জানিয়েছেন যে, হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে প্রস্তুত রয়েছে।
২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বর্তমানে ত্রিপক্ষীয় জোটের হস্তক্ষেপে নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।























আরও ১১টি বোয়িং কেনার পথে বিমান